
সাধারণত বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি করে পুলিশ, এতে প্রাণহানির চেয়ে বিক্ষোভ বানচাল করে দেওয়াটাই উদ্দেশ্য হয়।
কিন্তু বাঁশখালীর ঘটনায় জনসাধারণকে হত্যা করাটাই ছিল টার্গেট, গুলিবিদ্ধ মানুষের লাশের সুরতহাল দেখে এটাই প্রমাণিত হয়। একেকটা মানুষের গায়ে ৮-১০টা গুলি।
নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৬ জন, এই সংখ্যা দেখে বিভীষিকার তীব্রতা বুঝা যাবে না, যদি না শতাধিক মানুষের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টা আমলে না নেই, স্রেফ ব্রাশ ফায়ার করা হয়েছে, একদল মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারা হয়েছে।
মানুষগুলো জানতোও না যে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে তাদেরকে জানানোও হয়নি, মাইকিংও করা হয়নি।। নিচের ভিডিওতে গ্রামবাসীর মুখেই শুনুন ঘটনার পূর্ন বিবরণ-
মেইনস্ট্রীম মিডিয়াগুলো প্রচার করেছে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত হয়েছে। অথচ গ্রামবাসী শুধু মিছিল করতেছিলো। মিছিলের উপর গুলি বর্ষণ শুরু করে পুলিশ ও পুলিশের পোশাখ পরিহিত এস আলম গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। (উপরের ভিডিওতে শুনুন) এখানে সাধারণ মানুষের একটি গ্রুপই ছিলো। দুটি গ্রুপ কখনোই ছিলো না।
দুবছর আগ থেকেই এখানে জমি কেনা শুরু করে এস আলম গ্রুপ। তারা প্রথমে সুতার মিল, মোবাইলের ফ্যাক্টরী করার কথা বলে প্রতারণা করে জমি লিখে নেয়। এখন হঠাৎ করেই তারা মানুষ-প্রকৃতি বিধ্বংসী কয়লা বিদ্যুৎ নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয়। এই কয়লা বিদ্যুৎ এতটাই পরিবেশ ও বসতভিটার জন্য হুমকী যে এটা নির্মানে জাতিসংঘ কর্তৃকও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এই অতি গুরুত্বপূর্ন তথ্যগুলোই মিডিয়া এভয়েড করে যাচ্ছে। খবর প্রকাশের ধরন দেখলেও অবাক হতে হয়। প্রথম আলোর অবস্থা দেখুন-

বাঁশখালীর ৪জন মৃত্যুর চেয়ে তাদের কাছে মসজিদের ভেতর মুয়াজ্জিন খুনের ব্যপারটাই বড় হয়ে গেলো। কারন এটাতে জঙ্গি নামক সুগন্ধ বিরাজমান!! আর দু সপ্তাহ আগের তনু হত্যার জন্য যতটুকু যায়গা বরাদ্ধ তার চাইতেও কম যায়গা বরাদ্ধ বাঁশখালীর নির্মম হত্যাকান্ডের জন্য!!!
শুধু মিডিয়াই এমন নির্লিপ্ততা দেখায়নি তথাকথিত সু-শীলরাও পিছিয়ে নেই। বিশিষ্ট শাহাবাগী সু-শীল অঞ্জন রায়ের ফেসবুক স্টেটাস দেখুন-

একজন মানুষ কতটা নিচুস্তরের হলে নিরস্ত্র অসহায় মানুষ হত্যার স্বপক্ষে যুক্তি দাঁড় করায়তে পারে! কতটা বিবেকহীন হলে লাশের উপর দাঁড়িয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে! স্বার্থের জন্য মানুষ এতটা নীচে নামতে পারে আগে জানতাম না। ওনার কথা শুনে মনে হচ্ছে ওনার আবিষ্কৃত এই গুজবে তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির আনু মুহাম্মদরাও কুপোকাত হয়ে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে!!!
পরে অবশ্য এর পিছনে কিছু কারণও খুঁজে পেয়েছি। তিনি একুশে টিভির ডেপুটি হেড হিসেবে কর্মরত আছেন। আর সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণে ইতোমধ্যেই বাকশালী ভোগে চলে যাওয়া একুশে টিভির মালিকানা কিনে নিয়েছে এস আলম গ্রুপ। বাঁশখালীর ভিলেন সেই এস আলম গ্রুপ!! তাইতো প্রভুর নুন খেয়ে নিমখহারামী করতে পারেননি অঞ্জন রায়। এ যেনো একটি বিশেষ প্রাণীর প্রভুভক্তিকেও হার মানায়!!
বাঁশখালী বিএনপি জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা। বিএনপি জামায়াতকে সমর্থন দেয়াই তাদের বিশাল অপরাধ। তাইতো কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে সেই এলাকাকে বিরান ভূমিতে পরিণত করলেও তথাকথিত চেতানাধারীদের চেতনা জাগ্রত হয়না! গুলি করে অন্তত ৬ জনকে হত্যা এবং শতাধিক আহত করলেও তথাকথিত মানবতাবাদীদের মানবতা জাগ্রত হয় না!! শাহাবগে বিচারের দাবি উঠে না!!!
বিচারের দাবি উঠাবে কি?? উল্টো উদ্ভট যুক্তি দাঁড় করিয়ে হত্যাকান্ডের বৈধতা দিচ্ছে!! পুলিশকে গুলি চালাতে উৎসাহ দিচ্ছে!!!
গুলিবাজ পুলিশ বাহিনীর উপর ভর করে শেখ হাসিনাকে বাংলার “স্বৈরাচারিনী” হয়ে উঠতে এরাই সবচেয়ে বেশি সমর্থন যুগিয়েছে। এদের বিচার একদিন এ দেশের মাটিতে হবেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


