দরজাটার দিকে তাকিয়ে আছে মন্দিরা। কে যেন বের হয়ে গেল, ঠিকমত লাগানো হয় নি। উঠে যেয়ে দরজাটা লাগানো সম্ভব না তার জন্যে, সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে, উঠে যেয়ে দরজাটা লাগানোর শক্তি নেই গায়ে। কিন্তু খুঁতখুঁত লাগছে, মনে হচ্ছে কাওকে ডেকে বলবে দরজা লাগিয়ে দিতে। কিন্তু আসেপাশে কেও নেই, তার ডাক শুনে দরজাটা লাগিয়ে দেবার জন্যে। খুঁতখুঁতে অনুভুতি নিয়েই মন্দিরা ঘুমিয়ে গেল।
----
মন্দিরা? এই মন্দিরা! মন্দিরা আস্তে আস্তে তাকাল। ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে, আজ সে বাসযাত্রী, অনিন্দ্যর পাশে। কি হল, ডাকছ যে? অনিন্দ্যকে জিজ্ঞেস করল মন্দিরা।
খেয়ে নাও কিছু।
খেতে ইচ্ছা করছে না এখন, পরে খাই?
আহা, শুধু ইচ্ছে, অনিচ্ছের কথা ভাবলে হবে? তোমার ভেতরে যে আরেকজন আছে, তার ব্যাপার টা মাথায় রাখতে হবে না?
আচ্ছা আচ্ছা বাপু। খাচ্ছি।
বলে ব্যাগ থেকে টিফিন বাক্স বের করল মন্দিরা।
----
রহমত এর মেজাজ আজ খুব খারাপ। বাস ডিপোতে রেখেই মালিকের সাথে এক চোট ঝগড়া করবে। পরপর তিন ট্রিপ দিতে তাকে বাধ্য করা হয়েছে। চোখ জ্বলছে। মনে হয় গত এক সপ্তাহ সে ঘুমায়নি।
----
ডাক্তার সাহেব, আমার স্ত্রী?
আপনার স্ত্রী ভাল আছে।
বাচ্চাটা?
I am sorry Mr. Anindya, we couldn't save your child.
----
মন্দিরার হাতটা চেপে ধরতে মন্দিরার ঘুম ভেঙ্গে গেল। চাহনী এখনো স্বাভাবিক হয় নি। পেটের বাচ্চাটাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি, এ খবর সে গতকাল পেয়েছে।
অনিন্দ্য! মন্দিরা অস্ফুট স্বরে ডাকল।
হ্যাঁ বল?
তোমার বেবি কে একবারো কোলে নিয়েছ? মন্দিরার কন্ঠে অভিমান।
বলছ কি এসব? বেবি কোথায়?
এই যে আমার পাশে শুয়ে আছে, এটা তো তোমারি বেবি, কোলে নাও!
অনিন্দ্য বেডে শুয়ে থাকা মন্দিরার পাশের বালিশটাকে কোলে তুলে নিল। না বাবা, কাঁদে না, কাঁদে না বলে আদর করতে লাগল।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১০:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





