somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি : আগামী রাজনৈতিক অস্থিরতার কিছু ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত

২২ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ১৬ এপ্রিল ২০১৩ ঈসায়ী তারিখে দৈনিক পত্রিকা ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর প্রথম পাতায় ২টি সংবাদ পরিবেশিত হয়। সাধারণ পাঠকের নিকট সংবাদ দুইটি তেমন অর্থবহন না করলেও যারা অতীতকে স্মরণ করতে সক্ষম এবং বিশ্ব মুসলিমের ধারাবাহিক ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে নজর রেখে থাকেন, তাদের জন্য বিষয়টি ভয়ঙ্কর।

একটি সংবাদ ছিল হাস্যোজ্জ্বল ড. ইউনূসের এবং শিরোনাম ছিল “নেবেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা।” খুব ভালো কথা। আর অপর সংবাদটি হচ্ছে, “প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে পিটার কিংয়ের চিঠি।” সংবাদটির মূল বক্তব্য ছিল, পিটার কিং যুক্তরাষ্ট্রের কত সব পোর্ট ফোলিও নিয়ে কর্মরত তার হিসাব এবং তিনি সন্ত্রাস দমনে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সফলতায় আবেগে আপ্লুত তার বহি:প্রকাশ। তিনি এ বিষয়ে এত বেশি আনন্দিত যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তৃতীয় বিশ্বের মুসলমান এই দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে শুধু চিঠি লিখে ও ধন্যবাদ দিয়ে সন্তুষ্টি নন, তিনি আগামী জুলাই মাসে এ দেশে বড় এক সরকারি দল নিয়ে সফর করতে আসছেন। তার এই প্রশংসা শিয়াল, কাকের মুখ থেকে গোশতের টুকরো খাওয়ার জন্য কাকের কন্ঠস্বরের প্রশংসা করার মতো। সে নিজেকে শিয়ালের মতো চালাক ধারণা করছে আর আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কাক সমতুল্য বোকা ধারণা করছে। তার এই অযাচিত প্রশংসা কেন গ্রহণযোগ্য নয় তা বুঝতে হলে প্রথমেই জানতে হবে লোকটি আসলে কোন মানসিকতার। আমেরিকার কংগ্রেসম্যানদের মধ্যে পিটার কিং হচ্ছে অন্যতম কট্টর ইসরাইল সমর্থক এবং চরম ইসলাম বিদ্বেষী এক কংগ্রেসম্যান।

ইসরাইলের মতো চরম ন্যক্কারজনক এক বর্ণবৈষম্যবাদী দেশের প্রতি তার আনুগত্যতা অনেক ক্ষেত্রে তার নিজ দেশ আমেরিকার প্রতি আনুগত্যতার চেয়েও বেশি বলে ধারণা করা হয়। যাচাই করতে ক্লিক করুন । সে নিউইয়র্কের সে অংশটির প্রতিনিধিত্ব করে সেখানে কোন মুসলমান বসবাস করে না। (হয়তো বা বসবাস করতে দেয়া হয়না।) আমেরিকাতে যত মুসলমান বাস করে, সকলের কাছে সে সবচেয়ে ঘৃণিত কংগ্রেসম্যান।

গণতান্ত্রিক এবং আস্তিক/নাস্তিক আন্দোলনে শতাধিক মানুষ পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করার পরও তার কাছে রয়েছে ব্যাপক প্রশংসা। ধারণা করা যায়, গণতন্ত্রে পুলিশের গুলিতে জনসাধারণের মৃত্যু একান্ত স্বাভাবিক একটি বিষয় তার কাছে। সে নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত বর্তমান সরকারকে আরো বেশি প্রশংসা এবং সহযোগিতা দিয়ে যাবে; যাতে সরকার ধারণা করে পিটারের দেশ তার সাথেই আছে।

আসলে বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত। ওরা প্রশংসা আর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েই সকল মুসলমান নেতাদের গাছে উঠিয়ে শেষ মুহূর্তে মইটা সরিয়ে নেয়। গত বিএনপি সরকারের সময়ও ওরা ঠিক তাই করেছে। ওরা প্রশংসা আর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মুসলমান নেতৃত্বদের ভুল সিদ্ধান্ত নিতে প্রলুব্ধ করে আর তারপর টুটিটি চেপে ধরে। ইয়াহিয়া খানকে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানদের আক্রমণ, সাদ্দামকে দিয়ে কুয়েত দখল, সবই ছিল তাদের পরামর্শে।

অন্য খবরটি ছিল ড. ইউনূস। সে হচ্ছে হারাম সুদের রাজা এক কাট্টা নাস্তিক। গত তত্ত্বাবধায়কের সময়ই পিটারের দেশ চেয়েছিল তাকে একটা রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসাতে। যা জনগণ প্রত্যাখ্যান করে বুদ্ধিমত্তার সাথে। এবারও তারা ওই সুদের রাজাকে আরো বেশি সম্মান, আরো বেশি পুরস্কার দিচ্ছে। পৃথিবীর কোন পুরস্কার তাকে দেয়া বাদ নেই। কেউ যদি আকাশের চাঁদটাকে ধরে এনে মানবজাতিকে উপহার দেয়, সেও বোধহয় এত প্রশংসা কিংবা এত বেশি পুরস্কার পাবেনা; যা এই নাস্তিক ইউনূস পেয়েছে।

