somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিবাদ ও তার জানাজা সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে একটি অপপ্রচার

১৪ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড নিয়ে আওয়ামীলীগবিরোধী লোকজনের একটা মন্তব্য রায় চোখে আসে সেটা হচ্ছে :

"বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কেউ কেন তখন প্রতিবাদ করে নি? কেন তার জানাজায় সামান্য কিছু মানুষ হয়েছিলো? "

একবিংশ শতাব্দীতে সেনা কারফিউ এর ব্যাপারে আমাদের খুব কমই দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি গত শতাব্দীর চেয়ে অনেক শিথিল এখন।

মূল কথায় আসা যাক। বঙ্গবন্ধুকে সেনা ক্যু এর দ্বারা স্বপরিবারে হত্যা করার সাথে সাথে দেশে ১৪৪ ধারা জারি হয়ে যায়। এবং পুরো দেশ সেনাবাহিনির কব্জায় চলে যায়। জাতির বেঈমান খন্দকার মোশতাক পরদিন নতুন পাঞ্জাবী পড়ে শপথবাক্য পাঠ করে ক্ষমতা নিজ হাতে নেন। পুরো দেশে তখন সেনা কারফিউ জারি। কোনো বিক্ষোভ মিছিল হলেই আনকন্ডিশনাল ফায়ারিং এর নির্দেশ। সেনা ট্যাংক ও অস্ত্র নামানো হইছিল সারা দেশে। পুলিশ না হয় আমরা এতোটা পাত্তা দেই না। আর্মির সামনে গিয়ে একটু গলা চড়া করে কথা বলতে সাহস লাগে। আর সেই সাহসের পরিণতি হল গুলি খাওয়া।

ঢাকা ও বঙ্গবন্ধুর দেশের বাড়ি ও আওয়ামী লীগের সকল ঘাঁটিতে সেনা মোতায়েন ছিল। একটু টু শব্দ করার মত পরিস্থিতি হলেও গুলি খাওয়া লাগত। বঙ্গবন্ধুর লাশ কড়া নজরদারিতে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে ১০ জন এর উপস্থিতিতে দাফন করা হয়। জানাযা পড়তেও বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় মুরুব্বিরা জানাযা ছাড়া মুসলিমের কবর দিতে নারাজ থাকায় কবরখোরদের নিয়েই জানাযা হয়।

অনেকের মনে হয় জিয়াউর রহমানের জানাযায় ৩ লাখ মানুষ ছিল। তাই তাকে অনেকেই জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক মনে করেন। আসলে জানাযার সংখ্যা বাড়া-কমাটা নির্ভর করে তদানীন্তন রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরে। এবং জানাযার সংখ্যার উপরে কোনো মুসলিমের পরকাল কোনো কালেই জাজমেন্ট হয় নাই, হবেও না। বরঞ্চ একজন আমাদের জাতির পিতা, আর অন্যজন বাংলদেশের দ্বিতীয় শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা। মর্যাদার বিশাল পার্থক্য।

প্রতিবাদ হয়ই নাই এমনটা বলা অবাঞ্চনীয়।

হত্যার পর প্রথম প্রতিবাদ হয় বরগুনায়। মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব মৃধা বরগুনা এসডিও সিরাজ উদ্দিন আহমেদের সহায়তায় ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির এর নেতৃত্বে ১০-১৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীর ঝটিকা মিছিল বের করেন। পরবর্তীতে এতে বরগুনার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যোগ দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, খুলনা, যশোর, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁওসহ বিভিন্ন জায়গায় ১৫ই আগস্ট সকালে প্রতিবাদ হয়।

পরবর্তীতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ১৭ হাজার মুজিব ভক্তকে ৭টি ফ্রন্টে ভাগ করে ২২ মাস প্রতিরোধ যুদ্ধ করেন। এতে ১০৪ জন যোদ্ধা নিহত এবং কয়েকশ আহত হয়। এর মাঝে শেরপুর সদর, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলার ৫০০ তরুণের ‘শেরপুরের ৫০০ প্রতিবাদী’র বিদ্রোহ ও লড়াই আলোচিত ছিল।

