somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রকৃতির মাঝে প্রতিবিপ্লব

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পরন্ত বিকেল।নদীর দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি।ওপাড়ে কালো কালো মেঘ।মৃদু হাওয়ায় ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ ভাঙ্গে। নদীটা উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে গেছে।আঁকা-বাঁকা বয়ে চলা নদীর বিরান বাঁকে তাকালে শরীলটা শিউরে ওঠার মত। ভাটির স্রোতের তোরে মনও চমকে যায়।আর সেই টানে পাল তোলা নাও গুলো শাঁশাঁ করে ছুটছে।পালে আর হালে বাতাস সমানে সমান। মাঝি-মাল্লার কণ্ঠেও গান।সকলেই আপন মনে আপন ভূবনে। আমিও আপন মনে প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যটুকু উপভোগ করতেছিলাম। দেখতে দেখতে তীব্র স্রোতের মাঝে আউলা বাতাসে ছন্দপতন তরঙ্গ দেখে আমার ধ্যান উতরে যায়। মনে হলো এঅঞ্চলের নদীগুলো তো সাগর পানেই চলে।এটা নিত্য দিনের খেলা। নতুন কিছু নয়।সাগরও বেশি দূরে নয়। স্রোতের টান দেখলেই তা অনুমান করা যায়। বুঝতে কষ্ট হয় না সমুদ্রগর্ভে টান পড়েছে। তবে একটু পরেই ফিরে আসবে সবটুকু। সাগর তো ! সেতো আর ইতর রাজনীতিবিদের মতো কেউ নয়। শুধুই খাই খাই করে নিজের উদর ভরে।কিছুই অবশিষ্ট রাখে না। জলাধিপতির কাছ থেকে তা কি আর হয়। একটু পরেই যা ফিরিয়ে দিবে তাতে মাঠ-ঘাট থৈ থৈ টইটুম্বুর হবে। কুলকুল রবে উছলে উঠবে সব জাগবে নতুন প্রাণ। সে কি এক অনুভুতির শিহরণ তুলবে মনে-প্রাণে শ্যামল-সবুজে।আমি নতুন করে ভাবতে শুরু করলাম আমাদের দেশে এই জলাধিপতির মত একজন রাজনীতিক কবে আসবে। সংস্কৃত ভাষায় একটি শ্লোক আছে। এতে বলা হয়েছে- মানুষের মধ্যে নরসুন্দর, পাখির মধ্যে কাক, পশুর মধ্যে খেকশিয়াল এই তিন শ্রেণী নিজেদেরকে বুদ্ধিমত্তায় দৈত্য মনে করে। মূলত জাত-পাত-পদ আর চরিত্রের বিচারে তিনটিই অত্যন্ত নিচ।বাংলাদেশের রাজনীতিক, সাংবাদিক, আইনজীবী-সুশীল সমাজও তাই। যাইহোক দার্শনিক হিরাক্লিটাস বলেছিলেন একই নদীতে দু’বার অবগাহন করা যায় না। তার যুক্তি হচ্ছে সবকিছুই পরিবর্তনশীল। অর্থাৎ নদীর স্রোত গতিশীল- থেমে নেই। আর দু’মুহুরিকালে গতিময় স্রোত থামলেও সবকিছুই নিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে।আমিও জাগতিক সবকিছুর মাঝে সেই পরিবর্তন দেখতে পেলাম।কিন্তু নিচতার কোন পরিবর্তন নেই। হিরাক্লিটাস সম্ভত এই দিকটা ভাবেন নাই।

