
আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায় ওষুধের যে দোকান গুলো আছে, বেশির ভাগই ছোট ছোট। সব ওষুধ পাওয়াও যায় না। যাইহোক, সেই দোকানে কন্যাকে নিয়ে যাই। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। বড় বড় দোকানে ফারাজা আগ্রহ নিয়ে যায়। দোকানের মালিককে আমি চিনি। মোনা ভাই। সহজ সরল ভালো মানুষ। সরকারের সমস্ত নিয়ম কানুন মেনেই উনি ফার্মেসী দিয়েছেন। উনি বলেন, আমি ফার্মেসী ব্যবসা লাভের আশায় দেইনি। মানুষের সেবা করার জন্য দিয়েছি। আমাদের এলাকার সবাই খুশি যাক বড় একটা ফার্মেসী হয়েছে!
গতকাল মোনা ভাইয়ের ফার্মেসীতে ম্যাজিস্ট্রেট এসেছেন।
সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট। উনি এসে দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। কারণ ট্রেড লাইসেন্স আর ড্রাগ লাইসেন্সে এ ঠিকানা কিছুটা ভুল আছে। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবা অনেক খোজাখুজি করেও ডেট এক্সপায়ার মেডিসিন পায়নি। সেই মহিলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রচন্ড রাগী। ব্যবহার খারাপ করছেন। ধমক ছাড়া কথাই বলতে পারেন না। ম্যাজিস্ট্রেট হলে- কি ধমক দিয়ে কথা বলতে হয়? রাগ তেজ দেখাতে হয়? খারাপ ব্যবহার করতে হয়? ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবাকে আমার বলতে ইচ্ছা করলো- ম্যাডাম শান্ত হয়ে বসুন তো। দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন, ভালো করেছেন। আরো বেশি করা উচিত ছিলো। আসুন অফিস রুমে। শান্ত হয়ে বসুন। এক কাপ চা খান। ভালো লাগবে। সর্ব্বোপরি আপনি তো একজন মানুষ। আপনার স্বামী আছে। পুত্র কন্যা আছে।
ম্যাজিস্ট্রেট চায়ে চুমুক দিবে-
তখন আমি বলব, ম্যাডাম আপনি তো সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট, ভোক্তা অধিকারের না। আপনি ট্রেড লাইসেন্স দেখবেন সেটা ঠিক আছে। ওষুধের ডেট এক্সপারি তো দেখা আপনার কাজ না। যাইহোক, মহিলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে মনে হলো- উনার অনেক তাড়াহুড়া। আরো অনেক দোকানে যেতে হবে। অনেক টাকা জরিমানা করতে হবে। আসলে এই মহিলা এসেছিলেন, মোনা ভাইয়ের ফার্মেসীর পাশের রেস্টুরেন্টে জরিমানা করতে। রেস্টুরেন্টে জরিমানা করে, ফার্মেসীতে ঢুকে গেছেন। ইদের আগে আগে আমাদের দেশের সরকারি লোকজন খুব কাজ দেখায়। গ্যাস লাইন কেটে দিবে, বিদ্যুৎ কেটে দিবে। রাস্তায় বাইক, সিএনজি, গাড়ি আর বাস দেখলেই, ট্রাফিক থামাবে। জরিমানা বা মামলা করবে। সারা বছর এদের কোনো খোজ খবর পাওয়া যায় না। ইদের আগেই কেন তারা এত তৎপর? সারা বছর তাদের কাজ অব্যহত রাখা উচিৎ।
ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রট হওয়া মুখের কথা না।
পড়তে পড়তে জীবনটা কয়লা বানিয়ে ফেলতে হয়। ম্যাজিস্ট্রেটদের অনেক ক্ষমতা। এই যে নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করবেন। যদি নির্বাচন কেন্দ্রে ঝামেলা হয়, তাহলে একজন ম্যাজিস্ট্রেট গুলি করার হুকুমও দিতে পারবেন। যাইহোক, ম্যাজিস্ট্রেট কেন সিএনজি চালকদের মিটারে যেতে বলে না? ম্যাজিস্ট্রেটরা কেন বাসওয়ালাদের যত্রত্ত্র বাস থামানো বন্ধ করতে বলে না? ম্যাজিস্ট্রেটরা কেন ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বলে না? ম্যাজিস্ট্রেটরা কেন এলাকার কিশোর গ্যাংদের থামায় না? ম্যাজিস্ট্রেটরা কেন বখাটেদের সাইজ করে না? ম্যাজিস্ট্রটরা কেন সুরকারি হাসপাতাল থেকে দালালদের তাড়ায় না? এসব করলে সমাজের উপকার হতো। মানুষের জীবনযাত্রা সহজ সুন্দর ও নিরাপদ হতো।
কয়েকদিন পর নির্বাচন।
সারা দেশে ১০৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একটি জেলার প্রশাসনিকের অধীনে আইন শৃঙ্খলা, কৃষি ব্যবস্থা এবং সরকারি সমস্ত প্রকল্প ও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলি ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে থাকে। ম্যাজিস্ট্রেট হতে হলে, গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে, বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার উন্নীত হতে হয়। জুড়িশিয়াল বা বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট হতে হলে- আইন বিষয়ে পড়াশোনা করতে হয়। এক্সিকিউটিভ বা নির্বাহী হতে হলে যে কোন বিষয়ে পড়াশোনা করলে হবে। আমার কন্যা ফারাজা কি ম্যাজিস্ট্রেট হতে পারবে? আমি যদি বলি, ফারাজা মন দিয়ে লেখাপড়া করো। তোমাকে ম্যাজিস্ট্রেট হতে হইবে। ইহা কি অন্যায় হইবে?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



