somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ও.....

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ওর সাথে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল কোন একদিন স্কুলের টিফিনের ফাকে।আর আমি সেদিন থেকেই, ,,,,

টিফিন পিরিয়ডে যে রকম ঘন্টা আমাদের দপ্তরি চাচা বাজাত তারচেয়ে ভিন্নভাবে আমার মনে বেজেছিল ঘন্টা ওকে দেখে।

প্রথম দেখায় পাগলপ্রায় হয়ে গিয়েছিলাম। খুব ভালোবেসে ছিলাম ওকে।
বিষয়টা প্রথমে কাউকেই জানাইনি।তবে জানিয়েছিলাম আমার ডায়রির পাতা গুলো কে। কিন্তু আমার ডায়রিও যে ফাস হবে তা কে জানত।আসলে বন্ধুদের কাছে সম্ভবত এই জিনিস টা গোপন থাকে না।

ক্লাসের ফাকে প্রায়ই দেখতাম ওকে।কখনো চোখাচোখি হলে আমি চোখ ফিরিয়ে নিতাম।সেটাকি ভয় ছিল নাকি লজ্জা ছিল তা আমি আজও জানি না।

প্রায় দেড়মাস লেগেছিল ওর সাথে চোখাচোখি হতে।এরপর প্রায়ই ওর পেছন পেছন যেতাম। তারপর আপনা থেকেই পেছন যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম।যদি ও খারাপ ভাবে।

ইয়ার ফাইনালের রেজাল্ট বের হয়েছিল ।আমি ছিলাম 'ক' বিভাগে ২য় আর ও ছিল 'খ' বিভাগে ২য়। অনেক মিল ছিল দুজনের মধ্যে। জন্মদিন পর্যন্ত মিল ছিল আমাদের। তারপরও কেন জানি বলতে পারতাম না।

স্পোর্টস ডে ছিল সেদিন সম্ভবত ৮ই মার্চ নারী দিবসে।আমাদের প্রিন্সিপ্যাল স্যার বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজকরেছিলেন। শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ও বিতর্ক করেছিল কিন্তু হেরেছিল বলে খুব কান্না করেছিল সেদিন।ওর কান্নামাখা মুখ খানি অনেক সৌন্দর্য ছিল যার মধ্যে থেকে আমি কেন জানি চোখ ফেরাতে পারতাম না।

"আমি তোমাকে ভালবাসি" শেষ পর্যন্ত বলেই ফেললাম।প্রথমে গলায় আটকে গিয়েছিল ।অনেক ভয় নিয়ে বলেছিলাম।

তারপর সে কি কান্না! !!!! সেদিন আমি হাসব না কাদব বুঝতেপারছিলাম না।ও আমাকে আমার হাত ধরে বলেছিল,কখনো ছেড়ে চলে যাবে না তো?
_তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলেও আমি তোমাকে ছাড়বো না। বলেছিলাম আমি।

ও আকাশ আর বৃষ্টি খুব ভালোবাসত। অবশ্য তার চেয়ে আমায় বেশি ভালোবেসে ছিল সে।

শীতে আমাদের মর্নিং ক্লাস হত,সম্ভবত ৮টায়।আমি আর ও স্কুলের সবার আগে যেতাম।

ও আমার জন্য নিয়ে আসত পিঠা আর আমি ওর জন্য নিয়ে আসতাম ফুল। ওর খোপায় পড়িয়ে দিতাম।

স্কুল থেকে শিক্ষা সফরে যাবে বলেছিল কিন্তু....

'স্কুল থেকে সবাই যাচ্ছে, তুমি যাবে না?'
'না যাব না'
'কেন যাবে না? তাহলে আমিও যাব না'
'তুমি যাবে না কেন?"
'তুমি যাবে না তাই'
'প্লিজ ....তুমি যাও। তুমি বুঝতে পারছোনা'
'কি বোঝাতে চাও তুমি।তুমি যাবে নাতো।তাহলে আমিও যাব না এই আমার শেষ কথা'
'চলে যাচ্ছ??'
'তাহলে কি করব!'
'এই নাও...'
'কি ওটা?'
'আরদেখইনা'
'তারমানে তুমি যাবে, তাহলে এমন করলে কেন?'
'তোমাকে রাগাতে,পাগলি একটা '

সেদিন হেসেছিল খুব। সম্ভবত আকাশে সূর্যের বদলে চাদ থাকলে চাদটাও হাসত।

ও খুব গল্প করতে পারতো। যখন কথা বলত আমি শুধু ওর কথা শোনতাম র হা হু করে মাথা নাড়াতাম।

প্রায়ই সময় রাত্রে দাদীর মোবাইল টা চুরি করতাম ওর সাথে কথা বলার জন্য। ও কি ভাবে মোবাইল ব্যবস্থা করত তা আমি জানতাম না জানার দরকার ও ছিল না।কারন সেই বয়সে তো আর কেউ সেধে সেধে মোবাইল দেয় না আমারো ছিল না।

এভাবেই কাটছিল আমাদের দিন গুলো।

ক্লাস প্রোমোশনের সময় ওর একটা সমস্যা হয়েছিল ঠিক সমস্যা না ছিল একটা রোগ পরে জানতে পারলাম অন্য কিছু।

ও আমাকে ওর জীবন থেকে ছাড়াতে চাইত কিন্তু আমি ছাড়তাম না, বাধা দিতাম।

মাঝখানে দুটি বছর কেটে গেল...
আমি মাধ্যমিক দিলাম ওকে ছাড়াই।ও থাকলে আমার সাথেই দিত।
মাঝে মাঝে কোচিং ক্লাস শেষেও দাড়িয়ে থাকতাম আর ভাবতাম এই এসে আমার হাত ধরে বলবে"কি হল আস"
কিন্তু না এসব বলার মত আর কেউ নেই এখানে, আর আসবেই বা কোথা থেকে।

ওর শেষ স্মৃতিটুকুও হারিয়ে ফেলেছিলাম বলতে গেলে নষ্ট করে ফেলেছিল আমারই ছোট ভাইটা।

স্কুল ছেড়ে বাড়ি ছেড়ে কলেজে ভর্তি হলাম, সেই সাথে হোস্টেল লাইফে। প্রথম প্রথম মানাতে পারতাম না।এখন ঠিক হয়ে গেছে....মধ্যিখানে আরো দুটি বছর।
অনেক কিছু হারিয়েছি আবার অনেক কিছুই পেয়েছিও।

"ভালোবাসতাম আমি তোমাকে অনেক"আমি স্বার্থপর তোমার কথা রাখতে পারিনি বলে।

ভালো থেকো তুমি, স্মৃতির পাতায় থাকো খুজলে যেন তোমাকে পাই।।। :'(
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×