আকাশের বুকে লক্ষ-কোটি তারা। দেখতে দেখতে একটি তারা খসে পড়ে গেল। একটি সাদা লম্বা রশ্মি-মত সৃষ্টি করে গেল আকাশের বুকে। হঠাৎই মনে হলো, পাশের দালানের ছাতে থাকলে বোধহয় তারাগুলো ছোঁয়া যেত। নাহ্! অমূলক ভাবনা! সেটা একেবারেই অসম্ভব। হঠাৎই দেখা গেল আকাশ থেকে দ্রুতবেগে তারাগুলো অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। কি ব্যাপার! ব্যাপার কিছুক্ষণ পরেই বোঝা গেল। এক খন্ড মেঘ! বৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছে আকাশ। কিন্তু না, এই ধারণাও ভূল। এক ঝলক দমকা হাওয়া বুঝিয়ে দিল বৃষ্টি নয়, আকাশে ঝড়ের প্রস্তুতি চলছে। এক প্রচন্ড কালবৈশাখী ঝড়। কালবৈশাখী ঝড়! তারমানে বৈশাখ মাস আশেপাশেই আছে! হ্যাঁ, মোটেই দূরে নয় বৈশাখ। মাত্র কয়েক মিনিটের অপেক্ষা! তারমানে আরেকটি সুখ দুঃখের বাংলা বছর জীবন থেকে খসে গেল! কত আশা ছিল! একটি আশাকে প্রায় হতাশার দিকে ঠেলে দিয়ে আগমন ঘটতে যাচ্ছে আরেকটি বছরের। হয়তোবা এই আশাটিকে আবারও ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আগামী বছরটিও আজকের মতোই শেষ হবে। কথায় আছে, বছরের শুরুর দিন যা ঘটবে, সারা বছর তাই ঘটবে। তাহলে কি আগামী বছরটাও...!
হয়তো, একে পরিবর্তনের কোন উপায় নেই। ভাগ্যে প্রকৃতি যা লিখে দিয়েছে তাই হবে। যদি সত্যিই সারা বছর এরকম নিরাশায় কাটে, তবু কিছু করার নেই। কেন যে এরকম একটা নিয়ম হলো, "বছরের শুরুর দিন যা ঘটবে, সারা বছর...."! যদিও এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ আছে। তবু কেন যেন মনে হচ্ছে, তাই ঘটবে, যা এখন ঘটছে। হতাশার দুর্ভাবনা! হঠাৎই একটি কোমল হাতের স্পর্শ অনুভব হলো। কি ব্যাপার, এতরাতে কে! পাশে তাকাতেই ধ্বক করে উঠল বুক। হতাশার দুর্ভাবনাগুলো মিথ্যে হতে যাচ্ছে। কিছু একটা প্রাপ্তি কি অপেক্ষা করছে নতুন বছরে? চমকের প্রথম ধাক্কা কাটতে না কাটতেই আকাশ আলোকউজ্জ্বল হয়ে ঊঠলো। বাজি পোড়ানো শুরু হয়ে গেছে। বাংলার নতুন বর্ষ হাজির। মানুষের হৈ-চৈ, হট্টগোল ছাপিয়ে দূরে কোথাও বেজে উঠলো বাঙালীর অতি পরিচিত একটি সূর, "এসো হে বৈশাখ এসো এসো"।
সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে এই বছরটি শুরু হলো। একটি আশাকে প্রাপ্তিতে রূপান্তরিত করে দিয়ে। এমুহুর্তে মনে হচ্ছে, সংস্কারটি সত্য হলেই ভালো হত। তাহলে এ বছরটা হয়তোবা প্রাপ্তিতে পরিপূর্ণ থাকতো। দূরের এসো হে বৈশাখ-কে ছাপিয়ে আরও দু'টি শব্দ শোনা গেল। না, কেউ চিৎকার করে কিছু বলেনি। দূরের শব্দের চেয়ে কাছের শব্দ বেশী জোরে শোনা যায়। তারমানে শব্দটা পাশ থেকে এসেছে! শব্দটা-যে পাশ থেকেই এসেছে, সেটা নিশ্চিত করতেই যেন আরেকবার বলে উঠলো, "শুভ নববর্ষ!"
[কাল্পনিক মস্তিষ্কের অবদান]
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১১ রাত ৯:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



