মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী।”
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহৎ চরিত্রের বিকাশ কেবল মানব সমাজেই গন্ডীভুক্ত হয়নি। বন্য জীব-জন্তুরাও আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহৎ চরিত্রের, দয়া-মায়ার পরশ পেয়ে হয়েছে স্নেহধন্য।
নিম্নে এ সম্পর্কিত একটি ঘটনার অবতারণা করা গেল-
একদিন আল্লাহ পাক-এর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। দেখতে পেলেন একটি হরিণী কাঁদছে। তখন আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হরিণীকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কাঁদছ কেন?” তখন হরিণী বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে শিকারীরা বন্দি করে রেখেছে, আপনি যদি আমাকে কিছুক্ষণের জন্য ছেড়ে দিতেন; তাহলে আমি আমার বাচ্চাদেরকে দুধপান করিয়ে চলে আসতাম।
তখন আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিকারীদেরকে বললেন, “তোমরা কিছুক্ষণের জন্য এই হরিণীকে ছেড়ে দাও”। শিকারীরা আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চিনতে পারল না। তারা না বুঝার কারণে বলল: না, বনের হরিণীকে ছেড়ে দিলে সে আবার কিভাবে ফিরে আসে? তারা ছাড়তে নারাজ। তখন রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ঠিক আছে আমি তার জামিন হলাম।”
তখন শিকারীরা রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথায় হরিণীকে ছেড়ে দিল। এদিকে তিনি অপেক্ষায় আছেন। ঠিক হরিণী যখন গুহায় গিয়ে পৌঁছল, তখন তার বাচ্চাদেরকে বলল, তোমরা তাড়াতাড়ি দুধ পান করে নাও, আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার অপেক্ষায় আছেন।
তখন হরিণীর বাচ্চারা বলল, যেহেতু আল্লাহ পাক-এর হাবীব আপনার অপেক্ষায় আছেন সেহেতু আমরা দুধ পান করবো না আগে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে আসি। অতঃপর হরিণী তার বাচ্চা দু’টোসহ উপস্থিত হলে ইহুদীরা হতভম্ব হয়ে গেল। তারা বলল, বনের হরিণ কথা দিয়ে আবার ফিরে এলো! তারা চিনতে পারল যে, ইনি তো সাধারণ ব্যক্তি নন, ইনিই আখিরী নবী, রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এরপর তারা সঙ্গে সঙ্গে ঈমান আনলো। (সুবহানাল্লাহ)
কাজেই আমাদের প্রত্যেকের উচিত আল্লাহ পাক-এর সৃষ্টি জীবের প্রতি দয়া দেখানো এবং কৃত ওয়াদা যথাযথ পালন করা। আর রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরিত্র মুবারকে চরিত্রবান হওয়া। মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। (আমীন)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





