somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আরিফ রুবেল
জীবন বৈচিত্রময়। জীবনের বিচিত্র সব গল্প বলতে পারাটা একটা গুন আর সবার সেই গুনটা থাকে না। গল্প বলার অদ্ভুত গুনটা অর্জনের জন্য সাধনার দরকার। যদিও সবার জীবন সাধনার অনুমতি দেয় না, তবুও সুযোগ পেলেই কেউ কেউ সাধনায় বসে যায়। আমিও সেই সব সাধকদের একজন হতে চাই।

প্রসংগ রোহিঙ্গা : কি করা যেত ? কি করা উচিত

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হ্যা লো ব্লগারস !

আশা করি নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যমূল্যের উর্ধ্বগতি আর অসহনীয় যানজট নিয়ে ভালোই আছেন। বাংলাদেশ এমনিতেই সমস্যা সংকুল দেশ। আমাদের সমস্যার শেষ নাই। আবার নিত্য নতুন সমস্যা আমাদের ঘাড়ে আসে ইচ্ছা অনিচ্ছায়। ধর্ষন, মাদক, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এহেন বিবিধ সমস্যার পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিনই আমরা নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। যেন বিধাতা একের পর এক পরীক্ষা নিচ্ছেন আমাদের সহ্য শক্তির। অবাক করার মত বিষয় হলেও সত্য এক সময়কার প্রতিবাদী আমরা কিন্তু বেশ সহনশীল জাতিতে পরিণত হয়েছি। আমরা এস্টাবলিসমেন্টের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও করি না। আমরা যেন বুঝে গেছি সেই মহান আপ্ত বাক্য 'শক্তের ভক্ত, নরমের যম'।

ছোটবেলা থেকেই একটা কথা শুনে এসেছি 'মগের মুল্লুক'। আমি জানতাম না এই মগ কারা ? কেনই বা মগের মুল্লুক শব্দটি ব্যবহার করা হয়। বড় হতে হতে বুঝলাম মগের মুল্লুক মানে হচ্ছে চরম বিশৃঙ্খলা। জোর জবরদস্তির শাসন। বিচারহীনতা। বড় হতে হতে আমি দেখলাম গোটা দেশটাই মগের মুল্লুক (যদিও এখানে মগ আছে হাতে গোনা তাও প্রান্তিক অবস্থায়)। এখানে আসলে জবরদস্তির শাসনই চলে। যার শক্তি বেশি, যার পেছনে মানুষ বেশি ক্ষমতা তারই। বাকীরা হাজার সত্য কথা বললেও তাদের কথার কোন মূল্য এই দেশে নাই। যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভেড়া হবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভেড়ার পেছনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাজেই হয় ভেড়া হও না হয় ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা হয়ে ঘরে খিল দাও।

দুই

যাই হোক প্রসংগ থেকে অনেক দূরে সরে এসেছি। আজকে এসেছি রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমার মনোভাব আপনাদের ভাগাভাগি করতে। মনের মধ্যে কিছুটা হতাশা, শংকা এবং ক্ষোভ নিয়ে ব্লগ লিখতে বসেছি। এদিকে আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে দেখিয়েছে ঊপকূলে ভারী বর্ষনের সম্ভাবনা আছে। আর সেই উপকূলেই আমরা সম্প্রতি প্রায় চার লক্ষ রোহিঙ্গাকে নতুন করে শরনার্থী হিসেবে থাকতে দিয়েছি।

শরনার্থী হিসেবে আসা এই মানুষগুলো বেশির ভাগ আশ্রয় নিয়েছে টেকনাফ, উখিয়া এবং কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে। এর বাইরেও অনেকে আগে থাকা রোহিঙ্গা আত্মীয় স্বজনদের কাছেও আশ্রয় নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাংবাদিকের হৃদয় বিদারক বর্ননায় পাষানেরও মন কাঁদতে বাধ্য। বাঁচার তাগিদে এদের যে সংগ্রাম এটা মানব ইতিহাসের যেকোন গণ অভিবাসনের চাইতে কম কষ্টের নয়। পেছনে নল তাক করা সামরিক বাহিনী, দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা নিজের গ্রাম সহায় সম্পদ, কাধে মা, বুকে সন্তান, যেকোন সময় ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরিত হবার আতংক, পানিতে ডুবে মরার আতংক। আহ ! কি দুঃসহ!