প্রকৃতির দিকে তাকালে আমরা নানা মনমুগ্ধকর বিষয়ে অবলোকন করে থাকি। আমি নদীর স্রোত-তরঙ্গ আর আউলা বাতাসের মাঝে জীবনের উপজীব্য দেখতে পেলাম। লক্ষ্য করলাম ভরা নদীর থৈথৈ- এ একটা সুরেলা রাগাবেস আছে। মনে হয় পানির থৈথৈ ভৈরবি সুর তুলেছে। জারি সারি ভাটিয়ালি রাগে। মাঝি-মাল্লা, মজুর-কৃষক সকলের মন-প্রাণের সুর।কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে নিচতার মাঝে কোন রাগ-তাল সুর নেই।বাংলাদেশের রাজনীতিকদের এটি আর একটি উদাহরণ।বাংলাদেশের রাজনীতিকদের এই নিচতা দেখে শুয়োরের পালের কথা মনে পড়ে। নদীর পাড়ের রাস্তা দিয়ে বড় বড় শুয়োরের পাল যেতো। দেখতাম রাখাল বড় একটি বাঁশের লাঠি হাতে শুয়োরের পাল নিয়ে ছুটছে।কিছুক্ষণ পরপর রাখাল পালেরগোঁদা শুয়োরটার পাঁজরের ওপর জোড়া কষে ঘাই মেরে লাইন ঠিক রাখতো। আর ওই লাঠিখানাই হচ্ছে শুয়োর পালের শৃঙ্খলার নিশানা। তাই রাখাল তার লাঠিখানা পালের সামনে উঁচিয়ে ধরে হাঁটতো। কারণ লাঠি আর তার ঘাই হচ্ছে শুয়োরের শৃঙ্খলা।রাখাল ক্লান্ত হলে কিছুক্ষণ বিরতির জন্য ওই লাঠিখানা সামনে দাঁড় করিয়ে রাখলে শুয়োরগুলো আগবাড়ায় না।কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে শুয়োরগুলো ম্যাচাকার শুরু করে দেয়। সাথে সাথে সপাঙ সপাঙ ঘাই। অমনি চুপ।কারণ ওদের মধ্যে সহিষ্ঞুতা নেই। সহপরমত বোঝে না। নিজের সুবিধা মতো চলাটাই ওরা স্বাচ্ছন্দবোধ করে। পাশে কিংবা সামনে যেটা থাকে তার পিছনধারে দাঁত বসিয়ে দেয়াটা ওদের অভ্যাস। যেমনটা আমাদের দেশের রাজনীতিকদের বদ্ধমূল জন্মগত অভ্যাস। এটাই হচ্ছে ওদের গণতন্ত্র।

আমার বয়স ষোল কি সতের। আমি নদী পাড়ে বসে আছি্। ভাবছি কীভাবে ভরা নদী শুকিয়ে যায়। তারুণ্য হারায়। ভরা যৌবন পলকে নিঃশেষ হয়। কিন্তু প্রকৃতি যেন তার নির্মিৎসা লীলায় সদা অপার হয়ে থাকে। দেখতে দেখতে ওপাড়ের কালো মেঘ আরো কালো হলো। বাতাস থেমে গেল। নিস্তব্ধতা নেমে এলো। হঠাৎ ঘুর্ণিবায়ু তছনছ করে চলে গেল। নদী পাড়ে সন্ধাতারা ফুলগুলির চিহ্নমাত্র নেই। একটু আগে যে ছন্দ ছিল তা আর নেই। কিন্তু আমি আজো এই দু’টি দৃশ্য ভুলতে পারছি না। কিন্তু কেন ভুলতে পারছি না সে জবাব দিয়েছেন দার্শনিক ডেকার্ড।তিনি বলেছেন মানুষের মন একটা পরিষ্কার সেলেটের মত। তার ভাষায় টেবুলারেজা বা সেলেটে লিখতে গেলে মাঝে মাঝে যেমন কিছু কড়া দাগ পরে যায় তা আর ওঠে না। তেমনি চলার পথে মাঝে মাঝে মানুষের মনেও কিছুকিছু আঁচড় কাটে তা আর মুছে যায় না। আমার মনেও চলার পথে কিছু দাগ কেটেছে তা হয়তো আর কোনদিনই উঠবে না। আর এই অভিজ্ঞতা বোধহয় বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৩:৩৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×