somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আনন্দ কুটুম
দেবার মত তেমন কোন পরিচয় এখনো অর্জন করতে পারিনি। আরও কিছুদিন সময় দিন.।।

যুদ্ধের পথে অগ্রসরগামী একটি দেশ থেকে বলছি।

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রোজ সকালে উঠে পত্রিকা হাতে নিতে আমার ভয় করে। পত্রিকার দিকে তাকাতে বুক কাপে। না জানি কত ভয়ঙ্কর খবরে ঠাঁসা এ কাগজ।
ভারত স্পষ্ট হুঁশিয়ার দিয়েছে ৫ মিনিটের মধ্যে পাকিস্তানকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে দিতে পারে। ভারতীয় সেনারা এখন শুধু মাত্র সরকারের দিকে তাকিয়ে। তার থেকেও ভয়ংকর খবর হল, সাধারণ ভারতীয়দের একটি সিংহভাগ পাকিস্তানকে সবক শেখানোর পক্ষে। ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে মোদী সরকারের উপরে যুদ্ধের অনুমতি চেয়ে রয়েছে তীব্র চাপ।
এদিকে পাকিস্তানও প্রস্তুত ভারতের সাথে যুদ্ধে যেতে। কিন্তু বৈশ্বিক সমিকরন থেকে এটা জানা যায় যে, সামরিক ক্ষেতে পাকিস্তান থেকে ভারতের অবস্থান এগিয়ে। ভারত কাশ্মীর সীমান্তে তার শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। অন্যদিকে চায়না, স্পষ্ট করেই পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছে। যেমন ভাবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় চীন, পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল।
শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশও স্পষ্ট করে ভারতের পক্ষ নিয়েছে। আমেরিকা জানিয়ে দিয়েছে, জঙ্গি দমনে তারা ভারতের সাথে কাধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।
মোদী দাবী করেছে পাকিস্তান অধ্যুষিত বেলুচিস্থানের স্বাধীনতাকামীদের স্বাধীনতা পাওয়া উচিৎ। কিন্তু ভারত অধ্যুষিত জম্বু কাশ্মীরের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে ভারত সব সময়ই নেতিবাচক। অন্যদিকে চীন অধ্যুষিত তিব্বতের স্বাধীনতাকামী সেনাদের দীর্ঘদিন ধরে ভারত তেলে জলে পুষে চলেছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অংশগ্রহণ এবং বিজয় পাকিস্তান কখনো ভুলতে পারেনি। সম্ভবত পারবেও না। পূর্বপাকিস্তান খোয়ানোর সেই বদলা নিতেই পাকিস্তান দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে এসেছে। সম্ভবত সেই সুযোগটাও তারা পেয়ে গেছে এবার।
জম্বু কাশ্মীরের সাধারণ জনগন দীর্ঘ্য দিন স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। গত ৭০ বছরের এই সংগ্রামে পাকিস্তান নানা ভাবেই ঘি ঢেলেছে। পাকিস্তান নানা ভাবে কাশ্মেরী সৈন্যদের সামরিক সাহায্য, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছে। যার ফলে এই সংগ্রাম যতোটা না কাশ্মীরের স্বাধীনতার যুদ্ধ হয়ে উঠেছে, তার থেকেও অধিক প্রকাশ পেয়েছে ভারত পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব।
গত ১৮ তারিখ রাতে কাশ্মীরি সেনাদের আক্রমণে ভারতীয় ১৮ সেনা নিহত হয়েছে। ভারত জুড়ে এখন শোকের মাতম। ভারতের দাবী এই হামলায় পাকিস্তানের মদত রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান ভারতের এই দাবীকে খারিজ করে দিয়েছে।
গত দুই মাসে কাশ্মীরে ঘটে গেছে অনেক কিছু। প্রায় সাত দিনের মত কাশ্মীরি অনেক প্রেস সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জোড় করে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে শোনা যায়। বেছে বেছে প্রেস থেকে মানুষ তুলে নিয়ে গিয়েছে ভারতীয় সন্যরা। পরিকল্পিত ভাবেই সত্য গোপনের এক ধরনের পায়তারা লক্ষণীয় এখানে। কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের প্রায় রাষ্ট্রীয় ভাবেই জঙ্গি বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ঠিক যেভাবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষদের পাকিস্তানীরা জঙ্গি বলেছিল। অনুরুপ ভাবে, বেলুচিস্থানের স্বাধীনতাকামী, এবং তিব্বতের স্বাধীনতাকামীদেরও অধ্যুষিত দুই দেশই জঙ্গি বলেই ডাকে।
যত দিন যাচ্ছে দুটি দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে। নিশ্চই তখন পৃথিবীর অন্য দেশগুলো তখন বসে থাকবে না। তারাও নানা ভাবে মেরুকরণের পথে এগিয়ে যাবে। যেটা কোন মতেই পৃথিবীর জন্য শুভকিছু বয়ে আনবে না।
পাকিস্তান থেকে আমার ভৌগলিক অবস্থান অনেক দূরেই। কিন্তু কাশ্মীরে আক্রমন হলে সেই উত্তাপ আমার শরীরেও লাগবে। বলা হয়ে থাকে পাকিস্থান খুব আনপ্রেডীক্টেবল কান্ট্রি। কখন কি করে বুঝে ওঠা খুব ভার। গত ৭০ বছরে পাকিস্থানের রাজনৈতিক অন্তসাড়শূন্য অগ্রগতি দেখলেই সেটা বোঝা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান অতর্কিত ভাবেই ভারতকে আক্রমণ করে বসে। এবারো যদি এমন কিছু হয় তবে নিশ্চই সেটা পাকিস্তানের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। ভারতের অর্থনীতি ক্ষতগ্রস্থ হলে বাংলাদেশও পার পাবে না। বাংলাদেশকেও মাশুল গুনতে হবে অর্থনৈতিক ভাবে। অন্যদিকে ১৯৭১ সালের ঋণ শোধ করতে বন্ধু রাষ্ট্রের হয়ে যুদ্ধও করতে হতে পারে।
কাশ্মীর একটি নতুন পতাকা চায়। নতুন পতাকা চায় বেলুচিস্থান, তিব্বত। যেভাবে ১৯৭১ সালে আমরা চেয়েছিলাম। যুদ্ধ কোন সমাধানই নয়। একটি যুদ্ধ মানে কত শত প্রাণের বলী সেটা বাংলাদেশিদের থেকে ভালো করে দক্ষিন এশিয়ার আর কেউ জানে না। গত দুই মাসে ভারতীয় সেনাদের হাতে প্রায় ৯০ জন কাশ্মীরি নিহত হয়েছে। কাশ্মীর এখন রক্তাক্ত। সুতরাং বাংলাদেশের উচিৎ হবে হুট হাট করে ভারত বা পাকিস্থানের পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত থেকে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের দাবীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া। সেটা সম্ভব না হলে, পাক-ভারত আলোচনার পথ অগ্রহর করা।
পাকি মরুক বা ভারতীয় মরুক অথবা কাশ্মীরি মরুক, আদতে তো মানুষই মরছে। আর কত এভাবে চলবে?? মানুষ হত্যা বন্ধ কর!!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×