somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অর্বাচীন পথিক
https://www.facebook.com/fresh.wayfarer nলেখার কোন অংশ লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা যাবে না। বানান ভুল পাওয়া যেতে পারে এর জন্য আগে থেকেই ক্ষমা চাই । ভুল বানান গুলো ধরিয়ে দিতে সাহায্য করলে সেটা ঠিক করে দেওয়া হবে। (ব্লগের লিংক ফেসবুক শেয়ার করা

আড়ালের অনুভূতি (পর্ব- ৮ এর বাকী অংশ)

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



[পর্ব- ৮ এর আগের অংশের সারাংশঃ উদ্দীপিত ঢাকা থেকে যশোর এসেছে বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে। যশোর এয়ারপোর্ট নেমেই সে দেখতে পায় তাঁর বাবা-মা আর ড্রাইভার জন্য অপেক্ষা করছে। সে তাঁর বাবা-মা জন্য নিয়ে আসে উপহার। বাবার জন্য ঘড়ি আর মায়ের জন্য লকেট। উদ্দীপিত যশোর এসে একটু বিপদেই পড়ে যাই বাবা-মায়ের খুনসুটি নিয়ে। আর শান্ত উদ্দীপিত বারবার ডিফেন্স করতে থাকে দুই পক্ষের হয়ে। ]


সন্ধ্যার একটু পর উদ্দীপিত বাড়ির ছাদে উঠলো। তার ছাদে ওঠার একটু পর আস্তে আস্তে সবাই ছাদে চলে এলো, উদ্দেশ্য তাকে কেন্দ্র করে গল্প করা। তার সাথে সবার সময় কাটাতে চাই। বাড়ির কাজের মেয়ে তা পর্যন্ত বাদ গেল না। এক কথায় বাড়িতে চলছে এখন রমরমা উৎসবের পরিবেশ। বাসার ছাদে পাটি বিছানো হল আমার জন্য বালিশ ও চলে আসলো, না চাইতেই। বাবা যেন কোন ভাবেই আমাকে ছাড়তে চাইছেন না। সে আগেই আমাকে বলে রেখেছেন; মা ঘুমিয়ে পড়লে তার পর আমার কাছে এসে ঘুমাবে। রাতে কি খাবার খেতে চাই মা জানতে চাইলো। আমি বললাম পরোটা আর গরুর মাংস। মা তখনই সেই সব তৈরি করতে যাবে কাজের মেয়েটাকে নিয়ে। খুব কষ্টে বুঝাতে পারলাম যে, এখন রান্না করতে হবে না আজ আমরা সবাই বাইরের খাবার খাবো।

ড্রাইভার ছেলেটায় বাইরে থেকে খাবার আনার দায়িক্ত নিলো। আমি ও চাই ছিলাম কিছুটা সময় বাবা মার সাথে কাটাতে। এক সময় মায়ের কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়লাম আমি, আর বাবা অনেক আগে থেকেই আমার পেটের উপর মাথা দিয়ে শুয়ে আছেন। আমারা সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আকাশে তখন মেঘ আর চাঁদের মাঝে চলছে শুধুই লুকো-চুরি খেলা আর সেটায় আমরা সবাই দেখছিলাম মুগ্ধ হয়ে - আমি, বাবা আর মা।

সকালে ঘুম থেকে উঠে আর বাবা কে পাশে দেখলো না উদ্দীপিত । বুঝতে পারলো, মা ঘুম থেকে ওঠার আগেই তিনি ছেলের বিছানা ছেড়েছেন। মা চাই আমি যেন একটু আরাম করে ঘুমায়। বিদেশে কিভাবে থাকি না থাকি তাই, আর বাবা চাই সে আমার সাথে রাতে ঘুমাবে, মাঝ রাত পর্যন্ত আমার সাথে গল্প করবো। অনেক দিন হয়ে গেছে তার ছেলে মেয়েরা তার কাছে নেই আর হয়তো সেই জন্য তার এই আবদার।

সকালের নাস্তা শেষ করেই উদ্দীপিত তার মাকে বললো
-মা আমি একটু বাইরে যাই ?"

