somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে পারেন, সেটাই হবে আপনার প্রকৃত নাগরিক অবস্থান। দলের সাতখুন মাফ- মানসিকতা যদি পোষণ করেন, তাহলে আপনি দেশের জন্য রাষ্ট্রের জন্য হুমকি, আপনি মানুষ নামের একটা আপদ জাস্ট!
তারেক রহমানের ইশতেহার থেকে কী কী জানলাম বুঝলাম এবং কোনটা পছন্দ এবং অপছন্দ করলাম তা নিচে তুলে ধরছি—

১.
ফ্রি ওয়াইফাই। ফ্রি ওয়াইফাই সেইফ না, ডাটা লিক হয়, হ্যাক হয়। ফ্রি ওয়াইফাইতে যে এ্যাড দেখানো হবে সে এ্যাডগুলো স্প্যাম এবং ভালগারিটি ছড়াবে। এটা কোন কাজের কথা না, এই লোভ দিয়ে ইয়াংদের টানার সুযোগ নেই, বরং বলতে পারতেন মোবাইল বিল, ওয়াইফাই বিল, ডাটার মূল্য ইত্যাদি কমাবেন।
তাহলে কিছু ইয়াং ভোটার আপনার দিকে অবশ্যই ঝুঁকত।

২.
ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব। এটা আরো অকার্যকর একটা পলিসি হবে। সবারই এন্ড্রয়েড ফোন আছে, কমিউনিকেশন ভিডিও কনফারেন্স এসব নিজের ফোন থেকেই যেকেউ করতে পারে। এরজন্য আলাদাভাবে ট্যাব লাগে না। ট্যাব দিলে খরচটা বৃথা যাবে কেননা এই ট্যাব ওই টিচারের ছোট্ট সন্তান বা নাতি নাতনীর গেইমস খেলা ছাড়া আর কোন কাজে লাগবে না। এই বিষয়টা ধরতে পেরেই এখন এমএফএস থেকে শুরু করে সিম বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোও ট্যাব দেওয়া বন্ধ করেছে। পুরোটাই অপচয় প্রোজেক্ট। এরচেয়ে জরুরি ছিল প্রতিটা টিটারকে স্পোকেন ইংলিশের ট্রেইনিং দেওয়া, সঠিক উচ্চারণের ট্রেইনিং দেওয়া, সঠিক ইকুইপমেন্ট ব্যবহারের ট্রেইনিং দেওয়া।

৩.
স্বাস্থ্য খাতে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, এরা বাসায় বাসায় গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসবে বা সচেতনতা সৃষ্টি করতে কাজ করবে। এটিও ভুল প্রোজেক্ট। মানুষ মোবাইল ইন্টারনেটের যুগে এসে এসব সচেতনতা নিজেরাই বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক এ্যাড দেখে, গুগল ঘেঁটে বের করতে পারে। আপনি ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ করার পদক্ষেপ নেবেন না, নর্দমা পরিস্কারের পদক্ষেপ নেবেন না, ডাস্টবিন পরিস্কারের পদক্ষেপ নেবেন না, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা নিয়ে বসবাস করতে বাধ্য থাকা জনগণকে আপনি ঘরে ঘরে একেকজন স্বাস্থ্যকর্মী বসিয়ে পাহাড়া দিলেও বা লাভ কী? বরংচ আপনার এই পদক্ষেপে ব্যবসায়ীদের লাভ হবে। কী রকম লাভ? আপনি মশা নিধন না করে মশার কামড়ের অপকারিতা সম্পর্কে স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে ভাষণ দেওয়ায়ে মশার কয়েল, এরোসল বিক্রিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন, বিশুদ্ধ পানির বোতলের বিক্রি বাড়াতে পারবেন, ফ্রোজেন ফুডের বিক্রি বাড়াতে পারবেন, ও হ্যাঁ, উন্নত তেল হিসেবে রাইস ব্রায়ান অয়েল বা সূর্যমুখীর তেল বিক্রি বাড়াতে পারবেন। হাসপাতালের ওপর চাপ কমানোর কথা না বলে হাসপাতালকে আরো উন্নত কেমনে করা যায় সেটা নিয়ে কথা বললে বরং ভালো করতেন।

৪.
প্রাইভেট পার্টনারশিপ হসপিটালের কথা বলা হচ্ছে, রোগীর চাপ বেশি হলে সামলানোর জন্য প্রাইভেট হসপিটালে পাঠানোর প্রস্তাব! এটা আরো বড় দুর্নীতির সুযোগ বাড়াবে, রোগীরও ভোগান্তি বাড়াবে। রোগীকে সিরিয়াল ধরে তো ঠিকই কাউন্টার পর্যন্ত যেতে হবে, তার কী সমস্যা বলার পর তখন সরকারি হাসপাতাল তাদের রোগ অনুযায়ী আলাদা লাইনে দাঁড় করাবে, এরপর টোকেন দিয়ে পাশের হাসপাতালে পাঠাবে, বিষয়টা সহজ না জটিল? এবং প্রাইভেট হাসপাতালে আপনি নার্সের বকশিস না দিয়ে পারবেন?? হাসপাতালে যাবার গাড়িভাড়া?? খরচ আরো বাড়বে রোগীর। ওদিকে সরকারি হাসপাতালের লাটেরা তখন আর নিজেরা চাপ নেবার চাইতে রোগী ট্রান্সফারেই বেশি আগ্রহী হবে। তাই না????

