ঘটনাটা গল্পের মতো শোনালেও আসলে এটা কোন গল্প নয়, শত ভাগ সত্য ঘটনা। আর ঘটেছে একেবারে আমার বাড়ির কাছে। একই গলি পথ দিয়ে ঢোকার সময় রিকশাচালকটা প্রাইভেট কারের মালিককে স্রেফ বলে ছিল তাকে একটু সাইট দেওয়ার জন্য, এতেই সহ্য হলো না সেই যুবলীগের ক্যাডার মালিক কামালের! গাড়ি থেকে নেমে ৫৫ বছরের রিকশাচালককে কিল, ঘুসি আর লাথি মেরে ভয়ানক আহত করল। দৃশ্য দেখে পাশের রিকশা গ্যারেজের সমস্ত রিকশা চালক ক্ষেপে উঠল। সবাই মিলে গাড়িটা আটকে দিল আর ঘেরাও করে ফেলল কামালকে। তাকে উদ্ধার করার জন্য ছুটে এলো এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি জামশেদ চৌধুরী। ঠিক আছে রাতে এই ঘটনার বিচার হবে, এই গ্যারেজেই। শ্রমিকদের এই আশ্বাস দিয়ে কামালকে ছাড়িয়ে নিল চৌধুরী। হ্যাঁ, রাতে বিচার বসে ছিল, যথারীতি সেই ফ্যাসিবাদী পদ্ধতি তে বিচার হলো: ঠিক আছে, কামাল ভুল করেছে, তাই সে, রিকশা চালকটার পুরো চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে, সেই সাথে যতদিন কাজ করতে পারবে না, ততদিন রিকশা চালকের সংসার খরচও দেবে। বিচার শেষ একজন রিকশাচালক উঠে দাঁড়িয়ে তার লুঙ্গি থেকে ধুলা ঝাড়তে ঝাড়তে বলল:টাকা আছে তাই সমস্ত অন্যায় টাকা দিয়ে ছাপা দেবে, এটা আমার বালের বিচার! বিচারক তার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর বলল: তাইলে তুই কি বিচার চঅস? কথাটা বিচারকের মুখ দিয়ে বেরোবার সাথে সাথে রিকশাচালকটা চিৎকার দিয়ে বলে উঠল: চোদানির পোয়ারে ধর! সাথে সাথে শ’ দেরেক মেহনতি মানুষ শুরু করল তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে বিচার কাজ। কামাল উদ্ধার হওয়ার পর দেখা গেল সে দ্বিগুণ আহম হয়েছে, সেই রিকশাচালকের তুলনায়। উদ্ধার পাওয়ার পর কামাল ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল: মামু অনেরা যত টেয়া চন আঁয় অতটেয়া দিয়ম আরে আর ন মাইজ্যন। এই কথার জবাবে একজন রিকশা চালক চিৎকার করে বলল: তোর টেয়া ভরি আঁরা মুতি, আঁরা চাঁদা তুলি ইতের চিকিৎসা গইজ্যম। অনেকদিন পর আমি দেখলাম মেহনতি মানুষের জেগে উঠার দৃশ্য! মনে পড়ল হুমায়ুন আজাদের একটি কবিতার পঙক্তি: গরিবা কি সুন্দর, তখন, যখন সে জেগে উঠে!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১৫ রাত ৯:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