মা উত্তর দিল - এত রোদের মধ্য কোথায় যাবি ? বিকালে বাইরে যাস। তার পর ও উদ্দীপিত বললো না একটু যাই। মা একটু অখুশি হয়ে মত দিলেন। আর বললেন "একটু দাঁড়া আমি আসছি"। একটু পর মা হাতে করে কিছু খুচরা টাকা নিয়ে এলেন আর বললেন - এই নে টাকা, তাড়াতাড়ি ফিরবি আর আসার সময় বাদাম আর ছোলা ভাজা নিয়ে আসবি।

ঠিক তখনও উদ্দীপিতের ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেল। মা প্রতিদিন তাকে এই ভাবে যাবার সময় হাতে করে টাকা দিতেন আর মাঝে মাঝে বলতেন বাদাম আর ছোলা ভাজা আনতে। এটা আবার তার খুব পছন্দ। বাবাকে বললে তার মনে থাকতো না , তাই আমাকে আনতে বলতেন তিনি সব সময়। উদ্দীপিত একগাল হেসে উঠলো মায়ের কথায়। তার কাছে টাকা আছে কিন্তু তার পর ও সে মায়ের দেওয়া টাকা ফিরিয়ে দিলো না। খুব কম মানুষেরই এমন বাবা মা পায় এই পৃথিবীতে।

মায়ের কথার মাঝে বাবা পিছন থেকে টিপ্পনী কেটে বললেন - ছেলে ইনকাম করে ডলার আর তুমি দিচ্ছো তাকে খুচরা টাকা। তোমাকে নিয়ে আর পারা গেল না !
- তুমি একটু চুপ করবে দয়া করে।
- আচ্ছা করলাম।
উদ্দীপিত কে তার বড় বাবা এবার প্রশ্ন করলো
- বাপ আর কত দিন লাগবো তোর ? আর কবে থেকে পিএইচডি টা শুরু করতে পারবি ?
- এখন থেকে গিয়ে ফাইনাল প্রপোজাল টা সাবমিট করবো। তার পর পিএইচডির ব্যাপার টা আসবে ।
উদ্দীপিতের বড় বাবা খুব উষ্ণ গলাই বলে উঠলেন
- যাক ভাল । আর কাওকে দিয়ে তো হল না। তুই যদি আমার ইচ্ছাটা পুরণ করতে পারিস। তবে বাপ আমার...... টাকা লাগলে কিন্তু আমাকে জানাতে ভুলবি না। ভাল ভাবে পিএইচডি টা কর আমি সেটায় চাই। খুব যদি কষ্ট হয় তবে যে চাকরিটা করিস সেটা না ছেড়ে দিবি। আর যা টাকা লাগবে আমি পাঠাবো। তারপর ও ভাল ভাবে পড়াটা শেষ কর। এখন মনে হচ্ছে তোর ভাইয়া তোকে যে এইচ.এস. সির পর বিদেশে পাঠিয়ে দিতে বলেছি সেই সিদ্ধান্তটা ঠিক ছিল।

উদ্দীপিত এতখন তার বাবার কথা শুনছিল। কথা শেষ হবার পর বলে উঠলো
- ঠিক আছে কোন সমস্যা হলে আমি তোমাকে জানাবো। আর ভাইয়াকে বলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে তোমাদের নেওয়ার ব্যবস্থা করছি।
উদ্দীপিতের কথা শেষ হবার পর তার বাবা-মা কোন উত্তর করলো না। আর সেটাতেই সে বুঝতে পারলো তাদের আর এইখানে থাকার ইচ্ছা নেই।
উদ্দীপিত বাসা থেকে বের হবার পর প্রথমেই মনে পড়লো তটিনীর কথা। তটিনীদের সেই বাসাটা পার হবার পর আপন মনেই হাসি পেল উদ্দীপিতের। আর যাই হোক এইবার এই ব্যাপারটার সমাধান করতেই হবে তার। মনে মনে এক প্রকার প্রতিঙ্গাই করে ফেললো উদ্দীপিত। ঢাকা ফিরে ওর সাথে দেখা করার চেষ্টা করবে আবার। তারপর তাকে ফিরতে হবে দুই-তিন দিনের মধেই কানাডায়। আর গিয়েই তাকে সব কিছু ফাইনালি সাবমিট করতে হবে। কত কাজ যে ফেলে রেখে এসেছে এটা মনে করতেই উদ্দীপিতের নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো।


N.B: [আড়ালের অনুভূতি (পর্ব- ৯)- পরের পোস্টে]
N.B: [ যদি কোন বানান ভুল করে থাকি তবে আশা করি বানান টা ধরিয়ে দেবেন। আমি সেটা আমি ঠিক করে নিবো ]
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×