somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডায়ালগ অব পিসিসি

২৪ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(পুর্বকথনঃএই কাহিনীগুলোর সাথে সম্পর্কিত সকল কথা বাস্তবিক।কাহিনী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাদে অন্যান্য কারো সাথে মিলে গেলে আমি দায়ী নই)

১.
বৃহস্পতিবার,সকালে প্যারেড শেষ।হঠাত দেখি স্টাফ চিল্লাইতেছে-“আজ সবাই আফটার লাঞ্চের পরে হেয়ার কাট কেটে নেবেন”।

২.
তখন আমরা ক্লাস টেনে।লাইটস আউট এর পর চুপচাপ শুয়ে আছি।জেপি রাউন্ড দিচ্ছে-কারো কথা বলা যাবে না।যখন মনে হল জেপি চলে গেছে,আমার এক রুমমেট চুপিচুপি কথা বলা শুরু করল।হঠাত ধমক শুনলাম জানালার পাশে, “হু ইজ টক?”আমার রুমমেটের তড়িত উত্তর, “ভাইয়া,আই ইজ টক।”
যতদূর জানি ভাইয়া এখন ঢাকা ভার্সিটিতে ইংলিশে পড়ে।

৩.
ইলেভেনের এক্সকারশনে আমাদেরকে ব্রেক দেয়া হল মিলিটারি মিউজিয়ামে।সেখানে সবকিছু ঘুরে দেখানো হল আমাদের।বিদায়ের সময় আমাদের কলেজের পক্ষ থেকে একটা ক্রেস্ট দেয়া হল সেখানকার কমান্ডারের হাতে।ক্রেস্ট দেবার সময় আমাদের ফর্ম মাস্টার অত্যন্ত গর্বের সাথে বলে উঠলেন, “স্যার,দিস ইস এ্যা রেস্পেক্ট অফ টোকেন।

৪.
আমরা তখন ক্লাস নাইনে উঠেছি মাত্র।সিনিওর সিনিওর ভাব ধরার কারনে প্রায়ই পাঙ্গা খেতে হয়।তো একদিন জেপি ডেকে পাঙ্গাচ্ছে আর ঝাড়তেছে।এক পর্যায়ে জেপি, “ডোন্ট লিমিট দ্য ক্রস”।

৫। ক্লাস টেনের কথা মনে হয়।ভুগোল ক্লাসে ম্যাডাম এসে বললেন যে আজ আমার কাজ আছে তোমাদের ক্লাস হবেনা।আমরা চিল্লাচিল্লি শুরু করলাম।ম্যাডাম চলে গেলে আমাদের চিল্লানোর মাত্রা আরো বেড়ে যায়।প্রিন্সিপাল যে আসতেছিল তা আর কেউ খেয়াল করেনি।তো প্রিন্সিপাল এসে সবাইকে দাড় করালো।জিজ্ঞেস করল কার ক্লাস।ফর্ম লীডার বলল যে ম্যাডামের ক্লাস ছিল কিন্তু উনি কাজ থাকায় আজ ক্লাস নেবেন না বলে চলে যাওয়াতে …..।“চলে যাওয়াতে কী?কি হয়ছে তাতে? ম্যাডামের কি শাড়ি ঠিক ছিল না নাকি ব্লাউজের বোতাম খোলা ছিল যে এত জোরে চিতকার করতে হবে। ”
প্রিন্সিপালকে দেখে ম্যাডাম ততক্ষণে ফর্মের পিছনে এসে দাঁড়িয়ে গেছে।

৬.
পরিসংখ্যান স্যারের বাড়ি ছিল কুমিল্লায়। তিনি ‘প’ উচ্চারন করতে পারতেন না, ‘ফ’ উচ্চারন করতেন।যেমন পানি বলতে পারতেন না,বলতে ফানি।কোন একদিন ক্লাসে এসে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলে ফেললেন, “আমার জন্য তোমাদের ম্যাডামকে দিনে তিনবার ফাক করতে হয়।”তিনি কি বুঝাতে চেয়েছিলেন সবাই বুঝেছেন নিশ্চই।

৭.
সামির আর আসিফ নামে আমাদের দুইজন ছিল যাদের কাজই ছিল মারামারি করা।টাইম পেলেই মারতামারি করত তারা।একদিন স্যার তাদের দেখে ফেলে মারামারি করতে।ওদেরকে কানে ধরিয়ে দাড় করালেন আর আমাদেরকে শুনিয়ে বললেন, “তোমরা এখানে সবাই এসেছ একসাথে থাকতে,মারামারি করতে নয়।তোমাদের সকলের উচিত একসাথে সুন্দরভাবে সহবাস করা।”
৮.

জু’লজির নতুন একটা স্যার আসলেন তখন আমরা ইলেভেন এ।স্যারটা খুব মোটা ছিলেন।দেখা মাত্রই তার নাম হয়ে গেল হাতীর বাচ্চা।অবশ্য তার চেয়েও মোটা ছিল আমাদের সাদিক।প্রথম দিন তিনি যখন আমাদের ক্লাসে আসছিলেন কে যেন বলল হাতীর বাচ্চা আসতেছে।স্যার মনে হয় শুনতে পেরেছিলেন।তিনি ক্লাসে ঢুকেই সাদিককে দেখিয়ে বলে উঠলেন, “আমি যদি হাতীর বাচ্চা হই তবে ও সেই হাতীর বাপ!”আমরা আর কিছু বলি নাই তখন,স্যারের মুখটা এমনিতেই দেখি লাল হয়ে গেছে।

আজ অনেক হল।জানিনা কেমন লাগল সবার কাছে।যদি ভাল লাগে জানাবেন-চেষ্টা করব বাকি গুলোও জানানোর।

(আমি কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য নিয়ে এগুলো লিখি নাই,কাউকে সামান্যতম কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।আর এই পোস্ট আমার অন্যব্লগেও একইসাথে প্রকাশিত)
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×