somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন যখন বাস্তবতা আর কল্পনাকেও হার মানায়!

১৭ ই মে, ২০১৬ রাত ১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"বরফ গলে পানি হবে,পানি বদলে বরফ হবে,
দিনের পর রাত আসবে,আর তার পরেরটা দিন....

কিন্তু বাস্তব সত্য হলো তোমার পরে তুমিটা আসবে না,দিনশেষে তোমাকে তুমি হয়েই থাকতে হবে।

ছোটবেলার কথাটা কি মনে পড়ে???

খুব ভোরে যখন ঘুম থেকে উঠে আমি হুজুরের কাছে পড়তে যেতাম তখন মনে হতো সবচাইতে অসুখী আমি,,কারন সবাই ঘুমোচ্ছে আর আমি সাত সকালে ঘুম থেকে উঠতে হতো! আমি সুখী হওয়াটাকে অসুখী হওয়া বুঝেছি।

ক্লাসের সবচাইতে সুন্দরী মেয়েটাকে যখন দেখেছিলাম তখন কথা বলতে গিয়েও বলতে পারিনি! ক্লাস টেনে পড়ার সময় আমি আইফোনে কি বুঝতেও পারিনি।

রামিসা যখন আমাকে রেখে চলে যায় তখন ঝিম মেরে বসেছিলাম, কিছু বলতেও পারিনি.....!

আমি তখনও কিছু বলতে পারিনি যখন রামিসার বিয়েতে না যাওয়ার কারনে লুল বলে অপমানিত হয়েছি।আমি যেতে পারতাম কারন যদি আমার কাছে যথেষ্ট পরিমান গাড়ী ভাড়া থাকতো.....

আমি না খেয়ে থেকেছি দুবেলা, কারন মেসের টাকাটা দিতে গিয়ে পকেটে কোন টাকা অবশিষ্ট থাকেনি! আজকের আমিটা আমি থাকতাম না ভাই......

শুনেন আমার ঘটনা.....

সবকিছুর পর আমি ডিসাইড করি আমি অাত্নহত্মা কতবো। তখনও ভোরের ট্রেনটা ছেড়ে যায়নি,আমি রুমে বসে সব প্রস্তুতি নিলাম ট্রেনের নিচে পড়ে যাওয়ার....!
হঠাত মাথায় বজ্রপাত হয়ে গেলো, আমার চারপাশটা আলোকিত হয়ে গেলো ডিপ্রেশনে চলে গিয়ে সবকিছুর কথা শুনতে পারলাম আমি......

আমার মাথার উপরের ফ্যান আমাকে বললো মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য,

জানালা আমাকে বললো চারদিকটা ভালো করে দেখার জন্য, একটা জানালা ছিলো না আমার রুমে, তিনটা জানালা ছিলো.....

ঘড়ি আমাকে বললো সময় তোমার জন্য বসে নেই।দরজা বলে উঠলো আসো আমার দিকে,আমার দিকে বাইরের আলোটা দেখার জায়গা আছে।

আমি পাগলের মতো করছিলাম, আমি উঠে দাড়ালাম বাইরে যাবো বলে।আল্লাহু আকবার বলে ফজরের আজান শুরু হলো.....। মেঝে আমাকে বলে উঠলো, তোমার মালিকের সেজদায় পড়ো।

বদলে যাওয়াটা শুরু তখন থেকেই, রাতের ট্রেন আজও আসে, দূরে ছুটে যায় পেরিয়ে তার সুখের শহর!

দূর থেকে দূরে আমাকে যেতে হবে এই ভাবনাটা আমার মাথায় নেশা হয়ে বসে। আজ আমি আপনাদের দোয়ায় আমি এই জায়গায়। আমিটা হলো শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট করা নাহিয়ান.....আমি এখন York University তে লেকচারার হিসেবে আছি। যে Varsity তে পড়ার জন্য কোটিজনের মাঝ থেকে হাজারজন চান্স পায়!

আমার দেখা পাওয়ার জন্য অনেক গুনী লোকেরা শিডিউল বুক করে তিন মাস আগে থেকে!

সপ্নটাকে আমি পানি হয়ে যেতে দেইনি, বরফের মতো শক্ত করে নিয়েছি।আমাকে এখন কাউকে ভালোবাসতে হয় না, আমি আমাকেই ভালোবাসি,এবং তার জন্য সবাই আমাকেই ভালভাসবে।

লিখাটা পড়ে কিছুটা হলেও ভালো লাগলো তাই না?যদি একটু হলেও অনুপ্রেরণা পাও আর নাহিয়ান এর কথাটা মনে করো একবার হলেও তাহলে মনে করবা তোমার ভিতরে এখন তুমিটাই আছো........

কাল্পনিক নাহিয়ানের এই সফলতার গল্পটা শুনতে কতটা ভালো লাগলো একবার চিন্তা করো। তাহলে চোখ বন্ধ করে একবার ভাবো তোমার সত্তিকারের সফলতার গল্পটা কত্ত সুন্দর হবে।

এই লিখাটা পড়ার ধৈর্যটা যখন তোমার আছে,,তাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়া ক্ষমতাটাও তোমার আছে।

ক্ষমতা মানে মানুষকে কন্ট্রোল করা নয়.....মানুষের কাধে হাত রেখে আমি আছি এটা বলা- আর তুমিই সফল হবে, মন দিয়ে চাও,,তুমিই পারবে।

সেদিন রাতের ট্রেনটা মিস হয়ে গেলেও কোটি টাকার গাড়িটা তোমার বাড়ির গেটেই দাড় করা থাকবে......আর তোমার সুখী পরিবারটা রেডী হয়ে বসে থাকবে তোমার জন্য.....একসাথে মেলা দেখতে যাবে বলে।

© আহমদ আতিকুজ্জামান।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১৬ রাত ১:৫৫
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩

নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী

নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব  এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু  ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল,  মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×