তিন

রোহিঙ্গা সংকট আমাদের জন্য নতুন কিছু না। গত শতকে কম করে হলেও তিনবার এবং এই শতকে অন্তত দুইবার রোহিঙ্গারা সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় সেটলারদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে নাফ নদী পেরিয়ে আমাদের দেশে এসেছে। ২০১৬ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের লেদা’র দুটি শরণার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছেন প্রায় ৩৩ হাজার। এছাড়াও কুতুপালং, লেদা ও শামলাপুরে রয়েছে আরও ৩টি অনিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্প। এ তিনটি অনিবন্ধিত ক্যাম্পসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত আরও ৫ লাখ রোহিঙ্গা। যাদের কোনও সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। সাম্প্রতিক ঘটনায় ধারনা করা হয় প্রায় ৪ লক্ষের কাছাকাছি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা প্রায় ত্রিশ লক্ষ। তার মধ্যে প্রায় নয় লক্ষ বাংলাদেশে বসবাস করছে। বলা যায় মানবতার খাতিরেই এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়েছে বাংলাদেশ। সমস্যা সেখানে না। সমস্যা হচ্ছে পদ্ধতিতে, কৌশলে। তার আগে আসুন একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবি। যাদের ধর্ম নিয়ে মাথা গরম তারা একটু তফাতে থাকেন। কারণ আমি খুব ভালো করেই জানি রোহিঙ্গারা যদি মুসলিম না হয়ে হিন্দু হত এবং মায়ানমার যদি মুসলিক প্রধান দেশ হত তাহলে আপনাদের নিরানব্বই শতাংশই মুখে কুলুপ এটে বসে থাকতেন এবং কিছুই হয়নি এমন একটা ভাব ধরতেন। কথা না বাড়িয়ে আসল আলোচনায় যাই।

প্রথমেই, বাংলাদেশের পক্ষে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া ছাড়া আর কোন পথ খোলা ছিল কি ?

আমার মনে হয় না। মায়ানমার বেশ ছক কষেই এবারের রোহিঙ্গা নিধন শুরু করেছে এবং এর পেছনে যে শুধু মায়ানমার আছে এমনটা আমি মনে করি না। স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে রোহিঙ্গা নিধন তথা উচ্ছেদের ক্রিম যতটা না মায়ানমারের ভাগে যাচ্ছে তার চেয়ে বেশি যাচ্ছে চীন এবং ভারতের দিকে। কিছুটা ক্রিম রাশিয়াও পাচ্ছে। কিভাবে ? সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার দরকার, সেটা হয়ত অন্য সময় করব সুযোগ পেলে। এখন এত এত শক্তিশালী রাষ্ট্র যারা বাংলাদেশের বন্ধু বলেই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় জাহির করে তারা যখন সব পল্টি নিয়ে ফেলে তখন আসলে একা বাংলাদেশের পক্ষে কিছুই করার থাকে না। চীনের এক ধমকে মায়ানমার ক্ষান্ত দিত, কিংবা ভারতের দরকার ছিল যেচে পড়ে মায়ানমার সরকারকে সমর্থন জানানো। রাশিয়া তো সরাসরি একে মায়ানমারের অভ্যন্তরীন বিষয় উড়িয়ে দিল।

এত এত বন্ধুর বেইমানীতে শেখ হাসিনা এক রকম বাধ্য হয়ে অবস্থার শিকার হয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। নইলে তিনি খুব ভালো করেই জানেন রোহিঙ্গারা রাজনৈতিকভাবে কখনই আওয়ামী লীগের মিত্র হবে না এবং তাদের এদেশীয় মিত্র হচ্ছে জামায়াত-হেফাজত। কাজেই, তিনি পারত পক্ষে এদের আশ্রয় দিতেন না।

দ্বিতীয়ত, সরকার কি প্রস্তুত ছিল ?

আমার কাছে কোন পয়েন্টেই মনে হয়নি সরকারের কোন প্রস্তুতি আছে কিংবা সরকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের এহেন লেজে গোবরে অবস্থা দেখা যায়নি। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনকালীন ধকল কাটিয়ে ওঠার পর এই রোহিঙ্গা ইস্যুতেই এই সরকার একটু টাল মাটাল অবস্থায় পড়েছে। এখানে ইন্টেলিজেন্সের ব্যর্থতা চূড়ান্ত। কোন ধরনের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক কিংবা সামরিক পদক্ষেপ দৃশ্যমান ছিল না। দেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে না দিতে রোহিঙ্গা সংকট সরকারকে বেশ বেকায়দায় ফেলে দিতে সক্ষম হয়েছে। যার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা তার জন্য সহজ হবে না।

তৃতীয়ত, শরনার্থী প্রবেশে কোন ধরনের মনিটরিং কি হয়েছিল ?

