
কয়েক মাস হলো বোন ফাতিমা’র সাথে পরিচয়। ভারতের দিল্লী- তে থাকেন, একজন কনভার্টেড মুসলিমা। বেশ ইনোসেন্ট। জানার আগ্রহ হয়েছিলো কিভাবে তিনি ইসলামে এলেন। গতকাল তাঁর কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনার পর সুবহান’আল্লাহ!!! আমি ভীষণ এমাজড। আল্লাহু আকবর।
বোন ফাতিমা’র ঘটনার অনুবাদঃ
“আমি যখন হেদায়াত প্রাপ্ত হই তখন ২০০৪ সাল, ক্লাস এইট-এ পড়ি। তিন বছর বয়সে আমার বাবা মারা যান। আমি, আমার ছোট বোন এবং আমার মা এই তিনজন মিলে আমাদের পরিবার দিল্লী-তে থাকি। এই পৃথিবীতে আমাদের আর কেউ ছিলেন না। শুধু আমরা তিনজন।
আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলাম। নাম ছিলো "খুশবু পান্ডে"। আমি ছিলাম খুব ইমোশনাল আর ভীষণ একাকীত্ব বোধে ভুগতাম। প্রায়ই আমি অভিযোগ করতাম সৃষ্টিকর্তার কাছে, কেন তিনি আমাদেরকে একজন ভাই দিলেন না এবং কেন তিনি আমাদের বাবাকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গেলেন আর কেন আমাদের কোনো আত্মীয়স্বজন নেই?
আমি ক্লাস এইট-এ পড়ার সময় আমার মা ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন এবং রোগটি লাষ্ট ষ্টেজে এসে পৌঁছেছিলো। ওটা ছিলো আমার জন্য বিধ্বস্ত মুহূর্ত। আমি মন্দিরে গিয়ে হিন্দু দেবতাদের কাছে অনেক প্রার্থনা করেছিলাম, আস্তাগফিরুল্লাহ!! আমি অনেক অনেক প্রার্থনা করেছিলাম আমার মায়ের জীবন রক্ষার জন্য এবং আমি কোনো সাহায্য পাইনি। কোনো উত্তর পাইনি।
একদিন রাতে আমি ভীষন কান্না করছিলাম এই ভেবে যে আমার মা শীঘ্রই মারা যেতে পারেন। একই রাতে আমি একটি স্বপ্ন দেখলাম যে, লম্বা দাড়ি সহ একজন বৃদ্ধ লোক এবং তাঁর শরীর থেকে সুন্দর আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। তিনি বলছিলেন, “আল্লাহ্ আল্লাহ্ আল্লাহ্ পারেন তোমার সমস্যার সমাধান করতে, একমাত্র আল্লাহ্ই পারেন। আল্লাহ্র কাছে চাও।“ তিনি অনবরত “আল্লাহ্” উচ্চারণ করছিলেন.........।
আমি সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম এবং আমার স্বপ্ন নিয়ে ভাবতে লাগলাম। আমি খুবই শকড হয়েছিলাম কারন আমি মুসলিমদের ধর্ম ঘৃণা করতাম আর আমি কিনা স্বপ্ন দেখলাম মুসলিমদের আল্লাহ্ সম্পর্কে!! আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। আমি সারাদিন ভাবছিলাম আমার স্বপ্ন সম্পর্কে এটা কি সত্যি নাকি মিথ্যা!!!
এদিকে আমার মায়ের অপারেশনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ডাক্তার বললেন, যেহেতু ক্যান্সার টিস্যু গুলো অতিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে তাই অপারেশনের সময় তিনি মারা যেতে পারেন। যখন আমার মায়ের অপারেশন চলছিলো আমি মহান আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করছিলাম আমার মায়ের জীবন রক্ষার জন্য। আমি অনেক কান্না করেছিলাম। সেই দিনটি ছিল এমন একটি দিন যেদিন সারাদিন আমি শুধুমাত্র আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করেছিলাম।
অবশেষে মহান আল্লাহ্ আমার মাকে বাঁচালেন। আলহামদুলিল্লাহ্, এখন তিনি সুস্থ। সেইদিন থেকে আমি আল্লাহ্কে ভীষন ভালোবাসতে শুরু করেছি। আর আমার চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছিলো আল্লাহ্র পথে হাঁটার।
আমার এলাকাতে একজন মুসলিমের জন্য আল্লাহ্র পথে চলা খুবই কষ্টকর কিন্তু মহান আল্লাহ্ আমার জন্য তা সহজ করে দিয়েছিলেন। আমি একজন মুসলিম মেয়ে খুঁজছিলাম যাতে আমি ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারি। এরপর আমি আমার ক্লাসে একজন মুসলিম মেয়ে পেয়েছিলাম যে নতুন ট্রান্সফার হয়ে আমাদের ক্লাসে এসেছিলো। সে ছিলো আমার প্রথম শিক্ষক যে আমকে ইসলাম সম্পর্কে শিখিয়েছিলো, নামায শিখিয়েছিলো।
এরপর আমি কিছু বই কিনে দোয়া এবং কলেমা শিখেছিলাম, ধীরে ধীরে আমার ঈমান বৃদ্ধি পেতে থাকলো। এরপর আমি নামায আদায় এবং অন্যান্য ইসলামিক কর্ম পালন করা শুরু করলাম একজন মুসলিমা হিসেবে। আমি "ফাতিমা" নাম গ্রহন করলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ্ পাক আমাকে একজন ধার্মিক হাজব্যান্ড দান করলেন যিনি আমাকে ইসলামের পথে চলতে সাহায্য করেন। “
সুবহানআল্লাহ, আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


