somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার দেখা শূন্য দশক

২৫ শে জুন, ২০২৩ রাত ৮:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সেই প্রথম কৈশোরে দুয়েক বছর ঢাকার শেওড়াপাড়ায় ছিলাম। বিন্দুবৃত্ত গলি। এক তালা বাড়ি। বইয়ের পোকা নিষাদ আপুদের বাড়ি। বর্ণনাতীত উপভোগ্য ছিলো সময়গুলো। পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে বেড়াতাম। হ্যা, উড়েই বেড়াতাম ডানা মেলে। নির্ভার নিশ্চিন্ত। ঢাকার বিখ্যাত স্থাপনাগুলোর দুয়েকটা ওখান থেকেই প্রথম দেখা। তীব্র রকমের রোমাঞ্চকর ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতাগুলো। ভালো একজন বন্ধু পেয়ে গিয়েছিলাম। সেই সব ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখিয়েছিলো। অনেকটা ট্যুর গাইডের মতো সাহায্য করেছিলো সে সব আলোকোজ্জ্বল আনন্দ ভ্রমণে। অতিমাত্রায় লজ্জিত বোধ করছি বলতে যে, তার নামটাও আজ ভুলে গেছি। নাহ, কিছুতেই মনে পড়ছে না! সত্যি, বড্ড লজ্জাজনক। সামান্য নামটাও মনে রাখতে পারিনি! ঢাকার সংসদ ভবন, চন্দ্রিমা উদ্যাণ, চিড়িয়াখানা ইত্যাদি ওর বদৌলতেই দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো।

সে সময় আমেরিকান প্রোফেশনাল রেসলার ডোয়াইন জনসন ওরফে দি রকের বিরাট ক্রেজ তৈরি হয়েছিলো দেশজুড়ে। বিশেষভাবে রকের হেয়ারস্টাইল ভীষণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো কিশোর তরুণদের মাঝে। ফেস কাটিং যেমনই হোক সবাই ওরকম হেয়ার স্টাইল রাখতে পছন্দ করতো। প্রতিটি সেলুনেই রকের বিশেষ একটি ছবি ঝুলতে দেখা যেতো। দি রক ও শূন্য দশক পরষ্পর অঙ্গাঙ্গী জড়িয়ে আছে আমার স্মৃতিতে। রেসলিংয়েরও ফ্যন ছিলাম। সপ্তাহে একদিন হতো একুশে টিভিতে। ডিস সংযোগে স্পোর্টস চ্যানেল ইএসপিএন নিয়মিত দেখাতো। পারতপক্ষে মিস করতাম না। রক ছাড়াও আরও দুয়েকজন ছিলো প্রিয়। এদের মধ্যে বিল গোল্ডবার্গ, স্টিভ অস্টিন অন্যতম।

ফিচার ফোন মানুষের হাতে উঠতে শুরু করেছে। শূন্য দশকের শুরুর দিকের কথা। বড়সড় লম্বাকৃতির বাটন মোবাইল ফোন। ফোনে কথা বলা, টেক্সট মেসেজ বিনিময়, ফোনবুক সুবিধা ও টাইম পাসের জন্য দুতিনটি ফ্রী গেম। এই তো। হাতে হাতে ঘুরছে মোবাইল। হাওয়ায় উড়ছে শূন্য দশক। এভাবে এক পর্যায়ে ফনল্যান্ডের বিখ্যাত মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নোকিয়া আগাগোড়া দখল করে নিলো বাংলাদেশের মুঠোফোন বাজার। সে সময় দেশে ব্যবহৃত ফোনগুলোর আশি শতাংশই ছিলো নোকিয়ার তৈরি বিভিন্ন ফিচার ফোন। আহা, কে ভেবেছিলো, নোকিয়ার মতো মোবাইল ফোন নির্মাতা এরকম জায়ান্ট আর মাত্র এক দশক পরই টাচস্ক্রীন, স্মার্টফোনের জামানায় সমস্ত মার্কেট শেয়ার হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে যাবে!

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৬
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩


হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রশ্নের আগুন যুক্তির মহাযাত্রা :প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য ২য় পর্ব ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:০৮


আদিতে ছিল প্রশ্ন
অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়িয়ে মানুষ
চেয়ে দেখেছিল নক্ষত্রের দিকে
মনে তার জেগেছিল বিস্ময়
কে জ্বালালো এই দীপ
কেন ঘোরে পৃথিবী, কেন নামে বৃষ্টি
কেন জন্ম, কেন মৃত্যু
কেন এই অনন্ত চলা?
উত্তর ছিল না হাতে
ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×