
পাট আর দড়ির সুচারু নকশার ভিতর কেবল নিরানন্দ ও নৈঞবাদ
ছাড়পোকার আদলে চলাফেরা করে ফ্যাসিস্টদের মতন ;
অর্থময় ডানার প্রজাপতি কিম্বা খুকির বিড়ালছানা যেই বা বসে এই জমিনে
সহসা প্রজাপতি ফের রূপান্তরিত হয় কীটে আর বিড়ালছানা ঘেয়ো কুকুরে ;
বুঝামাত্রই যাবতীয় সব আমোদ আর আনন্দ চলে গেলে ছাড়পোকার গ্রাসে
আমি কেবল শুনতে থাকি ফেরেশতাদের মর্মন্তুদ আর্তনাদ ;
বিষণ্নতার ব্ল্যাকআউটে চারদিক ভরে গেলে জলপাই অন্ধকারে
পাপোশের লাল পটভূমি ঢেকে গেলে সজীব রক্তের উজ্জ্বলতর লালে
পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতন আমি শুয়ে থাকি ঘূণেধরা দরোজার সামনে ;
কোথাও আমার ভিতরে ধীরে ধীরে এক পৃথিবী মরে যায় ;
উপস্থাপিত শূন্যতা ভরে যেতে থাকে ততোধিক শূন্যতায় ;
কেউ যদি আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায় তা কি খুব অস্বাভাবিক ?
কে সাধ করে দিবে পা এই পচা শামুকে ? কার এত উদ্বৃত্ত সময় ?
কে দিবে পা এই অশুভ টেক্সটাইলে ? কার এত উদার পদযুগল ?
এই হৃদয় ভরে গেছে জমে গেছে অপ্রতিরোধ্য স্নায়ুখেকো পিপীলিকায়
স্বাভাবিক আনন্দ-আমোদ আর ভালোবাসার সব তন্ত্র আর শিরা গেছে ছিড়ে ;
এখন যদি বার্বিডলের কোমল সু এসে ভর দেয় তবে নেই কোনো হর্ষ
এই পাজরের কোমলতাসৃষ্ট যাবতীয় সুখ আস্বাদনের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে ;
এই হৃদয় এখন শুধু নিষ্ঠুরতম ক্ষুরধার বেদনার ভাষা বুঝে ;
এই শহরে তবু জানি আছে কেউ কেউ যারা বিনাস্বার্থে ব্যথা দিতে ভালোবাসে
যাদের চার ইঞ্চি উচু চকচকে কালো হাইহিল কেবল কোমলতা ছিন্ন করতে চায়
যাদের ক্ষুরধার পেন্সিল হিল যন্ত্রণাদায়ক চাপ দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে প্রতীক্ষায় ;
আমার এই অভিশপ্ত পাপোশ-হৃদয় এই চরম আত্মঘাতী সুখের লোভে তাই শুয়ে থাকে
এই শহরের নিষ্ঠুরতম প্রতিটি মহিলার দরোজার সামনে পূজারীর মত প্রতীক্ষায় ;
আপাতত শুয়ে আছি ; অনুভব করছি নিরানন্দ আর নৈঞবাদের যথারীতি কার্যক্রম ;
দেখছি এই পাট আর দড়ির জমিন সিক্ত হয় নিরর্থক জীবনের লালে ;
অনুভব করছি আমার সবগুলো আঁশ , রোম রূপসীর পায়ের জন্য খাড়া হতে থাকে ;
প্রতীক্ষা করছি কখন তার হৃদয় ভরে যাবে অবহেলার কালো মেঘে ;
কবে তার হৃদয় তথা হাইহিল ভরে গেলে বেদনাদাত্রী কালো মেঘে
আমার সমগ্র শূন্যতার লাল রঙ ভরবে বেদনার গাঢ় গভীর নীলে ।
আমি আমার অবচেতনে কেবলি শুনি ,
ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



