somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে: আর তারা শুধু অনুমান ভিত্তিক কথা বলে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৬। দ্বীনের মধ্যে কোন জবরদস্তি নেই। নিশ্চয়ই ভ্রন্তি খেকে সঠিক পথ প্রকাশ হয়েছে। অতএব যে লোক তাগুতের বিরোধিতা করবে এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে সে দৃঢ়তর রজ্জুকে শক্ত করে ধরলো যা কখনো ছিঁড়ে যাবে না এবং আল্লাহ হলেন সর্বশ্রোতা মহাজ্ঞানী।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান পরকালের কল্যাণ। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৬৮। আল্লাহর পূর্ব বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ সেজন্য তোমরা মহাশাস্তিতে আক্রান্ত হতে।
৬৯। যুদ্ধে যা লাভ করেছ তা’ বৈধ ও উত্তম বলে ভোগ কর। আর আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

* গণতন্ত্রে সংখ্যা গরিষ্ঠের মত সংখ্যা লঘিষ্টের উপর জবরদস্তি চাপিয়ে দেওয়া হয়।ইসলাম এটা অনুমোদন করে না। বদর বন্দ্বী বিষয়ে রাসূল (সা.) সংখ্যা গরিষ্ঠের মত একজনের মতের উপর চাপিয়ে ছিলেন।আল্লাহ এর সমালোচনা করেছেন। উচিত কাজে ইসলামে একজনের মতও গৃহিত হতে পারে।আর অনুচিত কাজে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতও ইসলামে গৃহিত হয় না। আর শরিয়া বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমত চালাতে সকল পক্ষের মত লাগে। সেজন্য রাসূল (সা.)মদীনা সনদে মদীনার ইহুদী ও খ্রিস্টানের সম্মতি নিয়েছেন।মোহাজির প্রধান মহানবির (সা.) আনুগত্য স্বীকার করেছে মদীনার বড় দুটি গুষ্ঠি আউস ও খাজরাস। সেহিসাবে তিনি মদীনার সংখ্যাগরিষ্ঠের নেতা ছিলেন। সংখ্যা গরিষ্ঠতার জোরে তিনি তাঁর ইসলামী হুকুমত মদীনার সংখ্যা লঘিষ্ঠ ইহুদী খ্রিস্টানদের উপর চাপিয়ে দেননি। তিনি মদীনার শাসনতন্ত্র মদীনা সনদে ইহুদী ও খ্রিস্টানদের সম্মতি স্বাক্ষর নিয়েছেন। বাংলাদেশে শরিয়া আইন চালু করতে বাংলাদেশ সনদে বাংলাদেশের সকল পক্ষের সম্মতি স্বাক্ষর লাগবে। বাংলাদেশ সনদে বাংলাদেশের হিন্দু, খ্রিস্টান ও বোদ্ধদের সম্মতি গ্রহণ করে বাংলাদেশে শরিয়া আইন চালাতে হবে।যিনি শরিয়া আইনের শাসক হবেন তাঁর পক্ষে মুসলিম সকল পক্ষেরও সম্মতি লাগবে। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) হযরত ইমাম হাসানের (রা.) জবরদস্তি সম্মতিতে তাঁর ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইমাম হাসান (রা.) যুদ্ধ এড়াতে এ ক্ষেত্রে সম্মতি প্রদান করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) আমিরুল মুমিনিন স্বীকার করেননি। তাঁরা তাকে বাদশা স্বীকার করতেন।ইমাম হাসানের (রা.) জবরদস্তি সম্মতির পূর্ব পর্যন্ত ইসলামী হুকুমত ছিল। হেজাজে হযরত আলীর (রা.) বিরোধীতা হযরত আয়েশা (রা.) তাঁর ভুল হিসাবে মেনে নেওয়ায় হযরত আলীর (রা.) খেলাফত ইসলামী হুকুমত ছিল। একই কাজে হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ভুল স্বীকার না করলেও তাঁর কাজ ভুল সাব্যস্ত হয়ে হযরত আলীর (রা.) খেলাফত সঠিক সাব্যস্ত হবে। সিরিয়ায় হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) শাসন হযরত আলী (রা.) যুদ্ধ এড়াতে মেনে নেওয়ায় তখনও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) শাসন ইসলামী হুকুমত ছিল না। জবরদস্তি ইসলামী হুকুমত হয় না বিধায় রাসূলের (সা.) দশ বছর ও খোলাফায়ে রাশেদার ত্রিশ বছর ইসলামী হুকুমত ছিল। বাংলাদেশেও কোন পক্ষের উপর কোন রকম জবরদস্তি ছাড়া শরিয়া আইন চালানো গেলে তবেই এখানে শরিয়া আইন চালানো যাবে। শরিয়া আইন চালু হওয়ার পর একজনের মতের উচিত কাজও সকলের উপর চালানো যাবে এবং সকলের অনুচিত কাজ একজনের উপর চালানো যাবে না। শরিয়া আইনের ইসলামী হুকুমত এরকমই।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×