মুফতি নূরুল্লাহ পরদিন জুমার নামাজের খুতবায় এর প্রতিবাদ করেন।

আগস্ট মাসে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্ররা প্রতিবাদ করে। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মৌলভী সৈয়দ, ছাত্রনেতা এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী এবং পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের নেতা এস.এম. ইউসুফ প্রতিরোধ করতে শুরু করেন।

১৮ই অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার ও দেয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায় ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন। ২০ অক্টোবর প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

প্রতিবাদ করায় ১৯৭৬ সালের ১৮ আগস্ট মুক্তাগাছার প্রতিবাদী ৫ মুক্তিযোদ্ধা জাবেদ আলী, নিখিল দত্ত, সুবোধ ধর, দিপাল দাস, মফিজ উদ্দিনকে সেনা অভিযানে হত্যা করা হয়। বেঁচে যাওয়া বিশ্বজিৎ নন্দী নামে কিশোর যোদ্ধাকে আটক করে ১৯৭৭ সালের ১৮ মে সামরিক আদালতে ফাঁসি দেওয়া হয়। ইন্দিরা গান্ধীসহ প্রভাবশালী বিশ্বনেতার প্রভাবে তাকে যাবজ্জীবন দেয়া হয় এবং তিনি ১৯৮৯ সালে মুক্তি পান।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড নিয়ে আওয়ামীলীগবিরোধী লোকজনের একটা মন্তব্য রায় চোখে আসে সেটা হচ্ছে :

"বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কেউ কেন তখন প্রতিবাদ করে নি? কেন তার জানাজায় সামান্য কিছু মানুষ হয়েছিলো? "

একবিংশ শতাব্দীতে সেনা কারফিউ এর ব্যাপারে আমাদের খুব কমই দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি গত শতাব্দীর চেয়ে অনেক শিথিল এখন।

মূল কথায় আসা যাক। বঙ্গবন্ধুকে সেনা ক্যু এর দ্বারা স্বপরিবারে হত্যা করার সাথে সাথে দেশে ১৪৪ ধারা জারি হয়ে যায়। এবং পুরো দেশ সেনাবাহিনির কব্জায় চলে যায়। জাতির বেঈমান খন্দকার মোশতাক পরদিন নতুন পাঞ্জাবী পড়ে শপথবাক্য পাঠ করে ক্ষমতা নিজ হাতে নেন। পুরো দেশে তখন সেনা কারফিউ জারি। কোনো বিক্ষোভ মিছিল হলেই আনকন্ডিশনাল ফায়ারিং এর নির্দেশ। সেনা ট্যাংক ও অস্ত্র নামানো হইছিল সারা দেশে। পুলিশ না হয় আমরা এতোটা পাত্তা দেই না। আর্মির সামনে গিয়ে একটু গলা চড়া করে কথা বলতে সাহস লাগে। আর সেই সাহসের পরিণতি হল গুলি খাওয়া।

ঢাকা ও বঙ্গবন্ধুর দেশের বাড়ি ও আওয়ামী লীগের সকল ঘাঁটিতে সেনা মোতায়েন ছিল। একটু টু শব্দ করার মত পরিস্থিতি হলেও গুলি খাওয়া লাগত। বঙ্গবন্ধুর লাশ কড়া নজরদারিতে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে ১০ জন এর উপস্থিতিতে দাফন করা হয়। জানাযা পড়তেও বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় মুরুব্বিরা জানাযা ছাড়া মুসলিমের কবর দিতে নারাজ থাকায় কবরখোরদের নিয়েই জানাযা হয়।

অনেকের মনে হয় জিয়াউর রহমানের জানাযায় ৩ লাখ মানুষ ছিল। তাই তাকে অনেকেই জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক মনে করেন। আসলে জানাযার সংখ্যা বাড়া-কমাটা নির্ভর করে তদানীন্তন রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরে। এবং জানাযার সংখ্যার উপরে কোনো মুসলিমের পরকাল কোনো কালেই জাজমেন্ট হয় নাই, হবেও না। বরঞ্চ একজন আমাদের জাতির পিতা, আর অন্যজন বাংলদেশের দ্বিতীয় শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা। মর্যাদার বিশাল পার্থক্য।

