আমার বারান্দাজুড়ে ল্যাম্পপোস্টের রোদ। ফাগুন আসব আসব করছে। মাঝে মাঝে মৃদু দখিনা বাতাস আমাকে ছুয়ে যাচ্ছে।
কাছেই কোন পুলিশ অফিসারের ওয়াকিটকির আওয়াজ ভেসে আসছে। কেও উচ্চস্বরে ঝগড়া করছে, হঠাত একটা দুটা রিকশা চলে যাচ্ছে। কান পাতলে শহরের কোলাহল শুনতে পাওয়া যায়।
পাশের বাড়ির দারওয়ান সিগারেটের শেষ টানটা দিয়ে পায়ের তলে পিষে ফেলল। কি অদ্ভুত, একটু আগে যে কাঠিটা তাকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিচ্ছিল তাকে সে এখন অবহেলার সাথে মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে।
পাশের ফ্লাটের ভাইয়া বোধহয় ফোনে তার প্রেমিকাকে গান শুনাচ্ছেন, বারান্দাগুলো পাশাপাশি। বেশ মিষ্টি মিষ্টি কথাবার্তা চলে দুজনের। অথচ এই ভাইয়াই ৩ মাস আগে গত প্রিয়তমার বিয়ে হয়ে যাওয়ার শোকে হাত কেটে রক্তারক্তি বাঁধিয়েছিলেন।
সামনের বাড়ির দোতলার জানালা খোলা, তারা অসামান্য ধনের অধিকারী। ও বাড়ির ছেলেটা গ্লাসে মদ ঢালা শুরু করেছে, অচেতন হবার আগ পর্যন্ত চলতে থাকবে। তার পাশের ঘরে তার মা, তার জানালাও খোলা, প্রকান্ড টিভিতে স্টার প্লাস চলছে।
বারান্দাটা খুব অদ্ভুত। হাজার হাজার দীর্ঘশ্বাস শোনা যায় প্রতি রাতে। মোতালেব ড্রাইভার দীর্ঘশ্বাস ফেলে, মাস অর্ধেক হয়ে গেল সাহেব এখনো বেতন দিল না। বাড়িতে পরিবার আধপেটা হয়ে দিন কাটাচ্ছে। ময়নার মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, দেড় বছর হয় ময়না কে দেখতে যেতে পারে না, সতমা এর কাছে ময়না কেমন আছে কে জানে। শফিউল আনকেল দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, পেনশনের টাকাটা কিছুতেই ছাড়াতে পারছেন না। শেফালি আপু তার প্রথম সন্তানের কথা ভুলতে পারেন না, প্রতিরাতে একটা দীর্ঘশ্বাস বরাদ্দ থাকে স্বর্গত শিশুটির জন্যে।
আমি আমার আজ রাতের দীর্ঘশ্বাসটি ফেলতে গিয়েও ফেলি না। তাদের ভারী দীর্ঘশ্বাসগুলোর মাঝে আমার হালকা দীর্ঘশ্বাস বড় ক্ষুদ্র, বড় ইনসিগনিফিকেন্ট
৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১৫ রাত ১১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





