দাতা আর গ্রহিতার অনুভূতি সম্পূর্ণ উল্টো। দাতার পরিচয়ে আপনার অনুভূতি যদি হয় পূর্ণতার তবে গ্রহীতার পরিচয়ে আমার অনুভূতি ছিল লজ্জার, অপমানের আর ব্যর্থতার।
জীবনের অনেকবার সাহায্যপ্রার্থীর লাইনে আমাকে দাঁড়াতে হইছে। কখনো কয়েক ঘণ্টার জন্য আর কখনো বা সারাদিনের জন্য। কিন্তু ক্ষণিকের এই পরিচয়ের প্রভাব ক্ষণস্থায়ী ছিল না, যা আমার আত্মবিশ্বাসকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে চাইত। খুব প্রার্থনা করতাম ওই পরিচয়ের যেন সাক্ষী না থাকে। তাই পরিচিত চোখের আড়ালে চুপিসারে পেতে চাইতাম দয়ার মহার্ঘ। ভাগ্য মাঝে মাঝে সহায় হত না, ধরা পড়ে যেতাম পরিচিত কারো চোখে। তাই লুকিয়ে বেড়াতে হত সেই মানুষগুলো থেকে যাতে সে আবার মনে করিয়ে না দেয় আমার দুর্বলতা কিংবা গল্পের ছলে উপহাস না করে বসে আমার দারিদ্রতার (Poverty is like a punishment for a crime you didn’t commit)।
আমাদের সময় ফেইসবুক ছিল না, আর ছিল না স্মার্ট ফোন আর DSLR-এর। এখনকার প্রতিজন গ্রহিতার সামনে-পিছে ক্লিক হচ্ছে ৪-৫ টি ক্যামেরা আর সাথে সাথে আপলোড হয়ে যাচ্ছে লক্ষ মানুষের চোখের তৃপ্তিতে। সংবেদনশীল ছবি না হলে এখন মানুষ আর দান করতে চাই না, তাই আমরাও এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছি সেই সব ছবি সংগ্রহে। সাহায্যপ্রার্থীর মাঝে কেউ হয়ত পালিয়ে বেড়াতে চাচ্ছেন এই পরিচয় থেকে, আর তখনি আমরা সেই পরিচয়ে তাঁকে অলঙ্কিত করছি অনেক যত্ন করে।
অন্যের দারিদ্রতাকে পুজি করে আমরা সমাজসেবকের তকমা পাব ঠিকই কিন্তু একি সাথে ধ্বংস করে যাব ঘুরে দাঁড়ানোর অনেকগুলো মানুষের আত্মবিশ্বাস। কাজের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ছবি ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। শুধু পরিমিত ব্যবহারের জন্য অনুরোধ রইলো। আর সংবেদনশীল ছবি নির্ভরশীল দাতাদের বোধদয়ের আশা করছি।
বি দ্রঃ ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠানও আমাদের সমাজে আছে। বিদ্যানন্দ (http://www.facebook.com/Bidyanondo) একটা ভালো উদাহরণ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ৮:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




