কোটালীপাড়ার জনসভায় বোমা পুঁতে শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি হরকাতুল জিহাদের প্রধান মুফতি মাওলানা আবদুল হান্নান বলেছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাই ওই বোমা পুঁতে রেখেছিল। তিনি চিত্কার করে কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার নাম উল্লেখ করতে থাকেন এবং বলেন, এরাই সেদিন বোমার নামে নাটক সাজিয়েছিল। শেখ হাসিনার নিরাপত্তা জোরদারের উদ্দেশ্যে এই নাটক সাজানো হয়েছিল। গতকাল গোপালগঞ্জের আদালতে প্রথমবারের মতো মুফতি হান্নানকে হাজির করা হলে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন। পরে বিকালে আওয়ামী লীগ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে মুফতি হান্নানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।
আদালত প্রাঙ্গণ থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় মুফতি হান্নান স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশে গলা ফাটিয়ে বলেন, ২০০০ সালের জুলাই মাসে কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার জনসভাস্থল ও হেলিপ্যাডের পাশে বোমা পুঁতে রেখেছিল আওয়ামী লীগ নেতারা। ওটা ছিল সাজানো নাটক। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া দাড়িয়া, ইস্রাফিলসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা ৭৬ ও ৮২ কেজি ওজনের ওই বোমা দুটি পুঁতে রেখেছিল। এতে কোনো ডেটোনেটর ও বিস্ফোরক ছিল না। শেখ হাসিনার নিরাপত্তা জোরদারের উদ্দেশ্যে এই সাজানো নাটক করা হয়েছিল। আর স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা ব্যাজ লাগিয়ে পুলিশের ভূমিকা পালন করেছিল। যারা বোমা পুঁতে রেখেছিল, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। কিন্তু আমাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। এসব ব্যক্তিকে তার মুখোমুখি করা হলে কীভাবে, কোথা থেকে বোমা আনা হয়েছিল, কে কে বহন করেছিল—সব বিস্তারিত বর্ণনা দেবেন বলেও উল্লেখ করেন মুফতি হান্নান। নিজ আইনজীবী আজগার আলী খানের সামনে মুফতি হান্নান বলেন, আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক। আমার আপন ভাই আনিস মুন্সী ছাত্রলীগের নেতা ছিল ও চাচা সিরাজুল ইসলাম মুন্সি ওরফে শের আলী কোটালীপাড়া আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। মুফতি হান্নান আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম প্রকাশ করায় গোপালগঞ্জে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তারা বিকালে স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুফতি হান্নানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, আমি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর সহযোগী হিসেবে হান্নানের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা পরিচালনা করি। এ মামলায় তার যাবজ্জীবন সাজা হয়। আমাকে ও দলের নেতাকর্মীদের হেয় করে মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মুফতি হান্নান মিথ্যাচার করছেন। আমরা এ ঘটনায় জড়িত নই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী এমদাদুল হক, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইদ্রিস আলী মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, অ্যাডভোকেট আহম্মেদ নওশের আলী।
এত রিমান্ড এত নির্যাতন তার পরও যখন তার মুখ থেকে লীগ এর নাম এসেছে তাখলে আমার মনে হয় এই কথাটাই সত্যি
সূত্র : আজকের কিছু দৈনিক সংবাদ পত্র
গোপালগঞ্জে আ’লীগ নেতারাই বোমা পুঁতে রেখেছিল : আদালতে সাংবাদিকদের মুফতি হান্নান
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।
যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?
আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।
দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।
ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কটা দুলাল

বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন পর্ব -১

(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।