somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুষারের দেশে, আমার এক একটা দিন- ষষ্ঠ পর্ব

১৬ ই নভেম্বর, ২০১২ সকাল ৭:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আগেরটা পড়তে চাইলে - তুষারের দেশে, আমার এক একটা দিন


ষষ্ঠ : তুষারের দেশে একলা পথচলা

দেশ থেকে যখন প্রথম এখানে এসেছিলাম, প্রথম কয়েকদিন আমি একটা বাংলাদেশী Family এর সাথে থেকে ছিলাম। যাদের সাথে আমার আগে কোন পরিচয় ছিলনা , তবু থাকতে দেবার মতো এতো বড় সাহায্যটুকু , যেন ছিল অপ্রত্যাশিত পাওয়া।

Flat টা বেশ বড় ছিল। তার পর আবার husband পাশের শহরে চাকুরী করতেন। ভদ্রমহিলা কেবল দুটো baby নিয়ে থাকতেন। স্বামী ভদ্রলোক তাই সারা সপ্তাহের খাবারের ব্যবস্থা করে রেখে যেতেন। প্রথম রাতে অন্তত খাবারের কোন চিন্তা করতে হয়নি। তবে কি- এই নতুন শহরে, একা একটা মানুষ কতটুকু অসহায় তা বলে বোঝানো যাবেনা। আর তাই তো রাতে ঘুমবার একটা জায়গার ব্যবস্থা হওয়া ছিল স্বর্গ পাবার মতো। তবে স্বর্গে বুঝি আন্তরিকতা আর বিবেচনা নামক শব্দটার একটু অভাব ছিল।

সেটাই ছিল, আমার প্রথম দেশের বাহিরে আসা। প্রতি মুহূর্তে একজন মানুষকে শুদ্ধ উচ্চারনে appropriate শব্দটা ভাবতে হচ্ছে , কোন কিছু জানতে পাবার আগে, কোন সাহায্য চাইবার আশায়। অথবা খুজতে হচ্ছে কোন পথ যেখানে Transit system, manner , Weather , চলার রীতি-নীতি- সবই যেন অন্যগ্রহের মতো। যখন তার কাছে মনে হতো , পৃথিবীটাই যেন এক গোলোক ধাঁধা। তারপর আবার নানা কারনে, সেসময়ই খুব দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা করতে হয়েছিল একটা থাকার জায়গার।

কোনদিন সকালে হয়তো বের হয়েছি কেবল পাতলা সোয়েটার গায়ে। জানা ছিলনা strong Wind এর জন্য আগের সর্তকীকরন। strong Wind কতোটা strong হতে পারে তা কেবল এইসব মেরু এলাকায় বোঝা যায়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা না থাকলে, এমন দিনে কোন কিছুই করার নেই, ঘরে ফেরা ছাড়া। এসব সমস্যার সম্মুখীন হবার একটাই কারন বাসা খোজা, একা একা।

মনে পরে কোন একদিন, ইউনিভার্সিটির খুব কাছেই একটা বাসা দেখতে যাবার কথা। কোন রকমে বাসা খুজে বের করার পর, আমি আর বাসার ভেতরে ঢোকার সাহস পাইনি , কেবল বাড়িওয়ালার মনোভাব (attitude) দেখে। এখন যদিও জানি এদের দেশটা ছোটখাটো কারনে খুবই নিরাপদ, বিশেষ কিছু এলাকা ছাড়া।

আরো একদিন, ঘন্টা খানেক খোজাখুজির পর যখন বাসা পেলাম, দেখি বাড়িওয়ালী চলে গেছেন আমি এপয়েনমেন্ট মিস্‌ করেছি বলে। নতুবা অনেক দুরের পথ পারি দিয়ে গিয়েছি, কোন ঘর দেখতে। যেয়ে দেখি বাসায় সিগারেটের গন্ধে টেকা দায়। নতুবা কুকুর বেড়াল, যাদের আকার আমার কোমড় সমান। কোথাও বাসা পচ্ছন্দ হবার পরের দিন গিয়েছি অগ্রীমের টাকা দিতে। টাকা দেওয়া শেষে কি ভেবে আরেকবার ঘর দেখতে যাবার সময় দেখি অন্যঘর থেকে খালি গায়ে- হাফ প্যান্ট পরা এক ছেলে হাসি মুখে বের হয়ে এলো। পরে জানা গেল, তিনি কোন রুমের বাসিন্দার বয়ফ্রেন্ড। তবে সেক্ষেত্রেও বাড়িওয়ালাটি ছিল অসাধারন, কোন কথা না বাড়িয়ে সে আমার টাকা ফেরত দিয়ে ছিল, আমার থাকতে অসুবিধা হবে জানার পর।

