somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমার ছবি আঁকা

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একবার আমি তোমার ছবি আঁকার চেষ্টা করেছি! আমার জানা মতে, প্রায় প্রত্যেক প্রেমিকই কোনও না কোনও এক সময় নিজের প্রেমিকার ছবি আঁকার চেষ্টা করে। তখন ছবি আঁকার জন্য আর্টিস্ট হতে হয় না। রং তুলির প্রয়োজন হয় না। একটা পাঁচ টাকার কলম অথবা একটা টু বি পেন্সিল হলেই চলে।

আমার কাছে পেন্সিল ছিল না। একটা কলম ছিল। তাও কালি অল্প! তোমার চেহারা আঁকতে ওই অল্প কালিই যথেষ্ট হবে। আমার ওই কলমটাতে যতটুকু কালি ছিল, ওতে তোমার শ'খানেক ছবি অনায়াসেই আঁকা যেত!

টেবিলে ফার্স্ট সেমিস্টারের অ্যাসাইমেন্টের জন্য মোটা কাগজ ছিল। অ্যাসাইনমেন্ট অনেক আগেই শেষ কিন্তু কয়েকটা পৃষ্ঠা বেঁচে গেছে।
পৃষ্ঠা গুলো, কলমটা নিয়ে খাটে এসে বসলাম। এমন অবসর রাত্রি বেলা আমার হয় গান শুনে কাটে নয়তো এডাল্ট সিনেমা। আজ এসবের কিচ্ছু ইচ্ছে করছে না। তোমার ছবি আঁকব, শুধু তোমার ছবি..
.

আমার ছবি আঁকার হাত ভালো না। ছোট বেলায় একবার আর্ট স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম। কিচ্ছু শিখতে পারিনি, এটা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি!
প্রাইমারিতে ড্রইং পরীক্ষাতে কখনও রঙের ব্যবহার করতাম না। একটা পেন্সিল দিয়ে আঁকা ওই গ্রামে ঘরবাড়ি স্কেচ করতাম। আমার চোখে ওই ছবি গুলো বেশ সুন্দর লাগতো। নম্বর অবশ্য ভালো পেতাম না। তবে ওই ছবিগুলি এঁকে আমার আত্মতৃপ্তি হতো...

বৃষ্টি হচ্ছে, বিদ্যুত চমকাচ্ছে, হঠাত্ তোমার কথা মনে পড়েছে আর আমি আবেগ প্রবণ হয়ে তোমার ছবি আঁকাতে বসে গেলাম, সিচুয়েশনটা ঠিক এমন না। অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম তোমার একটা ছবি আঁকা দরকার, তোমাকে উপহার কিংবা সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য না। নিতান্তই নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য। আর ভালোবাসা মানুষের ছবি আঁকার চেষ্টা করা, প্রেমিক প্রেমিকার একটা অসুখই বৈকি...

অনেকেই এরকম ছবি আঁকার চেষ্টা করে। কেউ হুবহু এঁকে ফেলতে পারে! তো কেউ শুধু পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা নষ্ট করে। আমি আবার ভেবে রেখেছিলাম, যদি দুই তিনবারে তোমার ছবি না আঁকতে পারি তাহলে চারুকলা বিভাগের এক বন্ধু আছে, আর্টিস্ট, দারুণ ছবি আঁকে, ওকে দিয়ে তোমার ছবি আঁকিয়ে নিব। ওকে একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমার একটা ছবি এঁকে দিবে কিনা। ও দুইশো টাকা দাবি করেছিল। শালা বন্ধুর ছবি আঁকাবে, তাই বলে টাকা নিবে! রাগ করে চলে আসি!

চারুকলার স্টুডেন্টের যে অবস্থা, ওই হিসেবে ওর দুইশো টাকা চাওয়া দোষের কিছু ছিল না। তবে আমি ভুল করেছি সেদিন চা আর একটা সিগারেট খাইয়ে দিলেই সে, আমার ছবি এঁকে দিত!

.

আলতো আলতো করে, ওই শক্ত কাগজে তোমার চোখ আঁকলাম, ঠোঁট আঁকলাম, নাক-কান চুল আঁকলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম, যদি পুরোপুরি তোমার ছবি আঁকতে পারি, তাহলে ছবিতে তোমার কপালে একটা টিপ এঁকে দিব!
কিন্তু ছবিটা এঁকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম আমি কিছুক্ষণ!

