
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য। এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্য থেকে যে ধরনের ফলাফল দেখছি তাতে মনে হচ্ছে ট্রাম্প চাচা ক্ষমতায় আসার পর যে পাগলামি শুরু করেছিলো তার কিছুটা লাগাম টানা যাবে। এটাকে আমি সার্বিকভাবে ইতিবাচক বলে মনে করি। যদিও ট্রাম্প সাহেব আগেই বলে দিয়েছিলো যে ফলাফল তার দলের বিপরীতে গেলে তিনি তার "ভিটো" ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আমিও সে নাটক দেখার প্রত্যাশায় থাকছি।
নির্বাচনের সম্পূর্ণ ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে মোটামুটিভাবে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে যে কংগ্রেসের দুটো কক্ষেই ট্রাম্প চাচার দল বা রিপাবলিকানদের একচ্ছত্র আধিপত্য আর থাকছে না। ২৪- এর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভরাডুবির পর এবার তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে। এর সম্পূর্ণ ক্রেডিট আমেরিকার জনগণেরই প্রাপ্য হলেও মূল দায়/ক্রেডিট ট্রাম্প চাচাকেই দিতে হবে। বলতে গেলে তিনি নিজেই আকাম-কুকাম করে, যুদ্ধ বাঁধিয়ে, দলের ভেতর এক ধরনের এক নায়কতান্ত্রিক পরিস্থিতি তৈরী করে জনগণের বিরাগভাজন হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক মন্দার আঁচ আমেরিকার জনগণও পেয়েছে আর সেটাতে তারা স্বাভাবিকভাবেই খুশি হতে পারছে না। ফলাফল যা হবার তা-ই হচ্ছে। দল হিসেবে আমি ডেমোক্র্যাটদের এজন্য অবশ্য তেমন কোন ক্রেডিট দিতে অপরাগ। আমার মতে তাদের নির্বাচিত সকল প্রতিনিধির উচিত দলগতভাবে হোয়াইট হাউজে গিয়ে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে আসা। দল হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের আমি এখনো বেশ অগোছালোই বলে মনে করি।
এত হতাশার মাঝে একটা খুশির বিষয় হলো অবশেষে এল-সায়ীদ মিশিগান থেকে ইউ.এস. সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তিনি বেশ চড়াই-উৎরাই পার করে সফল হলেন। এজন্য তাকে কনগ্রাচুলেশানস বলতেই হবে। ভাবুনতো সায়দের নিজের দলের (ডেমোক্র্যাট) অপর এক প্রতিদ্বন্দী হেইলি স্টিভেনস যে নিজেও সিনেটর পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলো সে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে নমিনেশন না পাওয়াতে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছিলো। কতটা মত দ্বৈততা বা অপছন্দ হলে নিজের দলের প্রার্থীকে সমর্থন না করে ঐ মহিলা বিরোধী দলের প্রাীর্থকে সমর্থন জানাতে পারে?! ভাবা যায়?! এটাই বোধ করি রাজনীতি বলে যদিও এখানে আদতে কোন নীতি আছে বলে আমার মনে হয় না।
যাইহোক, এবাবেরর আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আপাতত রেজাল্ট দেখে যে কোন রিপাবলিকান সমর্থকের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার কথা। ঠিক যেভাবে ২০২৪ এর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকদের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিলো। এটাকে মন্দের ভালো বলা গেলেও সামনে কি দিন অপেক্ষা করছে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভোটার, মানে কোন দলের সমর্থক নই। আজও মিশ্র ও বিশ্রী ভোট দিয়েছি, মানে এক এক পদে এক এক দলের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি। আর আমার কাছে সেটাকেই সঠিক বলে মনে হয়েছে। তবে নিউ ইয়র্কের বেশীরভাগ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী-ই আমার পছন্দ নয়। ট্রাম্পের প্রার্থীকে সমর্থন না জানাতে গিয়ে এক অপছন্দের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য হয়েছি। সেটাও একটা বিরক্তিকর বিষয়। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পাগলা ষাঁড়কে আগে নিয়ন্ত্রনে আনা। দেখা যাক, ডেমোক্র্যাটরা শেষ পর্যন্ত ষাঁড়ের গলায় রশি পড়াতে পারে কিনা!
পৃথিবীতে যুদ্ধ-বিবাদ বন্ধ হোক। সমস্যার সমাধান আলোচনার টেবিলে হোক। মানুষের মূল্যবান প্রাণ রক্ষা পাক, সবাই ভালো থাকুক এটাইতো চাওয়া!
ছবি কপিরাইট: ইন্সটিঙ্কট ম্যাগাজিন
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