প্রতিবাদ হয়ই নাই এমনটা বলা অবাঞ্চনীয়।

হত্যার পর প্রথম প্রতিবাদ হয় বরগুনায়। মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব মৃধা বরগুনা এসডিও সিরাজ উদ্দিন আহমেদের সহায়তায় ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির এর নেতৃত্বে ১০-১৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীর ঝটিকা মিছিল বের করেন। পরবর্তীতে এতে বরগুনার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যোগ দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, খুলনা, যশোর, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁওসহ বিভিন্ন জায়গায় ১৫ই আগস্ট সকালে প্রতিবাদ হয়।

পরবর্তীতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ১৭ হাজার মুজিব ভক্তকে ৭টি ফ্রন্টে ভাগ করে ২২ মাস প্রতিরোধ যুদ্ধ করেন। এতে ১০৪ জন যোদ্ধা নিহত এবং কয়েকশ আহত হয়। এর মাঝে শেরপুর সদর, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলার ৫০০ তরুণের ‘শেরপুরের ৫০০ প্রতিবাদী’র বিদ্রোহ ও লড়াই আলোচিত ছিল।

মুফতি নূরুল্লাহ পরদিন জুমার নামাজের খুতবায় এর প্রতিবাদ করেন।

আগস্ট মাসে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্ররা প্রতিবাদ করে। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মৌলভী সৈয়দ, ছাত্রনেতা এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী এবং পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের নেতা এস.এম. ইউসুফ প্রতিরোধ করতে শুরু করেন।

১৮ই অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার ও দেয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায় ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন। ২০ অক্টোবর প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

প্রতিবাদ করায় ১৯৭৬ সালের ১৮ আগস্ট মুক্তাগাছার প্রতিবাদী ৫ মুক্তিযোদ্ধা জাবেদ আলী, নিখিল দত্ত, সুবোধ ধর, দিপাল দাস, মফিজ উদ্দিনকে সেনা অভিযানে হত্যা করা হয়। বেঁচে যাওয়া বিশ্বজিৎ নন্দী নামে কিশোর যোদ্ধাকে আটক করে ১৯৭৭ সালের ১৮ মে সামরিক আদালতে ফাঁসি দেওয়া হয়। ইন্দিরা গান্ধীসহ প্রভাবশালী বিশ্বনেতার প্রভাবে তাকে যাবজ্জীবন দেয়া হয় এবং তিনি ১৯৮৯ সালে মুক্তি পান।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ৯:১৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহ ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা দেন না কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃষ্ণকান্তের উইল ও তৎকালীন নারী সমাজের প্রতিচ্ছবি

লিখেছেন মৌরি হক দোলা, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০৩




দেশ-কাল-জাতি নির্বিশেষে প্রায় সব সাহিত্যেই নর-নারীর সম্পর্কের জটিল রসায়ন একটি জনপ্রিয় বিষয়। বাংলা সাহিত্যের ঊনবিংশ শতকের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসেও এ চিরায়ত বিষয়টি উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০ বছর সামহোয়্যারইন ব্লগে: লেখক না হয়েও টিকে থাকা এক ব্লগারের কাহিনি B-)

লিখেছেন নতুন, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪২



২০২৬ সালে আরেকটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেগেছে একটু আগে।

ব্লগার হিসেবে ২০ বছর পূর্ন হয়ে গেছে। :-B

পোস্ট করেছি: ৩৫০টি
মন্তব্য করেছি: ২৭০৭২টি
মন্তব্য পেয়েছি: ৮৬৬৭টি
ব্লগ লিখেছি: ২০ বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উদীয়মান শক্তি ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫০


২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল যখন বের হলো, তখন দেশের রাজনৈতিক মহলে একটা চাঞ্চল্য পড়ে গেল। জাতীয় নাগরিক পার্টি: যাদের আমরা এনসিপি বলে ডাকি—প্রথমবারের মতো নির্বাচনে নেমে ৩০টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথমেই বিএনপির যে কাজগুলো করা জরুরি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৬


বিএনপির প্রথম কাজ হলো তারা যে “অত্যাচারী” নয়, তা মানুষের কাছে প্রমাণ করা। "ক্ষমতাশালী" মানে যে ডাকাতি, লুটপাট এবং মাস্তানির লাইসেন্স পাওয়া নয়, এটা নিশ্চিত করা। এর জন্য তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×