আসলে বিষয়টা অনেক গভীর এক ষড়যন্ত্র। নাস্তিক ইউনূসকে তৈরি করা হচ্ছে আগামী সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য। এদিকে সিআইএ পরিচালিত বেশ কয়েকটি এনজিওভিত্তিক দল ব্যাপকভাবে মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ শুরু করছে বিরোধী দলীয় নেতা ও সমর্থকদের সাথে। পিটার কিংয়ের মতো মুসলমানদের শত্রুরা বর্তমান সরকারকে চাপের মুখে রেখেছে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নামে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে যাতে কঠিন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারে। আবার অপরদিকে বিরোধী দলীয় কোন সংবাদ পত্রকে বন্ধ করে দিলে তার বিরুদ্ধে তাদের কোন বক্তব্য নেই। উদ্দেশ্য কি বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা, না সরকারকে চরমভাবে ডুবানোর সূক্ষ্ম পরিকল্পনা?

আঞ্চলিক শক্তি ভারত এবং আন্তর্জাতিক শক্তি আমেরিকা ও ন্যাটোর প্রশংসা ও সহযোগিতার উপর ভর করে বর্তমান সরকার বিরোধী দলসমূহের উপর দমন এবং নাস্তিকতার পক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বাধ্য হতে পারে। এতে সরকার মনস্তাত্ত্বিভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে; এটাই মুসলমানদের শত্রুদের মূল চাহিদা।
যখন রাজনৈতিক গুম, হত্যাযজ্ঞ ও অস্থিরতা এক চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং দেশের মানুষ কায়মনে বাক্যে চাইবে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসুক। তখন বহিঃশক্তিও চাইবে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের। সেনাপ্রধানের উপর চাপটা হবে, “হয় জনগণের চাহিদা অনুযায়ী ক্ষমতা দখল কর, কিংবা জাতিসংঘ মিশন থেকে সমস্ত (সেনা/পুলিশ) সদস্য ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত হও।”

তখন সংবিধান ক্ষতিগ্রস্ত নয়, দেশ ও জাতির জান ও মাল রক্ষা করতেই সেনাবাহিনী ক্ষমতায় যেতে বাধ্য হবে। বিদেশী গোয়েন্দা বাহিনী যখন দেশীয় চরদের মাধ্যমে গৃহযুদ্ধ শুরু করাবে, তখন সেনা বাহিনী ব্যাড়াকে বসে থাকবে, পৃথিবীর কোন শক্তি তা মেনে নেবেনা। বর্তমান সেনা প্রধানের জন্য সময়টি হবে চরম উৎকন্ঠার। ক্ষমতার প্রতি নির্লোভ এই ব্যক্তিটিকে হয়তো পরিস্থিতি বাধ্য করবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে। সংবিধান মইন উ আহম্মককে ক্ষমতা দখল করতে বলেনি। কিংবা ৫৭ জন অফিসারের হত্যার সময় ২ দিন অপেক্ষা করতে বলেনি। তার প্রতিটি কাজই ছিল সংবিধান বহির্ভূত।

যাদের আদেশ-নির্দেশে সে ওইসব কাজ করেছে সে এখন ওই দেশেরই (আমেরিকা) নাগরিক। মীর জাফরেরও উচিত ছিল ক্লাইভের হাতে দেশটা তুলে দেয়ার পর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে ওই দেশে চলে যাওয়ার। সেক্ষেত্রে হয়তো আরো কিছুদিন মৃত্যুকে এড়িয়ে চলতে পারতো মইন উ আহম্মকের মতো। এবারের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারাও হয়তো নির্বাচিত হবে বহিঃশক্তির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী এবং তার প্রধান হবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পুরস্কার ও সম্মানপ্রাপ্ত ব্যক্তি, নাস্তিক এবং সুদের রাজা ড. ইউনূস। এ পর্যন্ত যতগুলো মুসলমান দেশ শত্রুর প্ররোচনায় গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সে দেশগুলোতে সেনাবাহিনীও ছিল এবং গোয়েন্দাবাহিনীও ছিল, কিন্তু ওরা কোন কাজেই আসেনি।

একদিকে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরী বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির বিস্তারিত হিসাব দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, আবার সেই আমেরিকারই ব্যাপক ক্ষমতাধর এক কংগ্রেস ম্যান পিটার কিং বাংলাদেশের সন্ত্রাস দমন ও গণতন্ত্র চর্চার পরিস্তিতিতে আনন্দ আবেগে আপ্লুত। বিষয় গুলো যে দু’দলকে একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করার এক সুক্ষ চক্রান্ত তা বুঝতে কারো সমস্যা হওয়ার কথানা। একেই বলে ঢোলের দু’দিকে বাড়ি দেয়া। এক্ষেত্রে পিটার কিংয়ের পাতা ফাঁদে পা না দেয়াটাই হবে বর্তমান সরকারের জন্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×