somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আফসানা মিমি
আমার পরিচয় কবিতাটি পড়েছেন কি?সেখানকার কথাগুলো মিলে যায় আমার পরিচয়ের সাথে।সাধারন মানুষ আর এটাই আমার পরিচয়। https://www.facebook.com/afsana.mimi.1485

কিছু সিক্রেট

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের সমাজে অনেক ধরনের "ওপেন সিক্রেট" অপরাধ হয়। যেগুলা আমরা বই পুস্তক এ অপরাধ বলি। কিন্তু সামনাসামনি কেউ করলে সেটাকে "আরেহ! এটা হয়ে-ই,করবেই" বলে থাকি।
ধীরেধীরে আমাদের এসব ছোটখাটো অপরাধ এর পরিধি বেড়েই চলেছে। বাড়বেনা কেন? আমাদের সমাজ এসব অপরাধ কে খাইয়েদাইয়ে বড় যে করছে!
এক শ্রেনীর পুরুষ সমাজ আছে যারা সকালে এক রুপ আর অন্ধকার টা একটু পরতেই আরেক রুপ ধারন করে। সকাল সকাল তারা এমন ভাবটা নিয়ে চলে যেনো তাদের কাঁধেই নারীর সকল সম্মান ভাড় দেওয়া হয়েছে। তাদের ট্যাগ লাইন "Oe Mohila Hezab koe!" আর অন্ধকার টা একটু পরতেই তাদের চোখ থেকে লালসার আলকাতরা পরতে থাকে। অন্ধকারে কোনো মেয়ে একা হাটা মানেই এখন তাদের কাছে সেটা ভোগ এর বস্তু। তাদের কিছু করার লাগেনা।তাদের চোখেই এতোটা শক্তি যে চোখ দিয়েই সেখানে বিব্রতিকর পরিবেশ তৈরী করতে পারবে।।
এবার আসি বহুল আলোচিত সিগারেট খাওয়া নিয়ে কথাবার্তা। জ্বী আমরা সবাই জানি পাব্লিক প্লেসে স্পকিং দণ্ডনীয় অপরাধ। ওহ আচ্ছা দাড়ান! একটা কথা জুড়ে দেই। পাব্লিক প্লেসে নারীর স্মকিং দণ্ডনীয় অপরাধ। আসলে ক্লাস ৭/৮ এ বইয়ে না পড়লে কখনো জানতেই পারতাম না যে এটাও কোনো অপরাধ।আবার একটু বড় হতে হতে জানলাম যে বইয়ে ভুল আছে। পুরুষ সমাজ এ অপরাধ করলে সেটা অপরাধ না। নারী সমাজ এটা করলে তাকে বলা হবে "বেশ্যা" ( সেক্স ওয়ার্কার দের আমি এখানে ছোট করছিনা)
রাতের পর রাত পুরুষ সমাজ বাহিরে আড্ডা দেবে সেটা হবে ছেলেদের আড্ডা টাইম। আর মেয়েরা ত এটাই জানে না রাত হলে বাহির টা দেখতে কেমন লাগে,আর তারা আড্ডা কি দেবে!
আর দিলেও সে মেয়েটাকে একটা এগ্রিমেন্ট এ সাইন করতে হবে, যেটায় লিখা থাকবে "বংশ খারাপ"।
জানেন! এগুলো সব আমরা মেনে নিয়েছি। সবগুলোই। একটা মেয়ে বড় হয় আশেপাশের সব মানুষ এর এত্ত বড় বড় চোখ নিয়ে।
কারও চোখ খোজে মেয়েটার দোষ,কারও চোখ খোজে মেয়েটা কোন ছেলের সাথে কোথায় দাঁড়িয়ে কথা বললো,কারও চোখ গিলতে চায় আর কারও চোখ তাকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
আমি দিন দিন এসব দেখছি আর অবাক হচ্ছি। আমি নিজেকে অনেক বেশি ভাগ্যবান মনে করি আমার বাবা-মা কে পেয়ে যারা আমাকে কখনো এটা অনুভব করতে দেয়নি যে রাত মেয়েদের জন্য না। "আযান" নামক টাইম লিমিট মাঝে মাঝে দেশের পরিস্থিতির কারনে দিয়েছে তবে কাজের কারনে লেট হলেও বুঝছে ব্যাপারটা।
হ্যা দেশের যে অবস্থা! আর আমরা যে হারে এসব অপরাধ কে বলতে গেলে মেনেই নিয়েছি সে হিসেবে বাবা-মার চিন্তা করাটা সাজে। "আযান" নামক টাইম লিমিটটিও দেওয়াটা আমি অযৌক্তিক মনে করিনা।।কারন সমাজ আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারবেনা। বাবামা সেটা জানেন।আর সে কারনেই এভাবে সমাজের হাতে নিজের সন্তানকে তারা ছেড়ে দিতে পারবেন না এটা স্বভাবিক। তাই বলে শুধু মেয়ে সন্তানকেই না,ছেলে সন্তানকেও বলুন সন্ধ্যার আযান এর আগে ঘরে ফিরতে।আশা করি এভাবে একটু একটু করে সমাজটা ঠিক হবে। চিন্তাধারাও পরিবর্তিন আসবে। এর পরে রাত আর নারীর বিপক্ষে থাকবেনা।
কোনো বাবামা-ই সন্তানের বিপক্ষে না।সন্তানের কোন দোষ হলেও তারাই সেটাকে কভার দেওয়ার চেষ্টা করবেন।। বিপক্ষে হলো সমাজ আর সমাজব্যবস্থা
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:১৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×