৫.
সশস্ত্র বাহিনীর রাজনীতি সংশ্লিষ্টতা বন্ধের প্রস্তাবটি চমৎকার। অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রে ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন পলিসিটাও প্রশংসাযোগ্য।

৬.
ফরেইন পলিসি নিয়ে কোন সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আইডেন্টিফাইড হয়নি।

৭.
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যাপারে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ পরিকল্পনা দেখাতে পারেননি।

৮.
আন্তর্জাতিক পানিবণ্টন নিয়েও কোন কার্যকরী পরিকল্পনা দেখা গেল না। ৭৫ বছর ধরে আলোচনা করেও কোন ফায়দা হয়নি, উনি এখন কী এমন আলোচনা করবেন যাতে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে??

৯.
প্রবাসীদের কল্যাণে দূতাবাসগুলো মোর এক্টিভ করা বলতে উনি কী বোঝাতে চেয়েছেন তা সুস্পষ্ট নয়। অলরেডি প্রবাসীদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এই দূতাবাসের লাটসম্প্রদায় এর কোন জবাবদিহিতা কখনই দেখা যায়নি।

১০.
নারী-পুরুষ বেতনবৈষম্য নিরসনের প্রস্তাবটি ভালো।

১১.
প্রবাসীদের আলাদা স্মার্ট কার্ড করার প্রস্তাবটি প্রশংসাযোগ্য। রেমিট্যান্স প্রণোদনা অলরেডি আছে, উনি আলাদা করে নতুন কী প্রণোদনা দেবেন তা বিশদভাবে জানতে পারলাম না।

১২.
পাঁচ বছরে পঁচিশ কোটি বৃক্ষরোপণের প্রস্তাবটি ভালো, পঁচিশ কোটি না হোক, এক কোটি গাছ লাগানো হলেও আমি খুশি। সৌরবিদ্যুতের দিকে গুরুত্ব দেবার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনেক উন্নত দেশই সোলার এনার্জি কাজে লাগাচ্ছে, সফল হচ্ছে, কিন্তু আমাদের দেশে ওয়েটসেল ব্যাটারি নির্ভর সোলার সিস্টেমের মত ভোগান্তি লালন করাই যদি পরিকল্পনা হয়, তাহলে এতে আমি আপত্তি পোষণ করছি।

১৩.
কার্বন ট্রেডিং মার্কেট গঠনের প্রস্তাব ভালোই, তবে এটা আমার মতের সাথে মেলে না। আমার কাছে এরচেয়ে বেটার প্ল্যান আছে।

১৪.
3R কনসেপ্টটি প্রশংসাযোগ্য।

১৫.
অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার নিয়ে প্রস্তাবনাটি প্রশংসাযোগ্য।

১৬.
কর্মসংস্থানের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো মডেল তৈরি হয়েছে কি না স্পষ্ট করা হয়নি।

১৭.
বিদেশি বিনিয়োগের প্রতি ক্যাপ্টেন নিয়োগের প্রস্তাবটিও ভালো। বিনিয়োগের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহন করতে চেয়েছেন, অর্থাৎ এটা নিয়ে এখনও কাজ চলছে।

১৮.
লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজকরণের প্রস্তাবটি ভালো। প্রতি লাইসেন্সে ক্ষেত্রবিশেষে দেড় হাজার থেকে যে দশ হাজার ঘুষ দেওয়া লাগে, সেটার একটা ভাউচার প্রণয়ন করা হোক।

১৯.
রফতানি শিল্পের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাবটি ভালো।

২০.
ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করার কথা বলছেন, অথচ উনার দলের মেজরিটিই ব্যাংকখেকো কুমির, অতএব, প্রস্তাবটি বাস্তবতাসম্মত না।

২১.
শিল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাবটি ভালো। দেশীয় ব্র্যান্ডের বিশ্বায়ন প্রস্তাবটিও ভালো।

২২.
কৃষিখাত ও খাদ্যখাত নিয়ে কোন কিছুই পেলাম না।

২৩.
রেলপথ ও নৌপথ প্রস্তাবটি ভালো। সাইবার সিকিউরিটি প্রস্তাবটিও ভালো।

২৪.
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে এবার আর কিছু বলেননি দেখে ভালো লাগছে।

২৫.
ঢাকা বিকেন্দ্রীকরণের প্রস্তাবটি ভালো।

২৬.
ট্যুরিজমের প্রস্তাবটিও ভালো। তবে বেনজিরের দখল করা শত শত একর জমি এরকম আরো যত পলিটিক্যাল জমি আছে সব সরকার বাজেয়াপ্ত করে ইকোপার্ক তৈরি করলে সাধুবাদ জানাবো!

২৭.
চাঁদাবাজ নিয়ন্ত্রণ ও ঋণখেলাপীদের নিয়ে কোন কথাই পেলাম না।

২৮.
এয়ারলাইন্স ক্ষেত্রে কম্পিটিশন বাড়ানোর প্রস্তাবটি ভালো।

২৯.
ক্রীড়া সেক্টর নিয়ে প্রস্তাবটি ভালো।

৩০.
সাংবাদিক ও মিডিয়ার স্বাধীনতা যেমন দরকার, তেমনি সাংবাদিকদের উস্কানিমূলক হেডলাইন এবং কখনও কখনও বানোয়াট নিউজ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও কড়া শাস্তির বিধান চাইবো।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৬
৩টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×