আমাদের মা বড় বেশি কষ্টসহিষ্ণু ছিলেন—
তার সাত ছেলে-মেয়েকে মুরগীছানার মতো আগলে রাখতেন
আমরা মায়ের মলিন শাড়ির আঁচলে কপালের ঘাম মুছে
জীবনের সব দুঃখকে সিকেয় তুলে রাখতাম।
অল্প খাবার পরম তৃপ্তিতে ভাগাভাগি করে খেতাম সাত ভাই-বোন
সে সময়টা ছিল আমার কাছে এক আনন্দের সময়—
সদ্য কৈশোর পেরুনো আমি পড়ার ফাঁকে ফাঁকে পার্ট পাইম কাজ করতাম
যেন সংসারের হাল ধরার পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছি।
সে সময়টাও আমার কাছে পরম আনন্দের এক সময় ছিল—
আমাদের ছোট খাট অপরাধের কারণে—মা আমার অনেক সময়
বাবার হাতে চড় থাপ্পড় খেয়ে নীবরে সহ্য করতেন
ঝিনুক যেমন নীরবে সয়ে যায়, তেমনি সেও সয়ে যেতে যেতে
এখন তার বাধ্যর্কের বয়সসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
তার সবচে দুষ্ট ছেলেটি সবাইকে পেছন ফেলে নো ফেরায় গত হয়েছে
বাকি সবাই যে যার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে দেশ-দেশান্তরে
যেন বন্দি কবুতর খাঁচা ছেড়ে উড়ে গেছে মুক্ত আকাশে
মা আমার এখন একা—বড়বেশি একাকী কাটান
তার জীবনের সেই কোলাহল, সেই দারিদ্র্য, সেই শূন্যতা চলে গ্যাছে
এখন তার কাঁধে অন্য রকমের শূন্যতা ভর করেছে।
সেই দারিদ্র দূর হয়েছে, সেই কোলাহল উবে গেছে,
সেই অনাহারী বেদনা তাকে আর ভর করে না।
তাহলে মা আমার এতো সুখেও মলিন কেন?
এতো প্রাচুর্য তাতেও সে উদাসী নয়নে কী ভাবে?
তাহলে কী আমাদের সেই দারিদ্রই মহান ছিল
সেই অল্প খাবার ভাগ করে খাওয়া—
সেই একখাটে গাদাগাদি করে শুয়ে থাকাতেই বেশি আনন্দ ছিল!
[ মা দিবসে পৃথিবীর সকল মাকে বিনম্র শ্রদ্ধা ]

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১৭ সকাল ১১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