আমার মনে হয় না। সরকার প্রথম ধাক্কায় তাদের ঠেকাতে চেয়েছে। যখন দেখেছে ঢল ঠেকানো যাচ্ছে না এবং দেশের ভেতরের জনমত রোহিঙ্গা শরনার্থী নেয়ার পক্ষে, তখন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের স্বার্থেই হোক কিংবা অবস্থা প্রেক্ষিতে হোক তাকে সীমান্ত খুলে দিতে হয়েছে। বানের জলের মত রোহিঙ্গা ঢুকেছে। সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা একবারে এবারই ঢুকেছে। কিন্তু সমস্যাটা এখান থেকেই শুরু হয়েছে। শরনার্থী নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে আমাদের সেনাবাহিনীর। যারা এখানে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারত। কিন্তু তাদের প্রায় অনুপস্থিত রাখা হয়েছে পুরো প্রক্রিয়া থেকে। ফলে কে রোহিঙ্গা আর কে বাংলাদেশী সেটা তফাত করা কঠিন হয়ে গেছে।

চতুর্থত, ত্রান কার্যক্রম কি যথেষ্ঠ এবং পরিকল্পিত ?

এক শব্দে এই প্রশ্নের জবাব হচ্ছে 'না'। ত্রান কার্যক্রমে চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা পরীলক্ষিত হচ্ছে। ত্রান নিয়ে লুটপাট হচ্ছে আবার শরনার্থীদের যা দরকার সেটা না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে দেয়া হচ্ছে। ত্রান সংগ্রহেও ব্যপক অনিয়মের খবর পাওয়া যাচ্ছে। মানে রোহিঙ্গা ইস্যুকে ক্যাশ করে বেশ একটা রমরমা ব্যবসার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বিষয়টা আর দশটা দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সাথে এক করে দেখলে ভুল হবে।কাজেই, এখানেও পুরো কার্যক্রম সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে নিয়ে এসে পরিবারভিত্তিক ও নিবন্ধনের ভিত্তিতে পরিচালনা করলে অনেকটাই সুষ্ঠুভাবে করা যেত।

পঞ্চমত, সরকার কি কূটনৈতিক ততপরতায় সফল?

এখন পর্যন্ত তেমন মনে হয়নি। বরং কিছুটা কোনঠাসাই বলতে হবে বাংলাদেশকে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে কিছুটা পজিটিভ সাইডে আছে বাংলাদেশ। এটার উপর ভর করতে পারলে হয়ত সংকট কাটিয়ে ওঠার রাস্তা বের করা সম্ভব। সরকার যেটা করতে পারত, দেশে অবস্থানরত সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে ব্যপকভাবে জনমত তৈরি করতে পারত। যদিও পরে চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু জানেন তো সময়ের এক ফোর অসময়ের দশ ফোর।

চার


এবার আসা যাক এখন যা করনীয় বলে আমি মনে করি সেটা নিয়ে আপনাদের সাথে কথা বলি। অনেকেই আমার সাথে একমত হবেন। কেউ কেউ দ্বিমত হতে পারেন। আপনাদের মতামতগুলো শুনতেই তো ব্লগে আসা। এখানেও আমি চেষ্টা করব পয়েন্ট বাই পয়েন্ট বলতে। কিছু বিষয় আগেই উল্লেখ করেছি। এখানে একটু গুছিয়ে লেখার চেষ্টা করছি,

১) সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান। পরিবারভিত্তিক রেশন কার্ড প্রদান।

২) রাষ্ট্রপতির অধীনে রোহিঙ্গা ত্রান সেল গঠন এবং সকল ব্যক্তিগত-সাংগঠনিক, সরকারী-বেসরকারী, দেশি-বিদেশি সহযোগীতা এখানে সংগ্রহ করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সেই ত্রান পরিবারভিত্তিক রোহিঙ্গাদের প্রদান।

৩) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম, ফেসবুকে বলেছেন রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের সন্তানহারা মা-বাবার আওতায় আনা যায় কিনা সেটা সরকার ভেবে দেখছে। এই ধরনের সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে শিশু এবং নারীরা। এদের সমূহ সম্ভাবনা থাকে পাচারকারীদের হাতে পড়ার। আর না পড়লেও নারীরা অনেক সময় পেটের দায়ে শরীর বেচতেও বাধ্য হয় এবং এ থেকে উক্ত অঞ্চলে যৌনবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ারও সম্ভাবনা থাকে। কাজেই, এই দিকটা বিশেষ নজরে আনা দরকার।

৪) খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে চিকিতসা। বছরের পর বছর অপুষ্টিতে ভোগা এই জনগোষ্ঠী সাথে করে অনেক রোগ জীবানু নিয়ে এসেছে। জাতিগত সংঘাতের বয়ে বেড়াচ্ছে অনেকেই। এদের সবচেয়ে আগে যেটা দরকার চিকিতসার ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক চিকিতসকদের দিয়ে সেনা তত্ত্বাবধায়নে মেডিকেল ক্যাম্প বা হাসপাতাল স্থাপন করা উচিত দূর্গত এলাকায়।

