
মেসিকে ট্রল করার যোগ্যতা আমার, আপনার বা আমাদের কারোর ই নেই। নিঃসন্দেহে এ সময়ের একজন গ্রেট ফুটবলার লিও ।
ক্লাব ফুটবলের প্রায় সব ট্রফিই জিতা হয়ে গেছে মেসির। কিন্তু জাতীয় দলে কেন যেন মেসি বরাবরই নিষ্প্রভ! যদিও আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার নাম এখন লিও মেসি, কিন্তু পুর্বসূরী ম্যারাডোনার মতো একটা বিশ্বকাপ ট্রফি উচিয়ে ধরতে পারলেন না তিনি। পারলেন না কোপা আমেরিকা বা কনফেডারেশন কাপের শিরোপা জয় করতেও।জাতীয় ক্যারিয়ারের ঝুলিতে আছে মাত্র একটি অলিম্পিক গোল্ড মেডেল!
জাতীয় দলে অভিষেক ২০০৫ সালে হাংগেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। জাতীয় দলে অভিষেক হওয়ার আগে মেসি ছিলো এক বিস্ময় বালকের নাম। সেই বিস্ময় বালকই অভিষেক ম্যাচের মাত্র ৪০ সেকেন্ডের মাথায় দেখলেন লাল কার্ড! মুহুর্তটি মেসি ফ্যানদের জন্যে ছিলো মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো।
আজ জাতীয় দলে অবসরের ঘোষনা দিলেন লিও মেসি। যদি অবসর ভেঙ্গে আবার না ফিরেন তাহলে আর দেখা যাবেনা তাকে। দীর্ঘ জাতীয় ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাচ্ছিলেন লিও মেসি। টানা ৩ টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌছে দিয়েছিলেন দলকে। কিন্তু বারবার একই হতাশা। তিনবার ঈ খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে। এবার শুধু খালি হাতেই ফিরলেন না লিও মেসি, ঘোষনা দিলেন অবসরেরও!
একজন গ্রেট ফুটবলার হয়েও জাতীয় দলের ঝুলিতে কোনো ট্রফি নেই মেসির.. এটা শুনতেও খারাপ লাগে। রাইভাল দলের ফ্যান হিসেবে নয়, একজন ফুটবল ফ্যান হিসেবে বলছি- মেসি এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে যা করেছে তা অনেক বেশি কিছু! ফুটবল ইতিহাস ঘেটে দেখুন, এমন অনেক গ্রেট গ্রেট ফুটবলার ছিলেন যারা জাতীয় দলের হয়ে কিছুই জিততে পারেন নি। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড লেজেন্ড রায়ান গিগস, লাইবেরিয়ার জর্জ উইয়াহ, আয়ারল্যান্ড এর জর্জ বেস্ট, ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম, পর্তুগালের লুই ফিগো, ডেনমার্কের পিটার স্ম্যাইকেল, ইউক্রেনের আন্দ্রেয়া শেভাচেঙ্কো..... এরকম শত শত উদাহারন আছে ফুটবলে।
আক্ষেপ একটাই- ৭-৮ জন ওয়ার্ল্ড ক্লাস প্লেয়ার টিমমেট থাকা সত্তেও মেসি ট্রফিলেস পুরো ক্যারিয়ার! বেড লাক লিও। ফুটবল ফ্যানরা চিরদিন তুমাকে ক্লাব লিজেন্ড হিসেবে মনে রাখবে। ট্রফি দেখে নয়, তুমার খেলা দেখে সাপোর্ট করে যাবো।
© আহমদ আতিকুজ্জামান।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১৬ রাত ৩:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