ছবিটা যদি তোমার চেহারার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে আমি ধারের কাছেও আঁকতে পারিনি তোমাকে! ছবিটাকে ভীষণ রকমের জঘন্য মনে হল। এত খারাপ ছবি আঁকি আমি, বিশ্বাসই হচ্ছিল না! আমার আঁকা এই ছবিটা কিছুটা আমাদের বাসার দারোয়ান চাচার মতো মনে হল। আঁকলাম তোমাকে (ভীষণ সুন্দর একটা মেয়ে) কল্পনা করে, কিন্তু প্রতিফলন ঘটল দারোয়ান চাচার! নিজেকে নিজে গালি দেওয়া যায়?

আঁকতে আর ইচ্ছে করছে না। এমন জঘন্য কিছু আঁকার পরে, আঁকার ইচ্ছে মরে যাওয়াই উচিত! ভাবলাম, সকালে উঠে গিয়ে দারোয়ান চাচাকে ছবিটা দিয়ে আসবো। খুশি হবেন তিনি। বালিশের পাশে সব রেখে লাইটটা অফ করে ঘুমোতে গেলাম।

কিন্তু ঘুম আসে না। অনেকক্ষণ এপাশ ওপাশ করলাম। আবার উঠে পড়লাম। ভীষণ বিরক্তি লাগছে। লাইট জ্বালিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম, মাত্র দশ মিনিট অতিবাহিত হয়েছে! বিরক্তিকর মূহুর্ত গুলো যেন যেতেই চায় না।
আবার কাগজ কলম নিয়ে বসলাম। মাঝখানে মুখে পানি দিতে গিয়ে বাথরুমে পা পিছলে পড়ে গেলাম।

দ্বিতীয় বার আঁকতে আঁকতে লক্ষ করলাম, একটা দারুণ সুন্দরী মেয়ের ছবি এঁকেছি! কিন্তু এই মেয়েটা তুমি না। আমার ডিপার্টমেন্টের অবিবাহিত সুন্দরী এক ম্যাডাম! আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না, কল্পনা করছি তোমাকে, আঁকছি তোমাকে কিন্তু কাগজে ফুটছে অন্য কারও চেহারা!

আমি পানি খেয়ে একটা বড় নিশ্বাস নিলাম। চোখ বন্ধ করে তোমাকে আবার কল্পনা করার চেষ্টা করলাম। মানুষ যখন কাউকে কল্পনা করার চেষ্টা করে, তখন সেই মানুষটার চেহারা আবছা আবছা হয়ে বন্ধ চোখের সামনে ভেসে উঠে। তোমার ঠোঁট, তোমার চোখ, তোমার চুল, তোমার হাসি, তোমার গলা আবছা আবছা হয়ে আমার চোখে ভাসতে লাগল!
তোমার হাসির শব্দও যেন শুনতে পেলাম। অনেকক্ষণ ধরে তোমাকে এভাবে কল্পনা করলাম!

আঁকতে আর অসুবিধে হল না। আমি যেন রীতিমতো ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছি তোমার ছবি আঁকাতে আঁকতে! সচরাচর নেশাটেশা করি না। মাঝে মধ্যে সিগারেটে দু একটা টান।
ছবিটা অল্পক্ষণের মধ্যেই একেবারে কমপ্লিট! তুমি যেন একটা মুচকি হেসে আমার দিকে তাকিয়ে আছো! আমি তাহলে পেরেছি তোমাকে আঁকতে! আমি পেরেছি! রীতিমতো উল্লাস করতে ইচ্ছে করছে! চিত্কার করতে ইচ্ছে করছে!
.

আমি ছবিটা তোমার জন্য আঁকি নি। ছবিটা আমি আমার ডায়রির মধ্যে রেখে দিয়েছি। টাইটানিকের জ্যাকের মতো প্রেমিকার ছবি এঁকে প্রেমিকাকেই দিব না। মানুষ কখনও নিজের ছবি দেখে কারও কথা মনে করে না। তোমাকে যদি দিতেই হয়, তাহলে কোনও দিন, আমি আমার ছবি এঁকে তোমার উপহার দিব!

যাতে সেই ছবি দেখে আমার কথা মনে পড়ে তোমার। সঙ্গে আমার ওই ডায়েরিটাও তোমাকে হয়তো দিব। ওই ডায়েরির গল্পটা আবার আলাদা। এখন আর বলতে ইচ্ছে করছে না। অন্য একদিন বলব। আপাতত একটু অপেক্ষা করো। তবে, এই "অন্য একদিন" আদৌ কোনও দিন আসবে কিনা সেটা বলতে পারছি না... 
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:০৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×