somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৯

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শেখ হাসিনা ভারত চলে যাওয়ার পর, দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়।
ক্ষমতায় আসেন, ইউনুস। ইউনুস ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর সারা দেশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। দেশের সমস্ত খারাপ লোকেরা যা মন চায় তাই করেছে। তারা বহু বাড়ি ঘরে আগুন দিয়েছে। লুটপাট করেছে মন ভরে। মব সৃষ্টি করে লোকজনদের মেরেছে। পুলিশ কয়েক হাজার লোককে গ্রেফতার করেছে। তাদের নামে বিভিন্ন মামলা হয়েছে। কারণ তারা আওয়ামীলীগ। কারাগার থেকে দাগী আসামিরা বের হয়ে যায়। ৩২ নম্বরত ভেঙ্গে ফেলল। শেখ মুজিবের ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলা হয়। ইউনুস সাহেব চেয়েছেন বলেই দেশে এসব হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এমন অরাজকতা আর হয়নি। এরশাদের পতনের সময়ও এত অরাজকতা হয়নি। ইউনুস সাহেব জাতির অনেক বড় ক্ষতি করেছেন। একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে, নোবেল লরিয়েট হয়ে- ইউনুস সাহেব কেন জাতির ক্ষতি করলেন? উনি দেশের ক্ষতি করে কার উপর প্রতিশোধ নিলেন? ইউনুস ১৮ মাস ক্ষমতায় থেকে একটা ভালো কাজ করতে পারেননি।

শাহেদ জামাল নিরবে সব দেখে।
চোখের সামনে অন্যায় হয়, সে কিছু বলতে পারে না। ইউনুস বিদায় হয়েছে, এখন ক্ষমতায় বিএনপি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশে ফুটপাতে আগের চেয়ে বেশি দখল হয়েছে। আগের চেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি উত্থান হয়েছে জামাত শিবিরের। তাদের আস্ফালনটা চোখে পড়ার মতোণ। ভাবতেই কষ্ট লাগে যারা এই দেশ চায়নি, তারাই আজ সংসদে। আওয়ামীলীগের এমন করুন পরিনতি হওয়ার জন্য দায়ী, আওয়ামীলীগ। তারা শেখ মুজিব শেখ মুজিব বলতে বলতে গলা শুকিয়ে ফেলেছে। করোনার মধ্যে মুজিব বর্ষ পালন নিয়ে ব্যস্ত হয়েছিলো। তাদের ছাত্রলীগ, যুবলীগ অতি মাত্রায় বাড়াবাড়ি করেছে। এদেরকে সামলে রাখার দরকার ছিলো। হ্যা একথা সত্য- গত ১৭ বছরে আওয়ামীলীগ অনেক কাজ করেছে। মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সহ আর কত কি। তাদের দলের কিছু লোকের জন্য আজকে আওয়ামীলীগের এই অবস্থা।

শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর-
দেশের সাধারন মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। দেশে বেকার এবং ভিক্ষুকের সংখ্যা বেড়েছে। বিএনপি দেশ পরিচালনা করতে জানে না। এখন দেশে তেল নেই, গ্যাস নেই, পানি নেই। বিদ্যুৎ নেই। চাকরি নেই। আওয়ামীলীগের সময়, অত্যন্ত বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ছিলো। শাহেদ জামালের মেসে চুলা জ্বলে না। গ্যাস নেই। রাতে গরমে কষ্ট করতে হয়- কারেন্ট নেই। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে সত্যি সত্যি আসেন তাহলে কি হবে? তার দলের নেতাকর্মীরা কি পারবে তাকে রক্ষা করতে? শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে নিশ্চিত। তারপর বাকি জীবনটা কি উনি বন্ধী'ই থাকবেন? উনার দলের লোকজন কি গুপ্ত ভাবে দেশে জ্বালাও পোড়াও চালিয়ে যাবে? লগি বৈঠা নিয়ে তারা সরকারকে চাপে রাখতে পারিবে? ক্ষমতায় না থেকে জামাত শিবির, এনসিপি আর বিএনপির সাথে কি পারবে আওয়ামীলীগ? হয়তো তারা কঠিন ফাইট দিবে। সমস্যা হবে দেশের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের। হবে হরতাল, অবরোধ, লকডাউন আর জকালাও পোড়াও। মুলত ক্ষতি হবে দেশের মানুষের।

