
এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা ৫০০ টাকা কেজি। শীতের আগে অর্থ্যাৎ আশ্বিন মাসে আমড়া, কদবেল, জাম্বুরা, জলপাই পাওয়া যায়। এ বছর আমি প্রচুর আমড়া কিনেছি। বড় বড় আমড়া। সুরভি আমড়া পছন্দ করে। ফারাজা আমড়া খায় না। আমি নিজেও খাই না। আমড়া খেলেই আমার দাঁত টক হয়ে যায়। আমি নিজে আমড়া ছিলে বাসার সবাইকে দেই। তখন তারা আগ্রহ নিয়ে খায়। বড় কন্যা পরীকে দেই। সে খায়। ছিলে দিলে খায়। ডাবের দাম অনেক বেড়েছে। ছোট ডাব ১৮০ আর বড় ডাব ২২০ টাকা। আমার পরিচিত একজন ডাক্তার আছে। মিরপুরের 'আলোক' হাসপাতালে বসেন। উনাকে বললাম, ডাবের দাম বেশি কি করবো? ডাক্তার বললেন, ওরস্যালাইন আর লেবু খান। ডাবের চেয়ে বেশি ভালো হবে। ডাবের চেয়ে লেবুতে বেশি উপকার।
এবছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন-
মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। পিল্লাই যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। নোবেল পুরস্কার ঘোষনার আগ পর্যন্ত ট্রাম্প খুব অস্থির হয়ে ছিলেন। তার ধারনা ছিলো সে নোবেল পাবে। যাইহোক, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি অ্যান কার্সন। সত্যি কথা বলি- এই কবির কোনো কবিতা আমি পড়িনি। এমনকি পত্রপত্রিকায় তার কবিতা চোখে পড়েনি। এখন আমাদের দেশের পত্রিকা গুলো শুক্রবার সাময়িকীতে তাকে নিয়ে লিখবে। বড় বড় আর্টিকেল লিখিবে। এটাই নিয়ম। ভারতের অভিনেতা নানা পাটেকা মারা গেছেন। নানা অনেক অভিনেতা থেকে আলাদা। সারা জীবন সহজ সরল জীবনযাপন করেছেন। কোনো কিছু নিয়ে বিলাসিতা করেননি। তার স্ত্রীর সাথে ৩৫ বছর আলাদা থেকেছেন। তবু স্ত্রীকে তালাক দেননি। লোকটার অভিনয় ভালো। সিরিয়াস কিংবা কমেডি দুটাতেই দারুন অভিনয় করেছেন। আমি তার মুভি গুলো দেখেছি। ৭৫ বছর বয়সে মারা গেলেন। কাজ না থাকলে গ্রামে থাকতেন। গ্রামীন জীবনযাপন তার পছন্দ। নিজের টাকা বিলিয়ে দিয়েছেন অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের জন্য।
কিছু কিছু জিনিস বাংলাদেশে একেবারেই সম্ভব নয়।
যেমন ফুটপাত দখলমুক্ত করা। সিটি করপোরেশন খুব চেষ্টা করছে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে। তারা বুলডোজার দিয়ে ফুটপাতের দোকান ভেঙ্গে দিচ্ছে। কিন্তু পরের দিন আবার দোকান বসছে। ফুটপাত থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা উঠে। তবে ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা গেলে খুবই ভালো হবে। এমনকি তখন রাস্তার জ্যামও কমবে। ঢাকা শহরের কোনো ফুটপাত দিয়ে শান্তিতে হাঁটা যায় না। সরকারি হাসপাতাল থেকে দালাল দূর করা সম্ভব নয়। হাসপাতালের দালালদের দাপট দেখলে হা করে তাকিয়ে থাকতে হয়। ঢাকা শহরে আর সম্ভব নয় সিএনজি মিটারে যাওয়া। সিএনজি চালকেরা মিটারে যাবে না। নো নেভার। সরকার পতন করানো সম্ভব কিন্তু ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব নয়, সিএনজি মিটারে যাওয়া সম্ভব নয়, সরকারি হাসপাতালে দালাল দূর করা সম্ভব নয়। এছাড়া পুরো বাংলাদেশ চলছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এই সিন্ডিকেট ভাঙ্গা সম্ভব নয়।
অনেক বছর আগের কথা।
তখন আমি লেখাপড়া করি। আমাদের সাথে একটা মেয়ে পড়তো। মেয়েটার নাম লাবন্য। একদম যেন রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতার লাবন্য। লাবন্য'র সাথে সকলেই ভাব করতে চেষ্টা করতো। লাবন্য কাউকে পাত্তা দিতো না। লাবন্য আমাকে পাত্তা দিতো। আমার জন্য তার যথেষ্ট টান ছিল। লাবন্য পড়ালেখায় ভালো ছিলো। লাবন্য'র সাথে আমার সম্পর্কটা সহজ সরল হয়ে যায়। একদিন বিকেলে লাবন্যর বাসায় যাওয়ার কথা। সেদিন সকাল থেকেই আকাশের অবস্থা ভালো না। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। আমি ভাবলাম বিকেলে আরো বেশি বৃষ্টি হতে পারে। তাই দুপুরে গিয়েই লাবন্যর সাথে দেখা করে আসি। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই লাবন্যর বাসায় গেলাম। ভিজে গেছি। লাবন্য আমায় দেখেই বলল, আমি জানতাম তুমি দুপুরেই আসিবে। এজন্য শাড়ি পড়ে ব্যলকনিতে অপেক্ষা করছি। লাবন্যর আশেপাশে থাকলেই আমার নিজেকে মিশরের সম্রাট বলে মনে হয়।
লাবন্যকে একদিন বলেছিলাম-
শাড়িতে তোমাকে দেবী স্বরসতীর মতো লাগে। এরপর থেকে আমার আসার কথা থাকলেই লাবন্য শাড়ি পড়ে। আরো বলেছিলাম, বাঙ্গালী মেয়েদের খুব সাজগোজ করতে হয় না। শুধু মাত্র চোখে কাজল দিলেই তাদের দেবী প্রতিমার মতো লাগে। এরপর থেকে লাবন্য নিয়মিত চোখে কাজল দেয়। হাতে কাঁচের চুড়ি পড়ে। যাইহোক, সেদিন লাবন্যর সাথে অনেক মাখামাখি হয়ে গিয়েছিলো। লাবন্যকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। বাঁধা দেয়নি। চুমু দিয়েছিলাম বাঁধা দেয়নি। লাবন্যরও উৎসাহের কমতি ছিলো না। জীবনে কোনো মেয়েকে প্রথম জড়িয়ে ধরা, প্রথম চুমু খাওয়া। দারুন ব্যাপার ছিলো। দারুন উপভোগ্য। বাইরে ঝুম বৃষ্টি! আকাশ ভরা মেঘ আরও জমেছে! পরিবেশ পরিস্থিতি মানুষকে বদলে দেয়। মানুষের মন নরম করে দেয়। অনেক কঠিন জিনিসও সহজ করে দেয়। লাবন্য আজ কোথায় আমি জানি না। আমি নিশ্চিত এই শহরে একদিন লাবন্যর সাথে দেখা হয়ে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


