somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাপিত জীবনের কথকতা -৩

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১. ইদানিংকালে আর বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলোর আর কোনো খবর পড়তে ইচ্ছা হয়না , আমি খবরের জন্য মূলত অনলাইন সংস্করণের উপর নির্ভরশীল ।ওয়েবপেজগুলো তে গেলেই দেখা যায় শুধু খারাপ খবর , অসংখ্য মৃত্যুর খবর , প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে , কিছুক্ষন আগেও দেখলাম ট্রাকের ধাক্কায় দুজন মারা গেছে ।গতসপ্তাহে প্রতিদিন কমপক্ষে দশজন করে মানুষ মারা যাচ্ছে , ট্রেনে কাটা পরে মানুষ মরছে , রিক্সায় করে যাবার সময় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মৃত্যু , গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত্যুতো নৈমিত্তিক হয়ে গেছে , কয়েকদিন আগে শুনলাম মিডল ইস্ট এর দেশ ওমান থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৭০ প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকের লাশ দেশে আসে । ভাবা যায় কি ভয়ঙ্কর ব্যাপার !!! এসব পড়তে আর ভালো লাগে না , চারদিকে শুধু মৃত্যু আর মৃত্যু !!! অনেকদিন আগে ব্লগার ও কলামিস্ট ফারুক ওয়াসিফ এর একটা লেখায় পড়েছিলাম এদেশে জীবন জিয়ে না , সত্যি কি তাই ?

২. আমার ল্যাবরেটরির এক জাপানিজ ছাত্র নাম হাতায়ে কয়েকদিন আগে রাস্তায় একটি অসুস্থ বিড়াল কুড়িয়ে পায় , জাপানে এই দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না , মানে হচ্ছে সবারই পোষা বিড়াল কিংবা কুকুর আছে , রাস্তায় এগুলোর দেখা কখনোই মেলে না ।সব উন্নত দেশের অবস্থা হয়তো তাই । সে বিড়ালটিকে তার বাড়িতে নিয়ে যায় , বিড়ালের জন্য একটা ছোট ঘর বানায় , কিন্তু ভীষণ অসুস্থ থাকায় সে বিড়ালটিকে নিয়ে পশু হাসপাতালে যায় , এভাবে কাটে কমপক্ষে দশদিন । কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিড়ালটাকে সে বাঁচাতে পারেনি , এই শোকে সে আরো প্রায় একসপ্তাহ ল্যাব এ আসেনি । ভেবেছিলাম হয়তো সে অসুস্থ , কিন্তু দিন বিশেক পর সে ল্যাব এ এসে যখন এই ঘটনা বললো , আমি তো তাজ্জব !!! এই বিশদিন সে কোনো কাজ করেনি , সারাটা সময় শুধু বিড়াল নিয়েই থেকেছে ।রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটা বিড়ালের জন্য যার মনে এতো মায়া , না জানি মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা কতটা বেশি !!!

৩. সামনের মাস থেকে বোধহয় এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে , এই সময়টা আসলেই একটা শিক্ষার্থীর জন্য অনেক উদ্বেগের, দশবছরের শিক্ষা জীবন শেষ করার মধ্যে আনন্দের চেয়ে উদ্বেগের পরিমানই হয়তো বেশি থাকে ।আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম ২০০৩ সালে , ব্লগে যদি ২০০৩ সালের এসএসসি উত্তীর্ণ কোনো ব্লগার থেকে থাকেন তাহলে নিশ্চয় মনে থাকবে ওই সময়কার পরীক্ষার কথা ।২০০১ সালে গ্রেডিং সিস্টেম চালু হবার পর এ+ ছিল ৮ ০ তে আর এ গ্রেড ছিল ৬০ এ , ২০০৩ সালে সরকার সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার চিন্তা করলো , তারা ৯০ তে এ + আর এ গ্রেড ৬০ থেকে ৭০ এ নিয়ে আসার চিন্তা করলো ( ২০০ ২ সালে ৬০ পেলে এ গ্রেড ধরা হতো )। কিন্তু পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা আমলে নিয়ে এ + ৮০ তে ঠিক রাখলো কিন্তু এ গ্রেড নিয়ে এলো ৭০ এ এবং চতুর্থ বিষয়ের নম্বর যোগ করা বাদ দিয়ে দিলো (২ ০ ০ ৩ সালে ৭০ পেলে এ গ্রেড আর ৮ ০ এ + , এবং চতুর্থ বিষয়ের নম্বর যোগ করা বন্ধ ছিল ) । আর এই খবর শিক্ষার্থীদের জানানো হল পরীক্ষার একমাস আগে, বাংলাদেশে গ্রেডিং সিস্টেমের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা হল সেই বছর । এখন যেমন মাসব্যাপী পরীক্ষা হয় , ২০ ০ ৩ সালে সেই সিস্টেমে মাত্র দশ কি ২ সপ্তাহের মধ্যে সব পরীক্ষা শেষ হয়েছিল , এখনো মনে আছে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল মার্চের ২৭ তারিখ যা এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধেই শেষ হয় । আমাদের আগের বছর অর্থাৎ ২০ ০ ২ সালে ম্যাথমেটিক্স এ গ্রেস দিয়েছিলো , ফলে আমাদের বছর সব বিষয়ে প্রশ্ন হলো কঠিন , রেজাল্ট এ দেখা গেলো পাশের হার মাত্র ২ ৭ % , এ + পেয়েছিলো ১১ ০ ০ জন আর এ গ্রেড পেয়েছিল ১ ০ , ০০ ০ জন , পাশের হার অত্যন্ত কম । সেই পরিস্থিতি দেখে সরকার ২০ ০ ৪ সাল থেকে আবার গ্রেডিং সিস্টেম এ পরিবর্তন এনে চতুর্থ বিষয়ের নম্বর যোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল । সেসময় আমাদের স্কুল থেকে আমরা চারজন সর্বোচ্চ জিপি এ পেয়েছিলাম , রেজাল্ট প্রকাশের ১৫ দিন আগে প্রচন্ড টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল , রেজাল্টের আগের দিন বাসায় ফিরি , পরে অসুস্থ অবস্থায় রেজাল্ট শুনেছিলাম।