শাহেদ জামাল রাজনীতি নিয়ে ভাবতে চায় না।
সে রাজনীতির মানুষ না। তবু রাজনীতির ছায়া দেশের মানুষের উপর পড়ে। শাহেদ জামাল এটুকু বুঝে গেছে এদেশে শান্তি নিয়ে আনন্দে বেঁচে থাকা যাবে না। দেশভাগ হওয়ার আগেও এই দেশের মানুষ ভালো ছিলো না। দেশভাগের পরও এই দেশের মানুষ ভালো নেই। ভাষা আন্দোলন হলো। তারপর মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন দেশেও মানুষ ভালো নেই। আজও মানুষ রাস্তায় ঘুমায়। বরং রাস্তায় ঘুমানো মানুষের সংখ্যা আরো বেড়েছে। শাহেদ জামাল খেয়াল করে দেখেছে, আগের রাতে যে ফুটপাত গুলো খালি থাকতো, এখন সেখানেও মানুষ রাতে ঘুমায়। রাস্তায় একটা নোংরা কাপড় বিছিয়ে শুয়ে থাকে। সরকারি হাসপাতালে দালাল। ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তা গুলোয় প্রতিদিন ছিনতাই হচ্ছে, পকেটমার হচ্ছে। ঢাকা শহর থেকেই প্রতিদিন ৩ হাজার মানুষের মোবাইল পকেটমার হচ্ছে। চোর, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ- এদের সংখ্যা কয়েক গুন বেড়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলেই দেশে- চোরের সংখ্যা বেড়ে যায়। মন্দ লোকের সংখ্যা বেড়ে যায়।

কি অদ্ভুত দেশ আমাদের!
হামের টিকা না পেয়ে এক হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। থানা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে, পুলিশের অস্ত্র লুট করেছে, পুলিশ হত্যা করে ব্রীজের ঝুলিয়ে রেখেছে। কোনো বিচার নেই। কারাগার থেকে আসামীরা পালিয়েছে। শেখ মুজিবকে শ্রদ্ধা জানাতে গেছে, তাই তাদের মারা হয়েছে। অপমান অপদস্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জে গুলি চালিয়েছে। মানুষ হত্যা করেছে, কোনো বিচার নেই। কারাগার থেকে দাগী আসামীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর বহু লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে- বলা হয় তারা আওয়ামীলীগের দোসর। জামাত শিবির অন্যায় করার সময়- ইউনুস চুপ ছিলো। এখনও দেশে যারা অন্যায় করছে, বিএনপি সরকার চুপ। এই সমস্ত অন্যায়কারীদের এবং জামাত শিবিরিকে থামাতে আবার শেখ হাসিনাকে দরকার। শেখের বেটি ছাড়া জামাত শিবিরিকে কেউ থামাতে পারবে না। আমি জানি, আওয়ামীলীগ 'দুধের ধোয়া তুলসি পাতা' ছিলো না। কিন্তু জামাত শিবির আর বিএনপির চেয়ে ভালো ছিলো। মন্দের ভালো হলেও আওয়ামীলীগ ভালো। জয় বাংলা।

অনেকদিন পর সেদিন শাহেদ নীলাকে স্বপ্নে দেখেছে।
স্বপ্নটা এরকমঃ সমুদ্রের পারে শাহেদ আর নীলা হাঁটছে। হাত ধরাধরি করে হাঁটছে। নীলা শাড়ি পড়েছে। চোখে মোটা করে কাজল দিয়েছে। দুই হাত ভরতি কাঁচের চুড়ি। কপালে একটা টিপ। সমুদ্রের ঢেউ এসে শাড়ির আচল ভিজিয়ে দিচ্ছে নীলার। সমুদ্রের বাতাস এসে নীলার চুল উড়ে এসে শাহেদের চোখে মুখে লাগছে। শাহেদের মনে হচ্ছে লাইফ ইজ বিউটিফুল। এক ঝাঁক সাদা রঙের পাখি উড়ে যাচ্ছে। শাহেদ আর নীলা দুজনেই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। এমন সময় বিশাল এক ঢেউ এসে তাদের ধাক্কা দেয়। শাহেদ আর নীলা দুজন'ই ছিটকে যায়। শাহেদ নীলাকে খুজে পায় না। সমুদ্র যাকে নিয়ে যায় তাকে আর পাওয়া যায় না। মসজিদে ফযরের আযান দিচ্ছে। শাহেদের ঘুম ভাঙ্গে। সুন্দর একটা স্বপ্ন ভয়ংকর রুপ নিলো। আমেরিকাতে নীলা ভালো আছে তো? তার ছেলেমেয়েরা? তার স্বামী? নীলা এত দূরে থাকে, ইচ্ছে করলেই গিয়ে দেখে আসা যাবে না। ভালো থাকুক নীলা।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাবধানের মার্ নেই

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩১


নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরার পথে নিউ আর্ক্ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন এরোপ্লেনে উঠে নির্দিষ্ট সীটের কাছে পৌঁছলাম দেখলাম এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক জানালার পাশের সিটটাতে অলরেডি বসে আছেন। আইল ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×