somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঁদতে আসিনি; ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি...

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গুলি চলেছিল ঢাকায়, কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে প্রথম কবিতাটি লেখা হয়েছিল চট্টগ্রামে। লিখেছিলেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী। তিনি। ছিলেন চট্টগ্রামের সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক। কবিতার নাম ছিল ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’।

২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি যেন সফল হয়, তার জন্য চট্টগ্রামের নেতা–কর্মীরা কারখানায়, গ্রামেগঞ্জে প্রচার চালিয়েছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি মাহবুব উল আলম চৌধুরী অসুস্থ হয়ে পড়েন। জলবসন্ত হয় তাঁর। ঢাকায় গুলি হয়েছে, এ খবর যখন শোনেন তিনি, তখন তাঁর ১০৪ ডিগ্রি জ্বর। এ অবস্থায় নিজ হাতে কিছু লেখা সম্ভব নয়। তিনি তাঁর পরিচর্যাকারী ননী ধরকে বলেন, ‘আমি তো লিখতে পারব না, আমি বলি, তুমি খাতা–কলম নাও।’ ননী ধর লিখে নিলেন কবিতাটি। সেদিন বিকেলে খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস এলেন তাঁকে দেখতে। কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তিনি এসেছিলেন চট্টগ্রামে। অসুস্থ মাহবুব কবিতাটি পড়ে শোনালেন তাঁকে। ইলিয়াস বললেন, এখনই কবিতাটি ছাপতে হবে। আন্দরকিল্লার কোহিনুর প্রেস থেকে ছাপা হলো কবিতা। একুশের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত সভায় কবিতাটি আবৃত্তি করলেন চট্টগ্রামের তৎকালীন তরুণ প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী চৌধুরী হারুনুর রশীদ।

সরকার নিষিদ্ধ করেছিল কবিতাটি। মাহবুব উল আলমের নামে হুলিয়া জারি করেছিল। বোরকা পরে বাড়ি থেকে সরে পড়লেন কবি। আত্মগোপনে থাকলেন ৯ মাস। কবিতাটি লুকিয়ে রাখা ছিল তাঁর বাড়িতে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বাড়ি জ্বালিয়ে দিলে কবিতাটিও পুড়ে গেল। আশির দশকে দৈনিক বাংলায় মাহবুব উল আলম চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। সেখানে কবি বলেছিলেন কবিতাটি তাঁর কাছে নেই। পুলিশ আর্কাইভেও তিনি খোঁজ করেছিলেন। কারও কাছে কবিতাটি আছে কি না, সেটা টেলিভিশনের মাধ্যমেই তিনি আবেদন করে রাখেন। নারী কণ্ঠের একটি ফোন পেলেন এরপর। মঞ্জুরা বেগম নামে সেই নারী বললেন, তাঁর কাছে কবিতাটি আছে। ভাষা আন্দোলনের সময় মঞ্জুরা ছিলেন দশম শ্রেণির ছাত্রী। তাঁর ভাই মীর আশরাফুল হক ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। এস এম হল তল্লাশি চালাতে গিয়ে তিনি কবিতাটি উদ্ধার করেছিলেন। মঞ্জুরাকে তিনি বলেছিলেন, কবিতাটি টুকে রেখে মূল কপি পুড়িয়ে ফেলতে। কবিতাটি কবির কাছে নিয়ে এসেছিলেন মীর আশরাফুল হকের ছেলে মফিদুল হক (সাহিত্যপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী)।

সেই কবিতাটিকে কবি পূর্ণাঙ্গ কবিতা হিসেবে ভাবতে পারেননি। এই ঘটনার কয়েক বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক জহুরুল হক পূর্ণাঙ্গ কবিতাটি উদ্ধার করেন। প্রসঙ্গ: একুশের প্রথম কবিতা নামে একটি বইও লেখেন তিনি। কবিতাটি মাহবুব উল আলমের সূর্যাস্তের রক্তরাগ কাব্যগ্রন্থে পরে প্রকাশিত হয়।

কবিতাটি হাতের লেখায় ছিল ১৭ পৃষ্ঠা। তার প্রথম কয়েকটি পঙ্‌ক্তি এ রকম:

ওরা চল্লিশজন কিংবা আরও বেশি/ যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে—/ রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায়/ ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য—বাংলার জন্য।’

সূত্র: একুশের কবিতা প্রসঙ্গে কবির কথা: মাহবুব উল আলম চৌধুরী, প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারি, ২০০৬।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×