somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইফতেখার ভূইয়া
সাধারণ একজন মানুষ। বলার মতো বিশেষ কিছু নেই। মনের ভাবনাগুলো তুলে ধরতে চাই। ভালো লাগে কবিতা, লিখা-লিখি আর ছবি তোলা, এইতো! https://prokashoni.net

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য। এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্য থেকে যে ধরনের ফলাফল দেখছি তাতে মনে হচ্ছে ট্রাম্প চাচা ক্ষমতায় আসার পর যে পাগলামি শুরু করেছিলো তার কিছুটা লাগাম টানা যাবে। এটাকে আমি সার্বিকভাবে ইতিবাচক বলে মনে করি। যদিও ট্রাম্প সাহেব আগেই বলে দিয়েছিলো যে ফলাফল তার দলের বিপরীতে গেলে তিনি তার "ভিটো" ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আমিও সে নাটক দেখার প্রত্যাশায় থাকছি।

নির্বাচনের সম্পূর্ণ ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে মোটামুটিভাবে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে যে কংগ্রেসের দুটো কক্ষেই ট্রাম্প চাচার দল বা রিপাবলিকানদের একচ্ছত্র আধিপত্য আর থাকছে না। ২৪- এর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভরাডুবির পর এবার তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে। এর সম্পূর্ণ ক্রেডিট আমেরিকার জনগণেরই প্রাপ্য হলেও মূল দায়/ক্রেডিট ট্রাম্প চাচাকেই দিতে হবে। বলতে গেলে তিনি নিজেই আকাম-কুকাম করে, যুদ্ধ বাঁধিয়ে, দলের ভেতর এক ধরনের এক নায়কতান্ত্রিক পরিস্থিতি তৈরী করে জনগণের বিরাগভাজন হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক মন্দার আঁচ আমেরিকার জনগণও পেয়েছে আর সেটাতে তারা স্বাভাবিকভাবেই খুশি হতে পারছে না। ফলাফল যা হবার তা-ই হচ্ছে। দল হিসেবে আমি ডেমোক্র্যাটদের এজন্য অবশ্য তেমন কোন ক্রেডিট দিতে অপরাগ। আমার মতে তাদের নির্বাচিত সকল প্রতিনিধির উচিত দলগতভাবে হোয়াইট হাউজে গিয়ে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে আসা। দল হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের আমি এখনো বেশ অগোছালোই বলে মনে করি।

এত হতাশার মাঝে একটা খুশির বিষয় হলো অবশেষে এল-সায়ীদ মিশিগান থেকে ইউ.এস. সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তিনি বেশ চড়াই-উৎরাই পার করে সফল হলেন। এজন্য তাকে কনগ্রাচুলেশানস বলতেই হবে। ভাবুনতো সায়দের নিজের দলের (ডেমোক্র্যাট) অপর এক প্রতিদ্বন্দী হেইলি স্টিভেনস যে নিজেও সিনেটর পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলো সে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে নমিনেশন না পাওয়াতে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছিলো। কতটা মত দ্বৈততা বা অপছন্দ হলে নিজের দলের প্রার্থীকে সমর্থন না করে ঐ মহিলা বিরোধী দলের প্রাীর্থকে সমর্থন জানাতে পারে?! ভাবা যায়?! এটাই বোধ করি রাজনীতি বলে যদিও এখানে আদতে কোন নীতি আছে বলে আমার মনে হয় না।

যাইহোক, এবাবেরর আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আপাতত রেজাল্ট দেখে যে কোন রিপাবলিকান সমর্থকের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার কথা। ঠিক যেভাবে ২০২৪ এর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকদের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিলো। এটাকে মন্দের ভালো বলা গেলেও সামনে কি দিন অপেক্ষা করছে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভোটার, মানে কোন দলের সমর্থক নই। আজও মিশ্র ও বিশ্রী ভোট দিয়েছি, মানে এক এক পদে এক এক দলের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি। আর আমার কাছে সেটাকেই সঠিক বলে মনে হয়েছে। তবে নিউ ইয়র্কের বেশীরভাগ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী-ই আমার পছন্দ নয়। ট্রাম্পের প্রার্থীকে সমর্থন না জানাতে গিয়ে এক অপছন্দের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য হয়েছি। সেটাও একটা বিরক্তিকর বিষয়। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পাগলা ষাঁড়কে আগে নিয়ন্ত্রনে আনা। দেখা যাক, ডেমোক্র্যাটরা শেষ পর্যন্ত ষাঁড়ের গলায় রশি পড়াতে পারে কিনা!

পৃথিবীতে যুদ্ধ-বিবাদ বন্ধ হোক। সমস্যার সমাধান আলোচনার টেবিলে হোক। মানুষের মূল্যবান প্রাণ রক্ষা পাক, সবাই ভালো থাকুক এটাইতো চাওয়া!

ছবি কপিরাইট: ইন্সটিঙ্কট ম্যাগাজিন
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×