somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মতামত পোস্ট: শেখ হাসিনার যে ভুলে দেশ আজ দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কটে

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শেখ হাসিনার একটা শিক্ষা হওয়া দরকার ছিলো। সেটা হয়েছে। অতিমাত্রায় উগ্রবাদ, মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে দিয়ে দেশের বারোটা বাজিয়েছে। ৮০’র দশকের শুরুর দিকে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে মোল্লা মৌলবিরা যখন আমেরিকান ডলারের জোরে নাচানাচি শুরু করলেো, তখন সোভিয়েত প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হলো। সেসব অতি উৎসাহী কট্টরপন্থী মোল্লা মৌলবিদের প্রকাশ্য দিবালোকে সবার সামনে হাত দিয়ে দাড়ি টেনে ছিড়ে ফেলা শুরু করলো। কোনও মহিলাকে তার পোষাক নিয়ে উত্যক্ত করা হলে এই আফগানিস্তানের পুলিশই সে সময় হাত দিয়ে দাড়ি টেনে ছিড়ে ফেলতো। (তখনকার ছবিতে দেখতে পারবেন কতোটা স্বাধীন, আধুনিক ছিলো আফগানিস্তানের নারীরা!) ফলস্বরূপ হঠাৎ সেখানে ব্লেডের দুস্প্রাপ্যতা দেখা দেয়। দাম অত্যধিক বেড়ে যায়। পুলিশ প্রশাসনের কঠোর এ্যাকশানের ভয়ে জান বাঁচাতে ব্লেড নিয়ে পাহাড়ে গিয়ে দাড়ি কাটা শুরু করেছিলো এইসব কট্টরপন্থী মোল্লা মৌলবিরা। যেমন কর্ম, তেমন ফল। (পরে ভূরাজনৈতিক কূটকৌশলে পরিস্থিতি বদলে যায় যদিও।) যাই হোক, সেটা এ লেখার আলোচ্য বিষয় নয়। ঢালাওভাবে সবাইকে বলছি না। যারা বাড়াবাড়ি করবে, অবশ্যই তাদেরকে কঠিনভাবে সাইজ করতে হবে। যে কোনও সভ্য সমাজের আইনও নিঃসন্দেহে তাই বলে। আমি নিজে বেশ কবার চলার পথে দেখেছি, নারীদেরকে তাদের শালীন পোশাকআশাক নিয়েও এইসব বজ্জাত, হারামি মোল্লা মৌলবিরা প্রকাশ্যে কুরুচিপুর্ণ মন্তব্য করছে। আমার হাত তখন নিশপিশ করতো। পারতাম যদি শুয়োরের বাচ্চাগুলোর মুখ থেকে লম্বা দাড়িগুলো টেনেটেনে ছিড়ে ফেলতে! আর ঠিক এ জায়গাতেই শেখ হাসিনার বিরাট ভুল হয়েছে। মৌলবাদ উগ্রবাদের মূলোৎপাটনে কঠোর হবার বদলে, এদের স্বাধীনভাবে বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে তার পুরো সময়কালে। উপরে উপরে কঠোরতা দেখালেও ভিতরে ভিতরে পুরোদমে তাদের কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে দিয়েছে। তারই পরিণাম আজ এই বিপন্ন, ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ। মনে পড়ছে, বিভিন্ন সময় হেফাজতে ইসলাম, এটাসেটা কট্টরপন্থী জঙ্গি মৌলবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে শ্রদ্ধেয়া ব্যারিস্টার সাহারা খাতুন, মতিয়া চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুয়েকজন নেতা যখন কঠোর অবস্থান নিয়েছিলো, তখন শেখ হাসিনা তাদের নিবৃত্ত করেছিলো, আপত্তি জানিয়েছিলো। তাদের কঠোর না হতে নির্দেশ দিয়েছিলো। নমনীয় হতে বলেছিলো। পরবর্তীতে তিনি উল্টো তাদের আলোচানায় ডাকেন। চা-নাস্তা করান। নরম নরম কথা বলেন। আরেকটু হলে তো তেতুল হুজুরকে কোনও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে ক্ষমতা ভাগাভাগির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো দেশে। শেখ হাসিনার চরম ভুল ছিলো সেটা। লাভ কিছুই হয়নি। দুধকলা দিয়ে বিষাক্ত সাপ পেলেপুষে বড়ো করেছেন। সতেরো বছর দেশ চালিয়েছেন শেখ হাসিনা। যেখানে তাঁর দেশজুড়ে আধুনিকতা, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তির শুরু থেকেই ব্যাপক চর্চা করার দরকার ছিলো; সেটা না করে অন্ধভাবে মৌলবাদ, ধর্মান্ধতাকে প্রশ্রয় দিয়ে গেছেন। যা দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর সতেরো বছরে দেশে যে পরিমাণ মসজিদ-মক্তব, মাদ্রাসা, লিল্লা বোর্ডিং, গঞ্জেগানা গড়ে উঠেছে, তা আজ ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে দেশের জন্য। এগুলোর সিংহভাগই সরকারি সম্পত্তি দখল করে গড়ে উঠেছে। রাষ্ট্র, প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব ছিলো। এভাবে অবাধ সুযোগ দেয়া হয়েছে এইসব কট্টরপন্থী মোল্লা মৌলবিদের। এমনিতেই দেশজুড়ে রাস্তার মোরে মোরে মসজিদ মাদ্রাসা, গঞ্জেগানা, লিল্লা বোর্ডিং দেখা যায়। তার ওপর আলাদাভাবে মডেল মসজিদ মাদ্রাসা বানানোর কোনোই দরকার ছিলো না। আমি নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার, শুদ্ধ থাকতে চাই। শেখ হাসিনা তাঁর সতেরো বছরের শাসনামলে যেভাবে মৌলবাদ, উগ্রবাদকে অবাধ বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে, তা ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্থ করেছে দেশকে। এরা আজ এই রাষ্ট্রের বিরাট এক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌলবাদ, উগ্রবাদের চারণভূমি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। একটু কিছু হলেই এইসব মসজিদ মাদ্রাসা, লিল্লা বোর্ডিং থেকে লাখো লাখো মানুষ নেমে আসবে রাস্তায়! দীর্ঘমেয়াদী সঙ্কটে পড়েছি আমরা। আরও প্রচুর ভুগতে হবে আমাদের।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, ছেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২১

মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা আছে। কুমিল্লার এমনই একটি ঘটনার কথা বলেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা -

কুমিল্লা শহরের উত্তর দিকে রসুল আহমদ নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×