somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনার পাশের মানুষটি কেমন আছেন??

০৭ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"তুমি ভালো আছ?? সব ঠিক আছে তো??"
কালে ভদ্রে শত্রুকেও এমন প্রশ্ন করে চমকে দিতে হয়। এই চমকে দেওয়ার হিম্মত সবার থাকে না। আমরা ইগোর যুদ্ধে এতোটাই ক্লান্ত যে খুব কাছের মানুষটার খোঁজই নেওয়ার সময় পাই না। শত্রুর খোঁজ নেওয়া তো দূর কি বাত। আমরা একই চালার নিচে ঘুমাই, একই হাঁড়ির ভাত খাই। কিন্তু খুব কমই কাছের মানুষ গুলোর মনের খোঁজ রাখি। নাগরিক সভ্যতা বাড়ছে, মানুষের আবেগের দাম কমছে, আবেগ আজ কাল ব্যবসার নিয়ামক হয়ে গেছে। দিন যত যাচ্ছে আমরা একজন থেকে একজন ততোই দূরে সরে যাচ্ছি। একই মায়ের পেটে জন্ম নিয়েও ভাই বোনের মাঝে বোঝা পড়ার কত বিস্তর ফারাক। যদা দং হৃদয়ং তব, তদুস্তং হৃদয়ং মাম, কবুল কবুল বলেও আমরা একে অপরের সাথে শুধু স্রেফ ঘুমাই। কিন্তু একজন আরেক জনের মনের অলিগলি তো দূরের কথা, শরীরের ভাজ গুলোও ঠিকঠাক চিনি না। কিন্তু কেন????
সুমি আপু আত্মহত্যা করেছেন। শুনে কষ্ট পেলাম। তার থেকেও বেশি কষ্ট পেলাম তার আত্মহত্যার কারণ জানতে পেরে। জীবন কি এতোই সস্তা?? রোজ কত কত অপমৃত্যু হয়, কত কত মানুষ অপঘাতে মারা যায়। কেউ যুদ্ধের বলি হচ্ছে, কেউ বয়সের বলি হচ্ছে, কেউ হিংসার বলি হচ্ছে। এর মাঝে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখাটাই তো ক্রেডিট। মৃত্যুর এই মিছিলে গা ভাসিয়ে দেওয়াটায় কৃতিত্ব কোথায় বোন??
*
জানি প্রশ্নটা খুব অবান্তর। তার পরেও যদি আমার বংশের কেউকে প্রশ্ন করা হয়-" আপনার পরিবারের বাইরে একজনের নাম বলেন যাকে আপনি সব থেকে বেশি ভালোবাসেন'। আমার বিশ্বাস প্রায় সবাই এক শব্দে বলবে "সুমন", আমার নাতী, আমার মামা, আমার ভাগ্নে, আমার চাচ্চু, আমার খালাতো ভাই, আমার বন্ধু, আমার দেবর, আমার শ্যালক। উত্তর গুলো প্রায় এই ধরনেরই হবে।
আমার বংশে আমাকে নিয়ে অনেক অভিযোগ আছে। যথা- বড়দের কথা মানে না, নিজের খেয়াল খুশি মত চলে, মুখে মুখে তর্ক করে, ঠোঁট কাটা স্বভাবের, খারাপ ছাত্র, অলস, বেশি বোঝে। এতো এতো অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা আমাকেই বেশি ভালোবাসে। এটাই হল পরিবার বা আত্মীয়তার সম্পর্ক।
এই যে সবাই ভালোবাসে নিশ্চয়ই এর পেছনে কারণও আছে। যদিও পরিবারের ভালোবাসার জন্য কারণ লাগে না। শুনলে হয়তো একটু অবাকই হবেন যে, আমি আমার মায়ের নানু বাড়ির আত্মীয় থেকে শুরু করে আমার খালাতো বোনের মেয়ের শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়দের খবর পর্যন্ত রাখি। আমাদের আত্মীয়দের মাঝে এখনো ছয় প্রজন্ম বেঁচে আছে। জাস্ট ভাবুন এই ছয় প্রজন্মের আত্মীয়ের ব্যাপ্তি কত বেশি হতে পারে। মায়ের চাচাত ভাইবোন, খালাতো ভাই বোন, নিজের কাজিন, কাজিনের মেয়েরে শ্বশুরবাড়ি, তাদের বাচ্চা কাচ্চা সবার খোঁজ আমি রাখি এবং এটাকে দায়িত্ব বলেই মনে করি।
আমার নিজের কাজিনরা তো বটেই এমন কি তাদের পরিবারের সবাই ও আমাকে পছন্দ করে। এর মূলে কারণ একটাই আমি সময় পেলেই সবার খোঁজ নেই। জাস্ট এতটুকু। যদিও আমি এই অভ্যাস আয়ত্ত করেছি আমার মায়ের কাছ থেকে। ঘর, সংসার, অফিস, পার্টি, ক্লাব, সোসাইটি এতো কিছু মেইন্টেইন করে কি করে সব থেকে গরীব আত্মীয় থকে সব থেকে ধনী আত্মীয়টির খোঁজ নিতে হয় তার উৎকৃষ্ট প্রমান আমার মা।
*
কি সমস্যা পাশের মানুষটিকে একটু বিশেষ ভাবে সময় দিলে?? কি এমন ক্ষতি হয়ে যায় সবাইকে নিয়ে একটু আমদ ফুর্তি করলে??? মানুষকে কি করে ভালবাসতে হয় সেটাও শিখতে হয়। আমি চাই না আমার ছোট ভাই, আমার সন্তান, আমার ভাগ্নে ভাগ্নিরা ভবিষ্যতে আমার নামে কমপ্লেইন করুক যে- আমি তাদের বিষয়ে উদাসীন। আশা করি সে সুযোগ তারা কখনোই পাবে না।
প্লিজ পাশের মানুষ গুলোর খোঁজ রাখুন। সভ্যতার এই ইতিহাস তো ব্যস্ততাত ইতিহাসই। এর মাঝে কয়জন মানুষ পারে বলুন বোহেমিয়ান হতে?? সেই ব্যস্ততার ভিড়ে নিজেকে ব্যস্ত করে তোলা খুব মামুলি ব্যাপার ভাই। কিন্তু এতো ব্যস্ততার মাঝে সবার খোঁজ খবর নেওয়াটাই অনন্যতা। এটা সবাই পারে না।
সুমি আপু আত্ম হত্যা করল, দীপন ভাই বসুন্ধরার সাত তলা থেকে লাফ দিয়ে মারা গেল, নোমান আত্মহত্যা করল বিষ খেয়ে। এগুলো কি স্রেফ আত্মহত্যা??? আমি কিন্তু বলব এগুলো হত্যা। আমি আপনি এতোটাই ব্যস্ত যে এদের প্রাপ্য ভালোবাসা না দিয়ে এদের মেরে ফেলেছি। প্লিজ নিজের কাছের মানুষ গুলোর খোঁজ নিন। এটা খুব কঠিন কাজ না। কিন্তু এর মূল্য অসীম। স্বর্গও যার কাছে কিছু না।
**** প্রতিটি হৃদয়ে প্রেম নেমে আসুক।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:৪১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩


হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×