somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আমি মিয়াবাড়ির ছেলে
আমি একজন ভালোমানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখি। আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার দ্বারা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। মহাকবি চণ্ডীদাসের মতো আমিও মনে করি: “সবার উপরে মানুষ সত্য---তাহার উপরে নাই।” আর আমার একমাত্র দেশ---এই বাংলাদেশ।

ব্লগে রাজনীতি করার চেয়ে মাঠে নামুন

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের মাঝে একশ্রেণীর ব্লগার আছে—তারা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে প্রতিনিয়ত শুধু সরকারবিরোধী রাজনৈতিক লেখা ছাড়া আর কিছু লিখতে পারে না। সবসময় এদের টার্গেট ইনিয়েবিনিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিব ইত্যাদি। এরা বুঝেশুনে, জেনেশুনে ও স্বজ্ঞানেই এসব লিখে থাকে। উদ্দেশ্য সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করা। কিন্তু এদের কলম থেকে কখনো-কোনোদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রধান শত্রু জামায়াত-শিবির ও তাদের মিত্র বিএনপি’র বিরুদ্ধে একলাইন সমালোচনাও বের হয় না।

আপনি সমালোচনা করবেন ভালো কথা। কিন্তু আপনাকে তো গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে। মনে রাখবেন: কারও বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা করাটা আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে। কিন্তু আপনার বুকে জামায়াত-শিবিরের শ্লোগান ও তাদের দলীয় আদর্শ রেখে আপনি বর্তমান সরকারকে গালি দিচ্ছেন কেন? আপনি তো পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে বিশ্বাসী। আপনি নিজেই তো একটা স্বৈরাচার! অথচ, সেই আপনি অহেতুক কারও প্ররোচনায় সরকারকে ‘স্বৈরাচার’ বলে বিশেষায়িত করে কেন নিজের পরিচয় জনসমক্ষে তুলে ধরছেন? আপনাকে এখন নিরেট বোকা বলবো নাকি খুব বুদ্ধিমান বলবো?

আগে নিজের সমালোচনা করুন। নিজের দিকে তাকান। আপনি মানুষ কিনা—একবার ভাবুন। আর আপনি ভালোমানুষ কিনা—সেই বিচার পরে হবে। আপনি সরকারের সমালোচনা করুন। আর তা দিন-রাত করুন। আর আপনি মসজিদে বসেও সরকারের বিরুদ্ধে অভিসম্পাত করুন এবং মনের সুখে গালিগালাজ করতে থাকুন। কিন্তু আপনি সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের পর্যন্ত ব্যঙ্গবিদ্রুপ করছেন! আপনার এই ধৃষ্টতাপ্রদর্শনের পারমিশন আপনাকে কে দিয়েছে?

আপনারা সরকারের সমালোচনা করলে আমার তাতে কিছুই যায় আসে না। এমনকি সরকারেরও। কিন্তু প্রতিদিন ব্লগে এলে এইসব নিম্নমানের লেখা পড়ে মনটা খারাপ হয়ে যায়। সরকারের সমালোচনা করতে যোগ্যতা লাগে। অনেক পড়াশোনার প্রয়োজন আছে। যারা রাষ্ট্রচিন্তা ও রাষ্ট্রদর্শন বোঝে না—তারা কীভাবে সরকারের সমালোচনা করবে? সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রের কী সম্পর্ক রয়েছে—তাও যাদের জানা নাই তারাই এখন সরকারের সমালোচনার নামে কয়েকটি গালিগালাজ কিংবা তৎপরিবর্তে কয়েকটি বিশেষণবাচক শব্দ-ব্যবহার করে বিমল আনন্দ অনুভব করে থাকে। ব্যাপারটি খুবই হাস্যকর। তারা মনে করে থাকে—তাদের দুই-চারটি লেখায় বুঝি সরকার কাত হয়ে এখনই পড়ে যাবে!
প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখা এতো সহজ নয়। সুচিন্তিত প্রবন্ধ লেখা আরও কঠিন ও জটিল কাজ। সস্তা লেখা খুব সহজ। আর বাংলাদেশের মতো যদি কোনো দেশ হয় তবে তো পোয়াবারো! এখানে, নানির বাড়ির তালগাছ নিয়ে রচনা লিখতে গিয়ে শেষমেশ নানির সতীত্ব নিয়ে টানাটানি! হায় রে বাঙালি! হায় রে ত্রিশলক্ষ শহীদের বাংলাদেশ! আমরা দিন-দিন কোথায় যেন নেমে যাচ্ছি!

অনেকের লেখায় খুব রাজনীতি থাকে। আর তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই যেন এসব নিম্নমানের লেখা লিখে থাকে। কিন্তু এর ভবিষ্যৎ কী? নিজের পায়ে কুড়াল মারা। যারা এতোটাই রাজনীতিবিদ—তাদের উচিত মাঠে গিয়ে সরাসরি রাজনীতি করা। সেখানে জমবে ভালো। দেখি, আপনি কত কী করতে পারেন! আর কত কোটি লোক আপনার সামনে-পিছনে এসে দাঁড়ায়!
আর রাজনীতি না করলে মুক্ত ও সুস্থ গদ্যচর্চা করুন। আর ব্লগটাকে সৃজনশীলতা, মননশীলতা, জ্ঞানচর্চা ও বিবেকচর্চার পীঠস্থান হিসাবে আমাদের ব্যবহার করতে দিন। আমরা সাধারণ পাঠক এখানে সৃজনশীলতার লোভে আসি—কারও সস্তা রাজনৈতিক লেখা পড়তে নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫১
১৪টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাও সে তুং-এর 'পিপলস কমিউন' ব্যবস্থা যেভাবে ৩-৪ কোটি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬



চীনের আধুনিকায়নে মাও সে তুং-এর নেওয়া সবচেয়ে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরীক্ষাগুলোর একটি ছিল কৃষির সমবায়িকরণ এবং "পিপলস কমিউন" ব্যবস্থা, ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থার মূল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার রিসাচ পেপার পাবলিশভ

লিখেছেন মোঃ মােজদুল ইসলাম, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:৩৪

Hailstorm, Rain, Dust The effect of Climate Change in Bangladesh
XXXX
IOSR Journal of Environmental Science, Toxicology and Food Technology
2319-2402
International Organization of Scientific Research
www.iosrjournals.org
Open Access Publishing
Blind Peer Review Process
Indexed Refereed Journal
20
06
10.9790/2402-2006020106 ...বাকিটুকু পড়ুন

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

একটি জাতিকে ধ্বংস করতে সব সময় যুদ্ধ লাগে না।
তার ভাষা, সাহিত্য, গান, নাটক, ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দিলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×