আমার এক দূরসম্পর্কের আত্মীয় ইউট্রাস ক্যান্সার নিয়ে ৯৩ বছরে মৃত্যু বরণ করেন। সেই ২০ বছরে প্রথম সন্তান জন্ম হওয়ার পরে ইনফেকশন শুরু হয়। এর পর কেটে গেছে এতো গুলো বছর। এর মাঝে চলেছে ঘর সংসার, সন্তান উৎপাদন, সব কিছু। চল্লিশের কোঠায় এসে পরিনাম আরও ভয়াবহ হয়। কাশি দিলে জরায়ু বেড়িয়ে আসত। হাত দিয়ে সেটা আবার ভেতরে ঢুকিয়ে দিতেন। ধিরে ধিরে সেটা রুপ নিল জটিল ক্যান্সারে। তার মৃত্যুর পরে আমি এতটুকুই জানতে পেরেছিলাম।
কথা গুলো যে বড় লজ্জার। এগুলো কি আর সবাইকে বলা যায়??
কথাগুলো শোনার পরে আমি স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলাম। প্রতিটি নারী তা হলে কত কষ্ট করে এই জিনিসটি সংরক্ষন করেন। মাঝে মাঝেই আমি কল্পনা করার চেষ্টা করি বিষয়টা আসলে কেমন? কিন্তু এটা আমার কল্পনার অতীত। চোখের সামনে একটা অস্পষ্ট বিষয় ভেসে ওঠে। এটা এমন একটি জিনিস যেখানে উৎপত্তি হয়েছে পৃথিবীর সকল মহাপুরুষের। উৎপত্তি হয়েছে সকল কাপুরুষের।
মাঝে মাঝেই দেখি জরায়ু নিয়ে ছেলেদের ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ। মেয়ে মানুষ, বীরাঙ্গনা, ধর্ষণ, ইউট্রাস এই শব্দগুলোকে সেক্স টনিক বা যৌন উত্তেজক শব্দ হিসেবে এরা ব্যাবহার করে। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের লেকচার থেকে এরা খুঁজে নেয় বীরাঙ্গনা শব্দটিকে। লিঙ্গের সাথে লিঙ্গ ঘর্ষণের মত সুখ তারা উপভোগ করে তাদের চোখ, মুখ আর বিকৃত মন দিয়ে। কিন্তু বিষয়টা যে কত কষ্টের কত কঠিন সেটা এরা বুঝতে পারে না।
জরায়ুর ক্যান্সার একটি ভয়াবহ রোগ। কিন্তু এখনো প্রকাশ্যে বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ শুরু হয়নি। কিছুদিন যাবত নারীর ঋতুস্রাব নিয়ে ছেলেদের খুব ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ লক্ষ করেছি। এদের কথা বাত্রায় একটি বিষয় খুব স্পষ্ট তা হল নারীদের এই বিষয় গুলোকে কটাক্ষ করে কিছু লিখলে লাইক বেশি পাওয়া যায়। প্রমান হিসেবে আমি এই জাতীয় কিছু ক্রিয়েটিভ ছেলের নাম তুলে দিতে পারি। তাতে সমস্যার কোন প্রতিকার হবে না। তাই করছি না। এদের আচার ব্যাবহারে একটা বিষয় খুব লক্ষণীয় তা হল, মেয়েদের নিয়ে যৌন উত্তেজক কথা বাত্রা বললে নিজেকে পুরুষ পুরুষ মনে হয়। কিন্তু এরা ভুলে যায় তার মত পুরুষ কিন্তু তার বন্ধুটিও সাজতে চায় যখন প্রসঙ্গ হয় ছেলেটির নিজের বোন/ মা।
নারীর থেকে পুরুষ প্রাকৃতিক ভাবেই অনেক সুরক্ষিত শরীর পেয়েছে। সেই তুলনায় নারীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিৎ। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মেয়েদের ঋতুস্রাব, প্রসব, ধর্ষণ এগুলো এদের কাছে বড় বিনোদনের বিষয়। শিক্ষাটা শুরু হোক পরিবার থেকে। একজন মা'ই পারে একটি সুন্দর সমাজ তৈরি করতে। শুরু হোক নিজের ঘরে। ঘরই সবচেয়ে বড় স্কুল। প্রতিটা মায়েরই উচিৎ তার সন্তানকে শেখান যে, কি করে মেয়েদের সম্মান দিতে হয়।
"ওয়াহিদা বানু" নামের এক মহৎ প্রান মানুষের একটা ইন্টার্ভিউ পড়লাম। তিনি কাজ করে যাচ্ছেন নারীর শারীরিক সুরক্ষার জন্য। তার স্বপ্ন তিনি মৃত্যুর আগে বাংলাদেশের ৪/৫ টাকা দামের স্যানেটারি ন্যাপকিন তৈরি করে যাবেন। তিনি তার সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন। লেখাটা পড়ে আমি অবিভুত হয়েছি। চোখে জল এসেছে।
সেক্স খুব স্বাভাবিক একটা প্রবৃত্তি। বিশেষ কোন নারী দেহের প্রতি আপনার টান থাকবেই। সেটা কিছুটা রোম্যান্টিক, বিনোদন, অনুভবের হবেই। কিন্তু ঋতুস্রাব, ধর্ষণ, প্রসব এগুলো কিন্তু সেক্স না। এগুলোকে সেক্সের সাথে গুলিয়ে ফেলার কোন মানে হয় না। পরিনামে আপনার নিজের পরিবারের মেয়েটিই অনেক বেশি বিপদের মুখে পতিত হবে। তখন আপনার কিছুই করার থাকবে না। কারন আপনিও এই ধর্ষকদের একজন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




