হ্যা লো মাইটি ব্লগারস,
কি অবস্থা সবার। আমি বেশ অবাক হই যখন দেখি সামুর প্রথম পাতায় ফ্লাডিং হয় না। যখন দেখি মাত্র ৪৬ জন ব্লগার আর ৯৪৩ জন ভিজিটর এই ছুটির দিনের সন্ধ্যায় সামুতে আছে। কি ছিলাম আমরা আর কই গেলাম। ভাবতে অবাক লাগে। একটা সময় ছিল দিনের সিংহভাগ পরে থাকতাম সামুতে। কোন গুজব আসলে সেটার ভ্যালিডিটি পেতাম সামুতে এসে। কোন খবর পত্রিকাওয়ালাদের আগে সামুতে পাওয়া যেত। নানা মূনীর নানা মত প্রকাশের প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছিল সামু। সামুকে কেন্দ্র করে কত আন্দোলন ! আহ! কি ছিল সেই সব দিন।
এখনকার ব্লগারদের অনেককেই চিনি না। স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই আমাকে চিনবেন না। অনেকটা কফি হাউজের মত। কফি হাউজের আড্ডা যেমন হারিয়ে যায় আড্ডার মানুষগুলোর সাথে সাথে। যাই হোক আড্ডা হারিয়ে গেলেও কফি হাউজের মত সামু রয়ে গেছে। নতুন আড্ডাবাজেরা আছে। সাথে কিছু পুরোনো আড্ডাবাজকেও দেখা যাচ্ছে। দেখা যাক আপনাদের আড্ডা জমে কিনা।
পুরোনো ব্লগগুলোর মধ্যে আমি ক্যাডেট কলেজ ব্লগ ফলো করতাম। যদিও আমি ক্যাডেট নই। তারপরও ওদের কমিউনিটি সেন্স তথা ভ্রাতৃত্ববোধটা টানত বরাবরই। তো ঘুরতে ঘুরতে সেদিন আবার কি মনে করে চলে গেলাম সেই পুরোনো ক্যাফেতে। গিয়ে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা পোস্ট পেলাম পঞ্চাশ বছর পর… শিরোনামে।
লেখাটির বিষয়বস্তুটা বেশ ভালো লাগল। পঞ্চাশ বছর পরে আমাদের এই পৃথিবীটা কেমন হবে। লেখক তার বক্তব্য তার লেখায় পেশ করেছেন। আগ্রহীরা গিয়ে পড়ে আসবেন।
সেই লেখা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে আজকের লেখাটা লিখতে বসলাম। যদিও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমি জানি আপনাদের সময়ের অনেক দাম তাই চেষ্টা করলাম যথা সম্ভব সংক্ষেপে সারতে। আমি মূলত চেষ্টা করব পয়েন্ট বাই পয়েন্ট আমার ধারণাটা তুলে ধরতে। আগে ফিকশন লিখলেও কখনও সায়েন্স ফিকশন লিখিনি বিধায় বেশি অবাস্তব মনে হল ধরিয়ে দেবেন। চলুন তাহলে ঘুরে আসা যাক ২১১৭ খ্রিষ্টাব্দে।
বিবাহ/প্রেমঃ বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটির কোন গুরুত্ব থাকবে না। পলিগ্যামি না থাকলেও একজন সংগী নিয়ে জীবন কাটিয়ে দেবার কনসেপ্ট থেকে পৃথিবী বেরিয়ে আসবে। সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে জরায়ুর প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে। আবার সন্তানের রক্ষনাবেক্ষন তথা বড় করার দায়িত্ব থাকবে রাষ্ট্রের। কাজেই, বাবা-মায়ের এক সাথে থাকার যে প্রয়োজনীয়তা সেটা থাকবে না।
পরিবারঃ আমার ধারণা আমরা যেমন একান্নবর্তী পরিবার থেকে ভাংতে ভাংতে আজকে সিংগেল মাদার সিংগেল ফাদার পরিবারে চলে এসেছি। আজকে থেকে একশ বছর পরে ব্যাপারটা এমন থাকবে না। পরিবারের জায়গা দখল করে নেবে কমিউন। এই কমিউন হচ্ছে একান্নবর্তী পরিবারের বৃহত রূপ। তবে সেখানে রক্ত সম্পর্ককে ছাপিয়ে প্রাধান্য পাবে উতপাদন সম্পর্ক। এই কমিউনগুলো নিয়ন্ত্রিত হবে একজন লর্ড দ্বারা। কমিউনগুলো হবে স্বাধীন এবং স্বয়ংসম্পূর্ন। লর্ডরা জবাবদিহি করবে রাষ্ট্রের কাছে।
রাষ্ট্রঃ আজকে থেকে একশ বছর পরে কোন পৃথক রাষ্ট্র থাকবে না। পৃথিবী একক রাষ্ট্র হবে। সেটা হতে হয়ত এক বা একাধিক যুদ্ধ হবে তবে মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে সীমান্ত প্রাচীর গুড়িয়ে দেবে। বর্ডার বলতে কিছু থাকবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগও এখানে ভূমিকা রাখবে। তবে মানুষ তার নিজের প্রয়োজনেই এক হবে।
ভাষাঃ তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে এখনই প্রায় গোটা বিশ্ব এক ভাষা গ্রহণ করে ফেলেছে। একশ বছর পরে এটা আরো ব্যাপক আকার ধারণ করবে। বিশ্বের অনেক ভাষাই কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে যদি পদক্ষেপ না নেয়। আর বৃহত ভাষাসমূহ হয়ত টিকে থাকবে কিন্তু সেগুলো পড়তে পারা মানুষের সংখ্যা হবে নিতান্তই হাতে গোণা।
ধর্মঃ কিছু টিকে থাকুক বা না থাকুক মানুষে মানুষের ধর্মীয় বিভেদ টিকে থাকবে। একশ বছর পরেও যদি যুদ্ধ হয় তবে সেটা কমিউনে কমিউনে ধর্ম নিয়ে হবে। ধর্মযুদ্ধই পৃথিবীর কেয়ামত ডেকে আনবে।
বিনোদনঃ বিনোদনের এখন যে মাধ্যম দেখা যায় তার কিছুই হয়ত তখন অবশিষ্ট থাকবে না। টাইম ট্রাভেল একটা জনপ্রিয় বিনোদনের মাধ্যম হবে। প্লানেট ট্যুরিজম খাত গড়ে উঠবে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে এতটাই উতকর্ষ সাধন হবে যে দর্শক বাস্তব আর অবাস্তবের সাথে তফাত করতে পারবে না।
শিল্প-সাহিত্যঃ গত শতাব্দির তুলনায় এই শতকে শিল্প সাহিত্যে বন্ধ্যাকাল পার করবে। তবে এই শতকের শেষ দিকে আবার শিল্প সাহিত্য জগতে উত্থান পরিলক্ষীত হবে। নতুন একটি ধারা আগের সকল ধারাকে ছাপিয়ে যাবে। যার প্রভাব পড়বে সমকালীন তরুন প্রজন্মের উপর। যারা জন্ম দেবে আরেকটি নব জাগরণের।
লেখাটি একটু বিশৃঙ্খল অবস্থাতেই প্রকাশ করলাম। এডিট আসতে পারে। আপনাদের পালটা যুক্তি বা ব্লগ আসতে পারে। আড্ডা দেবার অপেক্ষায় বসলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