৪. বাংলাদেশে মৌলিক বিজ্ঞান অর্থাৎ বেসিক সাইন্স এর চর্চা একদম কমে গেছে , বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয় বলতে আমি ফিজিক্স , কেমিস্ট্রি , ম্যাথমেটিক্স , জুলোজি কিংবা বোটানির মত বিষয়কে বোঝাচ্ছি , একসময় ফিজিক্স কিংবা কেমিস্ট্রিকে টপ লেভেলের সাবজেক্ট ধরা হতো ।জাপানে শিক্ষার্থীদের বিষয় নির্বাচনে প্রথমদিকে থাকে কেমিস্ট্রি আর এর পরে ফিজিক্স কিংবা ম্যাথমেটিক্স বর্তমানকালে ছাত্ররা তাদের বিষয় নির্বাচনের প্রথমদিকে এই বিষয়গুলোকে রাখতে চায় না ।এখন সবাই ঝুঁকছে EEE (Electrical and Electronic Engineering) কিংবা ফার্মেসির মতো বিষয়গুলোতে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বাদই দিলাম , আনাচে কানাচে সমস্ত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে এই দুটি ডিপার্টমেন্ট আছে । নেই কোনো ভালো শিক্ষক , নেই কোনো ল্যাবরেটরি কেবল চাকরির কথা চিন্তা করে বিষয়দুটোকে একদম বাজারি সাবজেক্ট বানিয়ে ফেলেছে । অবশ্যই এই দুই বিষয়ের গুরুত্ব অনস্বীকার্য্য , কিন্তু বিষয়দুটো সম্পূর্ণ প্রায়োগিক এবং ল্যাবভিত্তিক । ভালো ল্যাব কিংবা ভালো মানের শিক্ষক না থাকলে ভালো গ্রাজুয়েট বের হয়ে আসবে না ।এর সাথে সাথে বেসিক সাইন্স এর বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে , বেসিক সাইন্স এর ডেভেলপমেন্ট ছাড়া অ্যাপ্লায়েড ফিল্ডের ডেভেলপমেন্ট হয়না ।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৩৭
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কাজে যোগদান ভুল হচ্ছে, ইউরোপ আমেরিকায় শীপমেন্ট বন্ধ থাকার কথা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:১৭



গত ৪০ বছরে, গার্মেন্টস'এর মালিকরা ও অন্যান্য মধ্যভোগীরা যেই পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছে, তাতে তাদের কর্মচারীদের বিনা কাজে ২/১ বছর মিনিমাম বেতন দেয়ার ক্ষমতা তারা রাখে। গার্মেন্টস'এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ কেলা?

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৮




মানুষ মারার সব আছে, আহত অথবা অসুস্থ মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ করার কিচ্ছু নেই। কেন জানেন? আঁতেলরা বলেন, মানুষ মানুষকে মারতে পারে, মানুষ মানুষকে বাঁচাতে পারে ন। জন্ম মৃত্যু মুসলমানদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

— করোনার সাথে পথে চলতে চলতে———

লিখেছেন ওমেরা, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২২



সারা পৃথিবী লক-ডাউন হয়ে আছে কভিড- ১৯ করোনা আতংকে। মানুষের প্রতিটা মূহুর্ত কাটছে ভয় আর উৎকন্ঠায়। এই মূহুর্তে সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র ব্যাতিক্রম দেশ,সেই দেশের বাসিন্দা আমি, নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

থটস

লিখেছেন জেন রসি, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৪৬





১৮৪৬ সালে মার্কস এবং এঙ্গেলস মিলে “The German Ideology” নামে একটা বইয়ের পান্ডুলিপি লিখেছিলেন। কিন্তু বইটা প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। এই বইতে তারা শুধু ভাববাদকেই না ফয়েরবাখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কমপক্ষে গার্মেন্টস'এর ছুটিটা নিজ হাতে কন্ট্রোল করতে পারতো

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৫২



শেখ সাহেব জানতেন যে, উনার মেয়ে বুদ্ধিমতি নন, সেজন্য মেয়েকে রাজনীতিতে আসতে দেননি; কিন্তু রাইফেল জিয়া শেখ হাসিনার জন্য পথ রচনা করে গেছে। কমবুদ্ধিমানরা অনেক সময় খুবই নিবেদিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×