হুদায়বিয়ার সন্ধি
পবিত্র কুরআন শরীফ-এ বর্ণিত অসংখ্য ভবিষ্যদ্বাণীসমূহের মধ্যে হুদায়বিয়ার সন্ধি সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীটি অন্যতম প্রসিদ্ধ। সূরা ফাতাহে উহার বিবরণ উল্লেখ করা হইয়াছে। এই ঐতিহাসিক সন্ধির সময় হুদায়বিয়ার বাবলা বৃক্ষের নীচে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাতে বাইয়াত গ্রহণকারী সকল মুসলমানদের উপর আল্লাহ পাক স্বীয় সন্তুষ্টি ও রেজামন্দির ঘোষণা দিয়া ইরশাদ করিলেন:
واثابهم فتحاقريبامغانم كثيرة ياخذونها.
অর্থাৎ রূহানী তথা ইন্দ্রিয় বহির্ভুত ছাড়াও আমরা তাহাদিগকে এক আসন্ন বিজয় ও বিপুল পরিমাণ গনীমতের মাল বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের সংবাদ দিলাম; যাহা তাহারা লাভ করিবে। (অর্থাৎ তাহাদের আন্তরিকতা সম্পর্কে আল্লাহ অবগত ছিলেন)। তাহাদের উপর রূহানী তাসকীন বা আত্ম প্রশান্তি নাজিল করিলেন।
ওমরাহ পালন ছাড়াই মক্কা হইতে ফিরিয়া যাওয়ার বিনিময়ে তাহাদিগকে এক আসন্ন বিজয় ও গনীমতের বিপুল সম্পদ দ্বারা পরিতুষ্ট করিয়া দিলেন।
মোট কথা, ঘোষিত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী কিছুদিন পরই সাতটি দুর্গ ও বেশ কয়েকটি বাগানসহ খায়বর মুসলমানদের অধিকারে আসে। উহার মধ্য হইতে ফাদাক নামক বাগানের আয় দ্বারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিবারের বার্ষিক ব্যয় নির্বাহ করা হইত। অবশিষ্ট আয়সমূহ বনু হাসেম ও দুস্থ জনগণের মধ্যে বিতরণ করিয়া দেওয়া হত।
সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্বপ্ন ও হুদায়বিয়ার সন্ধি
সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবায়ে কিরামগণের নিকট ইরশাদ করিলেন, আমি স্বপ্নে দেখিতে পাইলাম, আমরা ওমরার ইহরাম বাধিয়া মক্কায় প্রবেশ পূর্বক যথারীতি ওমরাহ সম্পাদন করিয়াছি।
রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই খবর শোনর পরই ছাহাবাগণ মক্কা ছফরের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করিয়া উনার সহগামী হলেন। হুদায়বিয়া উপস্থিতির পর সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথায় অবস্থান গ্রহণ করিলেন। কাফিরদের সহিত আলাপ আলোচনার পর একটি সন্ধি পত্র স্বাক্ষরিত হয়। উহাই ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি নামে খ্যাত। সন্ধির পর ছাহাবাগণ এই বছর ওমরাহ স্থগিত রাখিয়া বিমর্ষ বদনে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিলেন।
পথিমধ্যে সূরা ফাতাহ নাযিল হল। ইহার শেষ রূকূতে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্পর্কে নিশ্চয়তা দান করিয়া ইরশাদ করিলেন: স্বপ্নটি আগামী বছর সংক্রান্ত। এই বছর উহা পূর্ন হবার নয়। সুতরাং স্বপ্নের ভবিষ্যদ্বাণীটি পরবর্তী বছরই বাস্তবায়িত হলো। ছাহাবায়ে কিরামগণ অত্যন্ত নিরাপদে ওমরাহ পালন করিয়া ছহী ছালামতে মদীনায় ফিরিয়া আসিলেন। এই ভাবেই উক্ত ভবিষ্যদ্বাণীটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবে রূপ লাভ করিল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