দেশ-কালের ব্যবধান ছাড়াও, যে মেয়ের অবসরটা কেবল কাটিয়েছে মায়ের সাথে রান্না ঘরে। ইংলিশ মুভি, ইন্টারনেটে সারাক্ষন সময় পাড় করে দেওয়া হয়নি কোন দিন। যতটুকু কম্পিউটারের ব্যবহার জানা ছিল তা কেবলই লেখাপড়া নির্ভর। তার কাছে ছোট্ট পৃথিবীটা যেন হঠাৎ করেই মহাবিশ্ব হয়ে সামনে দাড়িয়ে ছিলো সেসময় । মনে হয়েছিল, সে যেন শেষ বিকেলের দিশেহারা এক ঝড়া পাতা যেন ।

পৌছবার পরের দিন সকালে প্রথম ক্লাস, তাই ইউনিতে যেতে হবে একা। জানিনা কোন কিছু, চিনিনা এই শহরকে। ইউনিতে পৌছালাম কোন মতে, হাতে কেবল একটা ম্যাপ। দেখা হলো এক পৌড়ের সাথে, যার বদান্যতায় আমার এই সাতসমুদ্র পাড়ি দেয়া, আমার প্রফেসর। অজানা ভালো লাগায় ভরে গেল মন যখন তিনি জানতে চাইলেন সকল কিছু আন্তরিকতায় । আস্থার আরেক প্রকাশ পরিচয়ের পাঁচমিনিটের মাথায়। নিজের ব্যবহারের ল্যাপটপটা যখন দিলেন সাময়িকভাবে কাজ চালানোর জন্য। মনে পরে, বাংলাদেশে ল্যাবের কম্পিটারের পাসওয়ার্ড পেতেও, আমাকে আগে পাশ করতে হয়েছিল ৩টা থিউরী কোর্স আর থিসিসের শেষভাগে এসে ভাইরাসের কারনে কি সমস্যা হওয়ায় সেই কম্পিউটারটাও ছিল ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া। স্যার আস্থা করতে পারেননি, ইন্টারনেটের পাসওয়ার্ডটি দিতে, ইতিমধ্যে যখন আমার ভর্তির কাগজও হাতে পেয়ে গিয়েছিলাম। আর কত ভাবে আস্থা জয়ের প্রত্যাশা করা যায় একজন মানুষের কাছ থেকে আমার জানা ছিলনা, তাই হয়তো সেদিন থেকে এই পৌড় হয়ে রইলো আমার পৃথিবীর গুটিকতক শ্রোদ্ধাভাজনের মাঝে একজন।

হয়তো এটাও একটা কারন আমার স্বজাতি বিদ্বেষের, আর সাদা চামরা প্রীতির। হ্যা, আমি স্পষ্ট ভাষায় সজাতি বিদ্বেষী, চলার পথে নিজের গোত্রের কারোর সাথে দেখা হয়ে গেলে, অপরপক্ষের পরিচয়ের জন্য আগ্রহ প্রকাশের পর আমার উত্তর কেবলই একটা "ও, আচ্ছা।" তারপরও কোন কথা এলে, কেবল ভেংচি কাটার মতো করে, কৃত্বিম হাসি টেনে রাখা। এর চাইতে একটা শব্দ বেশি ব্যবহারেও আছে আমার অরুচি। অথচ রাস্তায় দাড়ানো কোন বিজাতীয় মানুষের প্রতিও যে সৌজন্যের হাসিটা আমার ঠোটে শোভা পায়, তাতেও আন্তরিকতার ঘাটতি থাকেনা।

এমনি হাজারো কারন আমাকে যেন নিজের অজান্তেই প্রভাবিত করেছিল সেদিন। কোন বিদেশী যেন কোন কারন ছাড়াই আমার সংকোচের ধাপগুলো পার হতে পেরে ছিল অনায়াসে। এ্যলেন এসে ছিল সংস্কারের ঘেরাটোপ থেকে বেড়োনো এক বাঙ্গালী মেয়ের সহানুভূতির ছায়ায়।
[ছবি: নেট থেকে সংগ্রকৃত।]
চলবে....।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১২ সকাল ৮:২৪
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×