আমরা,মানুষেরা খুবই স্বার্থপর এক প্রাণী।আমরা আমাদের এসব স্বার্থপরতা কে অনেকসময় ভদ্রতা বলে থাকি।আমি আমার কথা বলছিনা,বলছি ভদ্ররূপ ধারণকারী নর-নারীদের যারা অন্যের প্রতি অন্যায় হলে তার প্রতিবাদে একটুও এগিয়ে আসেননা বরং বলেন প্রতিবাদ করা অসভ্যতা।তাদের সন্তানরাও এই জঘন্য নিয়ম অর্থাৎ সমাজের তথাকথিত আর্দশ মেনে চলেন।
আজকের বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়,নারীসমাজের ওপর অত্যাচার।এর জন্যে মূলত নারীরা দ্বায়ী,চরিত্রহীন সেই নারীরা যারা অন্য নারীদের প্রতি অন্যায় হতে দেখে প্রতিবাদ করেনা বরং উৎসাহ দেয়।আমাদের পূর্ব ও বর্তমান সমাজ বিবেচনা করলে এটা স্পষ্ট হয়।মেয়েদের ছোট থেকেই প্রাপ্য অধিকার না দেয়া,ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহ;এগুলো যেন আজ সমাজের আবশ্যকীয় নীতিতে পরিণত হয়েছে।বিয়ের পর স্বামীর পা ধরে বসে থাকাই যেন নারীর ধর্ম,এক্ষেত্রে মেয়ের স্বামীরা যতটা না বাধ্য করে বাধ্য করে নিম্ন মানসিকতার মা ও শাশুড়িরা।
কেন এই দুর্দশা?উত্তর একটিই,জঘন্য সমাজ ব্যবস্থা যা শুধু নারীদের অপদস্থ করে।
এবার আসা যাক বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জঘন্য ও সাধারণ(যেহেতু এটি নিয়মিত হচ্ছে তাই বিদ্রুপ করে সাধারণ অপরাধ লিখেছি) অপরাধ,ধর্ষণ।আমাদের জানা-অজানায় এই অপরাধ বেড়েই চলেছে।ধর্ষণের জন্য শুধুমাত্র দ্বায়ী পুরুষসমাজের হীনতা এবং বর্বরতা।কিন্তু সমাজের কিছু জঘন্য জানোয়ারগুলো উচুঁ গলায় বলে যায় নারীরা এর জন্য দ্বায়ী।এই জানোয়ার দের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ই আছে।কিছু মাওলানা,আলেমরূপী জানোয়ারগুলো উচুঁ গলায় ইসলাম প্রচারের নামে এসব বলে বেড়ায়।এসবের মাধ্যমে ধর্ষণের প্রতি পুরুষসমাজের আগ্রহকে তীব্র করা হয়।ইসলাম শান্তির ধর্ম,মুমীন কারো উপর জুলুম করেনা।নিয়ন্ত্রণ শেখায় ইসলাম।যদি কোন ব্যক্তি এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে বলে।আমি বলবো:আপনার মা,বোন,বউ কে কেউ ধর্ষণ করলে কি আপনার বক্তব্য একই থাকবে?অবশ্যই না।
সবচেয়ে ঘৃণা হয় সেই নারীদের ওপর যারা ধর্ষণ কে সমর্থন করে।তারা এর মাধ্যমে পরিচয় দেয় যে তারা কতটা চরিত্রহীনা।সমাজে বিভিন্ন ভাবে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।Facebook এ অনেক ভাই-বোনেরা প্রতিনিয়ত সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।এতকিছুর মাঝেও নারীরা আজও অপদস্থ এবং কিছু নারী লজ্জাহীনতার পরিচয় দেয়।গতকাল একটি Post দেখলাম যাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ্য করা যে,ধর্ষণের জন্য নারীরাই দ্বায়ী এবং Post টিতে Tag করাও হয়েছে কিছু মেয়েকে।আমি অবাক হলাম দেখে যে প্রতিটি মেয়েই এড়িয়ে গেল Post টি।আমি এর বিরুদ্ধে একটি যথার্থ মন্তব্য করলাম,কয়েকটা মেয়ে আমার মন্তব্যটি Like করলো।তবে এরপরও একটি মেয়েও বিরোধীতা করলোনা।তারমানে তারা ধর্ষিত হতে উৎসাহী।আমাকে Tag করা হয়নি,তবুও আমি এড়িয়ে যেতে পারেনি এই অন্যায় উৎসাহী Post টি।
লজ্জাহীন এসব নারী।প্রতিনিয়ত ঘরে,কর্মস্থলে,শিক্ষাঙ্গনে,পথে নারীদের ধর্ষিত হতে হচ্ছে।যেই জানোয়াররূপী নারীরা এই অপরাধে নারীদের দোষারোপ করে,পুরুষদের উৎসাহ প্রদান করে তাদের গর্ভের সন্তানই এসব জঘন্য অপরাধ করে।
নারী-পুরুষের ওপরে আমরা মানুষ,শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।মানুষ কিভাবে এত বিবেকহীন হয়?কিভাবে অন্য মানুষের ওপর অত্যাচার করে?উত্তর একটিই,নরপশুত্য।
যুগের পর যুগ এসব হয়েছে,হয়ে যাচ্ছে।যদি কোন মা তার ছেলে সন্তানকে মেয়েদের সম্মান করতে শেখায়,ধর্ষণ সম্পর্কে বুঝায়।তাহলে কিি কোন পুরুষ ধর্ষনে লিপ্ত হবে?আপনি শুরু করুন,অবশ্যই সমাজ পাল্টাবে।একজন নারীই প্রচেষ্টাই পারে অপর নাারীর সম্মান রক্ষা করতে।
আমি একজন পুরুষ,তবুও নারী জাগরণের কথা বলছি।আমাকে পাগল বলতে পারেন।আমি অবশ্যই পাগল,আমি জঘন্য সমাজের মানুষ হতে চাইনা।
আমি এমন সমাজ দেখতে চাই,যেখানে প্রতিটি নারী বলবে সে গর্বিত কারণ সে একজন নারী।
যারা এবং যে সমাজ এই নির্মমতা,পশুত্য কে সর্মথন করে লজ্জাহীন সে মানুষ,লজ্জাহীন সে সমাজ।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



