
বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং জামাত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট
বিএনপি জোট: ১৪৫-১৭০ আসন
জামাত জোট: ৯০-১১০ আসন
বিএনপি জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি
হাঁ ভোট জিতবে
এনসিপি ১০-১২ টি আসন পেতে পার
সার্বিক বিবেচনায় বিএনপি-জোট খানিকটা এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি, শহরকেন্দ্রিক ভোট এবং বিরোধী রাজনীতির প্রতি জনসমর্থন তাদের সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। এই চার বিভাগ থেকে বিএনপি-জোট বড় সংখ্যক আসন তুলতে পারে। এসব বিবেচনায় বিএনপি-জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৪৫ থেকে ১৭০ টির মধ্যে।
অন্যদিকে জামায়াত-জোট তুলনামূলকভাবে কম আসন পেলেও কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে তারা অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে আছে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা বিভাগে জামায়াতের সংগঠিত ভোটব্যাংক, ধর্মভিত্তিক সমর্থন এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা তাদের এগিয়ে রেখেছে। এই দুই বিভাগ থেকেই জামায়াত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেতে পারে। সামগ্রিকভাবে জামায়াত-জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ধরা হচ্ছে প্রায় ৯০ থেকে ১১০টি।
এছাড়া বরিশাল, খুলনার কিছু এলাকা এবং বড় শহরের কয়েকটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ছোট দলগুলোও প্রভাব ফেলতে পারে। এদের হাতে যেতে পারে আনুমানিক ২০ থেকে ৪০টি আসন, যা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান হিসাব অনুযায়ী বিএনপি-জোট এগিয়ে থাকলেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনও নিশ্চিত নয়। জামায়াত-জোট তুলনামূলক কম আসন পেয়েও “কিংমেকার” ভূমিকায় চলে আসতে পারে। শেষ পর্যন্ত ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি, অনির্ধারিত ভোট এবং রাজনৈতিক সমঝোতাই ঠিক করে দেবে কে বসবে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে।
এনসিপির সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীরা: কারা এগিয়ে আছেন?
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে এনসিপি (শাপলা কলি প্রতীক)। বড় দুই জোটের বাইরে দাঁড়িয়ে দলটি তরুণ ভোটার, শহুরে মধ্যবিত্ত এবং পরিবর্তনমুখী জনগোষ্ঠীর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন জরিপ, মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—এনসিপির কয়েকজন প্রার্থী বাস্তবিক অর্থেই জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন।
রাজধানী ঢাকায় এনসিপির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ঢাকা–১১ আসনে নাহিদ ইসলামকে ঘিরে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অন্যতম মুখ এবং এলাকাটিতে তরুণ ও সচেতন ভোটারের মধ্যে তার পরিচিতি তুলনামূলকভাবে বেশি। একইভাবে ঢাকা–৮ আসনে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী শহুরে শিক্ষিত ভোটার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় সমর্থনের কারণে শক্ত অবস্থানে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকার বাইরে উত্তরাঞ্চলে রংপুর–৪ আসনে আখতার হোসেন এনসিপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ঐ এলাকায় ঐতিহ্যগতভাবে শক্ত দলগুলোর মধ্যে ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এনসিপির প্রার্থী সুবিধা নিতে পারেন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে চট্টগ্রাম–৮ আসনে জুবায়েরুল হাসান আরিফ তিনমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগে “ডার্ক হর্স” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নোয়াখালী–২ আসনে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া এবং মধ্যাঞ্চলে কুমিল্লা অঞ্চলের কিছু আসনে আলোচিত এনসিপি প্রার্থীরা স্থানীয় পরিচিতি ও সংগঠনের শক্তির কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে পারেন। এছাড়া খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কয়েকটি আসনে এনসিপির প্রার্থীরা বড় দলগুলোর ভোট বিভাজনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এনসিপি এবার হয়তো ব্যাপক আসন জিতবে না, কিন্তু ৮–১০টি আসনে শক্তভাবে এবং আরও কয়েকটি আসনে চমক সৃষ্টি করার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাব্য বিজয়ীরাই ভবিষ্যতে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


