দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচাইতে কমরেটে মোবাইলে কথা বলার সুযোগ দেবার সুনাম পেয়েছে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। মানুষের আয় ততটা বাড়ছে না, কিন্তু বেড়েই চলেছে খাদ্যদ্রব্যের দাম। একই সাথে বাড়ছে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুর দাম বাড়ছে পাল্লা দিয়ে (যেমন বাস ভাড়া, বাড়ি ভাড়া ইত্যাদি)। এমন কঠিন অবস্থার মুখোমুখি আজকের বিশ্ববাসী, বিশেষ করে বাঙ্গালীরা যারা বাংলাদেশেই বসবাস করছেন। রক্ত পানি করে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ মানুষের ব্যয় হয় মোবাইলে কথা বলার পিছনে। যারা ফালতু কথা বলে মোবাইলে টাকা নষ্ট করেন না, তাদেরও মোবাইলের পিছনে একটি খরচ আছে। মোবাইলের গুরুত্ব এই যুগে কারোরই অজানা নয়। তাই এই বিষয়টা স্কিপ করছি।
যেহেতু কষ্টার্জিত টাকা ব্যয় করে মানুষ মোবাইলে কথা বলে, তাই তারা সবসময়ই চায় এর বিনিময়ে ভাল মানের সেবা পেতে। নেটওয়ার্ক এখানে একটি বড় বিষয়। নেটওয়ার্ক যদি খারাপ হয়, তাহলে কথা বুঝা না যাওয়া, কথা কেটে কেটে আসার মত নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় গ্রাহককে। আমরা সবাই জানি বাংলাদেশে সবচাইতে ভাল নেটওয়ার্ক সেবা প্রদান করে গ্রামীণফোন। দেশের বেশিরভাগ মানুষই গ্রামীণফোন ব্যবহার করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রামীণফোনের কলরেট সবচাইতে বেশি। অন্যান্য অপারেটরের চেয়ে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা বেশি। জিপি যদি তাদের কলরেট অন্যান্য অপারেটরের চেয়েও কমিয়ে দেয়, তবুও তাদের লাভ বেশি হবে। কারণ গ্রাহক তো গ্রামীণেরই বেশি। কিন্তু গ্রামীণফোনের কলরেট যেন পণ করেছে, যে করেই হোক, সবচাইতে বেশি কলরেট গ্রামীণেরই থাকতে হবে। মানুষ বাধ্য হয়ে তবুও গ্রামীণফোন ব্যবহার করছেন দু'টি কারণে। এক, নাম্বার পরিচিত হয়ে গেছে যার কারণে এই মুহুর্তে নতুন নাম্বার নেয়া সম্ভব নয়। দুই, ভাল নেটওয়ার্কের আশায়। বাংলাদেশে একমাত্র গ্রামীণফোনেরই এখনও দুই টাকার বেশি কলরেট। এমনকি রাত বারোটার পর অন্য নাম্বারে ফোন করলেও ভ্যাটসহ দুই টাকা ত্রিশ পয়সা কাটে। আশ্চর্য, গ্রাহকদের প্রতি তাদের কি এতটুকুও কেয়ার নেই। সৈকতের বোন আর আমার নানা কাষ্টমার কেয়ার ম্যানেজার হলে কি হবে, যদি আমার কাছ থেকে টাকা খাওয়া হয় রাক্ষসের মত!
ছবি নাফিস ইফতেখারের সৌজন্যে।
গ্রামীণফোনের প্রতি অনুরোধ, আপনাদের এই দুই কোটি মানুষের প্রতি যদি করুণাও করতে হয়, সেটাও করুন। তবু কলরেট কমান। এরপরও যদি কলরেট না কমান, তাহলে গ্রামীণফোন ছেড়ে দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।
সম্মানিত পাঠক, আসুন আমরা সকলে মিলে আওয়াজ তুলি এই বিষয়ে। দুই কোটি মানুষ মিলে যদি একসাথে দাবি তুলে কলরেট কমানোর, তখন গ্রামীণফোনের "হয়ত" কলরেট কমানোর আজ্ঞা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১১ রাত ১২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



