somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্ত স্কুল

২৬ শে জুলাই, ২০১৭ দুপুর ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্যস্ত রাস্তার পাশ দিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। হাতে অামার প্রিয় একজন বন্ধুর দেয়া একটা অাইসক্রীম। বিশেষ বন্ধুর দেয়া বলে কথা । রাস্তা-ঘাটে খাওয়া যাবে না। বাসায় গিয়ে ধীরেসুস্থে খাওয়া হবে। যে রাস্তা দিয়ে হাঁঠছি তার ডানপাশে একটি সরকারি মাদ্রাসা। মাদ্রাসার হালচিত্র দেখে যে কেউ বলে দিবে যে একযুগ ধরে সরকারি কোনো বরাদ্ধ পৌছেনি। গাছপালা বেষ্টিত রাস্তাগুলো অনেকটা অরণ্যের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া পথের মত । ভেতরটা বেশ নিরিবিলি। হঠাৎ চোখে পড়লো এ অরণ্যের মধ্যে গাছতলায় চট বিছিয়ে কিছু ছেলেমেয়েরা বসে অাছে। তাদের সামনে একজন টগবগে তরুণ ব্ল্যাকবোর্ডে কি যেন লিখছে।
.


.
অামি উৎসুক দৃষ্টিতে ভেতরে ঢুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম। একজন উৎসুক অাগন্তুক পাশে এসে মুগ্ধ হয়ে দেখছে তাতে তাদের কোনো ভাবনা নেই। এরকম অাগন্তুক তরুণ ছেলেটা ব্ল্যাকবোর্ডে লিখা মাত্র সবাই চিৎকার করে বলছে অ... অা.... ই...
.
.
ব্ল্যাকবোর্ডের ওপরে লিখা "মুক্ত স্কুল " দেখে বুঝতে পারলাম ওঠা অাসলে পথ শিশুদের একটি স্কুল। যিনি পড়াচ্ছেন তিনি একজন শিক্ষক। সামনে এগিয়ে করমর্দন করে পরিচিত হলাম। শিক্ষকের নাম অাবুল কালাম অাজাদ। পলিটেকনিক কলেজের সিভিল ইন্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের ছাত্র। থাকেন শাবির শাহপরাণ হলে। তিনিই এ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা। সুবিধা বঞ্চিত, নিম্নভিত্ত অশিক্ষিতরা এ স্কুলে ফ্রি পড়াশুনা করতে পারে। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত পথ শিশুদের চকলেট ও খাবার দিয়ে এখানে নিয়ে এসে শিক্ষা দেয়া হয়। প্রথমত ছেলে-মেয়েদের খোঁজ নিয়ে অানতে হত। এখন তারা নিজেরাই পড়তে অাসে।
.


মুগ্ধতার সাথে চেয়ে রইলাম। ছেলে- মেয়েদের পোশাকে নিম্নভিত্তের ছাপ স্পস্ট। দু একজনকে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে ভিক্ষা করতে দেখা যায়। সেখান হতে শিক্ষার মত একটা অদৃশ্য বিষয়ের জন্যে এখানে অানতে নিশ্চই অনেক বেগ পেতে হয়েছে। পড়ালেখা নিয়ে
তাদের ব্যাপক উৎসাহ দেখার মত।
.
.
বেতনবিহীন এরকম স্বেচ্ছায় সমাজের শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াবার মানষিকতা দেখে অামি সত্যিই মুগ্ধ না হয়ে পারলাম না। ভাইটাকে স্যালুট জানাতে ইচ্ছে করে। কি দিব কি দিব ভাবতে ভাবতে মনের অজান্তে অাইসক্রিমটা দিয়ে বললাম, ভাই ! দেয়ার
মত এখন হাতে কিছু নেই। অামার এ অাইসক্রিমটা গ্রহণ করলে কৃতার্থ হতাম। হাঁসিমাখা মুখে হয়তো মনের অনিচ্ছায় তিনি গ্রহণ না করে পারলেন না।
.
.
অাজকের এ প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় অামরা সকলেই নিজেকে নিয়ে চরমভাবে ব্যস্ত। সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা জাতিকে নিয়ে ভাববার সময় কোথায় ? সমাজে প্রতিনিয়ত হাজারো শিশু শিক্ষা গ্রহণ হতে বঞ্চিত হচ্ছে। ছোটবেলা ভিখারি বৃত্তি কিংবা মা বাবার কাছে কোনোভাবেই কাটিয়ে দেয়। কিন্তু বয়সের সাথে সাথে যখন বাইরে উপার্জন করতে এসে বুঝতে পারে এ সমাজে অশিক্ষিতের মূল্য একেবারে ক্ষীণ । তখনই সে উপার্জনের তাগিদে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
.
একজন কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যখন ক্যারিয়ার নিয়ে চরমভাবে ব্যস্ত থাকে ; তখন একজন ছাত্র হয়েও শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াবার মত মহৎ কাজ দেখে মুগ্ধ না হয়ে কে বা থাকতে পারে।
.
.


অাজাদ ভাইয়ের মত যদি অামরা সকলেই স্ব-স্থান হতে ওভাবে পথ শিশুদের পাশে দাঁড়াতে পারতাম ; তবে হয়তো এ দেশটা
নিরক্ষরমুক্ত হতে খুব বেশিদিন লাগতো না।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১৭ দুপুর ২:২৫
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা: আমরা সবাই ইনসাফের লোক—যতক্ষণ না নিজের স্বার্থ ছাড়ার প্রশ্ন আসে!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

একজন মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাতর কণ্ঠে বলছেন, একটু বসতে দেবেন? শরীরটা ভালো লাগছে না। আশপাশে মানুষ আছে, আসন আছে, চলমান ট্রেন আছে—শুধু তাঁর জন্য একটু জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×