
আমার এই সময়ে জন্মগ্রহণ ও বেঁচে থাকার অন্যতম সার্থকতা হলো, আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের মহান রাজনৈতিক নেতা নরেন্দ্র ভাই মোদিকে জীবদ্দশায় দেখতে পাওয়া। তাঁকে জানা। তাঁর বহু সাক্ষাৎকার, ভাষণ, তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পক্ষ বিপক্ষের আলোচনা, যুক্তিতর্ক দেখেছি। এক অর্থে নিজেকে ছোটখাটো একজন মোদি গবেষক বলেও দাবি করতে পারি। হে হে হে। আর আমি পেয়েছি যে, তিনি দেবতুল্য মানুষ। তিনি অনন্য। তিনি বিস্ময়কর। আমি তাঁর প্রখর ব্যক্তিত্ব, সততা, বুদ্ধিমত্তা, কর্মকুশলতার একজন প্রথম সারির ভক্ত, অনুরাগী। আমার সবচেয়ে প্রিয় নেতা তিনি। প্রিয় ব্যক্তিত্বও তিনি। শুরুতেই যেমন বলেছি, এই মানবজীবনেরই অন্যতম অর্জন হলো, তাকে জীবদ্দশায় দেখে যাওয়া। সত্যি, এ এক দারুণ অভিজ্ঞতা। তাঁকে দেখলেই প্রাণ ভরে ওঠে। সাক্ষাত ঈশ্বর যেন মানব রূপ ধরে তাঁর মাঝে বিচরণ করছেন এ মর্ত্যলোকে। তিনি অসীম। কিংবদন্তিদেরও কিংবদন্তি তিনি। তিনি একজনই। তিনি প্রিয় নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি।
কয়েকবছর আগে একবার টিভির এক অনুষ্ঠানে মোদির পরিবার ও আপনজনদের দেখানো হচ্ছিলো। সেখানে এক পর্যায়ে তাঁর এক ভাইকে দেখলাম। তার ঘর। সাধারণ মধ্যবিত্ব পরিবার। বহু ব্যবহারে জীর্ণ সোফাসেট, খাট ও আরও দুয়েকটি আসবাবপত্র। রঙওঠা দেয়ালের পলেস্তারা খসে গিয়েছে দুয়েক জায়গায়। ভদ্রলোককে নরেন্দ্র মোদি’র সম্পর্কে বলতে বলা হয়েছিলো। দেখলাম যে, বলতে গিয়ে বারবার অভিমানী শিশুর মতো ঠোঁট বাঁকিয়ে কেঁদে উঠছে। কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। কিছুতেই শেষ করতে পারছে না। আসলে ভদ্রলোক দারুণ লজ্জা পাচ্ছিলো। অতো বড়ো বিশ্ব পরাশক্তি, গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর সহোদর, অথচ তার সেই ছোট্ট ঘরের মধ্যে একসঙ্গে পাঁচ ছ’জন মানুষের অবস্থানের মতো জায়গা অব্দি নেই! ভদ্রলোকের সেই সাক্ষাৎকার দেখতে গিয়ে আমার নিজেরও চোখ ভিজে এসেছিলো। আমি লিখে দিতে পারি যে, নরেদ্র মোদি তাঁর দীর্ঘ সফল রাজনৈতিক জীবনে যদি একটি দূর্নীতি একটি অসাধুতা করে থাকে, তবে সেটা হলো, তাঁর সেই আপন মায়ের পেটের ভাইকে সেদিনের তার সেই ছাপোষা অসহায় মধ্যবিত্বের লজ্জা থেকে বাঁচানো। ব্যাপারটা আদতে চুটকী বাজানোর মতো সহজ ছিলো তাঁর জন্য। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি করতে পারেন না। কারণ তিনি নরেন্দ্র মোদি। আমি তাঁর মা, বাকি ভাই ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও দেখেছি, সবাই বড্ড সাধারণ, একেবারে মাটি ঘেঁষা কোমলপ্রাণ মানুষ। বিরাট পরিবার আত্মীয়স্বজনদের কেউই জীবনের কোনও পর্যায়ে, গুজরাটের মূখ্যমন্ত্রীত্ব থেকে শুরু করে আজকের এই ভারত দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত নরেন্দ্র ভাই মোদি’র কাছ থেকে কণা পরিমাণও কোনও সুবিধা পাননি, এ আমি হলফ করে বলে দিতে পারি। কারণ তিনি নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি। তিনি ঈশ্বরের মহামূল্যবান উপহার পৃথিবীতে। মানবসভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ। আমার তাঁকে নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে। বলতে চাই। আমি তাঁর দারুণ গুণমুগ্ধ, অনুরাগী একজন। এরকম একজন মহান নেতাকে নিয়ে দু’লাইন লিখতে পেরেও ভীষণ গৌরব হচ্ছে। ভালো কিছু করতে পারছি জীবনে।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