৫) খাদ্য চিকিতসার পরই যে জিনিসটা দরকার সেটা হচ্ছে আশ্রয়। মাথা গোজার ঠাই। উপকূলীয় এলাকা ঝড়প্রবন হওয়ায় এখানে একটু শক্ত পোক্ত আবাসন দরকার। আবার এই এলাকায় এত খাস জমি আছে বলেও মনে হয় না। কাজেই এদের ছোট ছোট কিন্তু টেকসই এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে জাতিসংঘের মাধ্যমে।

৬)স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার স্বার্থে উপদ্রুত এলাকায় জরুরী অবস্থা এবং বাংলাদেশের নাগরিক ব্যতিত সকলের জন্য সান্ধ্য আইন জারি করা উচিত।

৭) যেহেতু হঠাত আসা এই শরনার্থীদের জন্য স্থানীয়রা বেশ বেকায়দায় পড়েছে তাই তাদের জান-মালের নিরাপত্তা এবং সস্তায় নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা করতে হবে।

৮) রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্যে প্রয়োজন শক্তিশালী কূটনৈতিক ততপরতা। মুখে আস্ফালন আর বাস্তবে চাল কিনতে পাঠালে রোহিঙ্গা আর ফেরত যাবে না। আমার আপনার করের টাকায় এদের পালতে হবে বছরের পর বছর। কাজেই রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও আমাদেরকেই করতে হবে।

৯) সারা দেশে বৌদ্ধ ও আদিবাসী পাহাড়িদের জান মালের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। একজনের দায় আরেকজনের ঘাড়ে চাপানোর নোংরা কৌশল থেকে বের হয়ে আসা দরকার। ফেসবুকে ইতিমধ্যে কয়েকটা ঘটনা পেয়েছি যা জাতি হিসেবে মাথা নত করে দেয়। ক্ষেত্রবিশেষে আমরা যে মগেদের চাইতে নিকৃষ্ট সেটা প্রমাণ করা যেকোন মূল্যে ঠেকানো দরকার।

পাঁচ

পরিশেষে যেটা বলতে চাই। রোহিঙ্গাদের মধ্যে উগ্রপন্থী যে অংশটি আরাকান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে, তাদের ব্যপারে শংকিত হবার যথেষ্ঠ কারণ আমাদের আছে। আরাকান বলতে এরা যে রাষ্ট্রের কথা বলে সেখানে আমাদের কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত সেই রাষ্ট্রের অংশ। শরনার্থী হিসেবে আসা অনেক রোহিঙ্গাই বলছে এটা তাদের জমি, নিজের জমি দখল নিতে এসেছে তারা। আরসা বা আরাকান মুক্তি সংস্থার সদস্য প্রায় দেড় লাখ। এই বিশাল গেরিলারা কিন্তু বেশির ভাগই তাদের পরিবারের সাথে আসেনি। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের গহীন জংগল দিয়ে তাদের আমাদের দেশে প্রবেশ করা কঠিন কিছু না। নিকট অতীতে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি হামলায় রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও পাওয়া যায়। পাওয়া যায় জামায়াত ঘেষা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের বিভিন্ন ততপরতার খবরও। কি পরিমাণ রোহিঙ্গা আমাদের দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়াশুনা করছে, কি পরিমাণ আমাদের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে অবস্থান করছে তার কোন সঠিক হিসাব কারও কাছে নেই।

মানবতার খাতিরে কাউকে আশ্রয় দিয়ে নিজ ভূমে পরবাসী হবার কোন ইচ্ছাই আমার নেই। কথায় আছে 'চাচা আপন প্রাণ বাঁচা'। বন্যা পরবর্তী সময়ে চালের দাম যখন আকাশ চুম্বি তখন রোহিঙ্গাদের প্রতি সাধারনের ভালোবাসা আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে আসবে সেটাই স্বাভাবিক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীও কতটা আমাদের পাশে দাড়াতে পারে অতীত ঘাটলেই তার একটা নিদর্শন পাওয়া যাবে

সামনে কঠিন দিন আসছে। সরকারের জন্য আমাদের জন্য। সামনের বছর আবার নির্বাচন ! সব মিলিয়ে জমেছে খেলা !
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:৫২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হঠাৎ কেন ঢাকায় র প্রধান?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:২২


দিল্লী দখল ঠেকাতে ঢাকায় চলে এলেন র প্রধান!

হ্যাঁ, ঠিকই শুনলেন। ক'দিন ঐ র‍্যাডিসন ব্লুতে বসে অনেকের হাতে-পায়ে ধরলেন; বললেন, "তোমরা প্লিজ দিল্লী আক্রমণ করো না। আমাদের মিসাইল, অস্ত্র সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী কারা

লিখেছেন কিরকুট, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬


বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা হলেই আমাদের সামনে সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা কিংবা অন্যান্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কথা আসে। কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×