somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোরহানী... হ্যালালুইয়া!

২৬ শে জুন, ২০০৬ সকাল ৯:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কালপুরুষের বোরহানী খেয়ে সবাই ঠোঁট চাটছে, উহ আহ করছে আর ব্লগে এসে ঢেকুর ছেড়ে যাচ্ছে। আমি তো হিংসায় মরি মরি। সেই কবে শেষ বোরহানী খেলাম। এবার বাংলাদেশে গিয়ে একটা বিয়েতে। আহ, সে কি স্বাদ! কিন্তু তাও তো ছয় মাস হয়ে গেল। বোরহানী পাব কই? মনের ক্ষুুধা মনেই চেপে ব্লগাতে লাগলাম।

কাল দুপুরে দাওয়াত ছিল এক জায়গায়। যারা দেশের বাইরে অনেক দিন আছেন, তারা জানবেন এই বস্তু যে কত বিরক্তিকর হতে পারে। দাওয়াত খাওয়ানোটা এক ধরণের 'প্রয়োজন', সামাজিকতার বন্ধন ধরে রাখা বা গড়ে তোলার জন্য। দুই নতুন বাঙালি কোথাও দেখা হল, দাওয়াত দিবে। দ্বিতীয়জন সেই দাওয়াত রেখে পাল্টা দাওয়াত দিল তো দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের সম্ভবনা। এই টাইপের ব্যপার স্যপার। আই মিন, কাউকে রেঁধে খাওয়াতে আমার ভাল লাগে, কিন্তু সেটা প্রিয় কেউ হতে হবে। যাকে তাকে সামাজিকতার প্রয়োজনে খাওয়াতে পারব না, খেতে পারব না।

এই বলে টলে স্রেফ সামাজিকতার দাওয়াতে যাওয়া এড়িয়ে যাই মা বাবার সাথে। 'না গেলে খারাপ দেখা যায়' শুনিয়েও আমাকে নিতে পারে না, পড়াশোনা আর ক্লান্তির দোহাই দিয়ে থেকে যাই। তাই অনেক দিন দাওয়াতে যাওয়া হয় নি। কাল জলি আন্টির বাসায় দাওয়াত শুনে অবশ্য নিজেই যেতে চাইলাম, হোমবুশের মেয়েগুলোর সাথে অনেক দিন দেখা হয় নি, ওখানে গেলে দেখা হবে।

গিয়ে রিদিকে পেলাম অপেক্ষামান। এক বছরের জুনিয়র মেয়েটা এবারই ইউনি শুরু করেছে। ইউনির ধকলে বেচারীর মিষ্টি শ্যামলা চেহারা পাল্টে গেছে। চুলের রং ছাড়া আর কি যেন অন্যরকম খুঁজতে গিয়েই দেখলাম ভ্রুর কাছে রুপালী ঝিলিক। ছোট্ট একটা দুল! ভ্রু ফুঁটা করেছে! আমি আজ অব্দি কোন বাঙালি মেয়েকে এমন কাজ করতে দেখি নি। বৃত্তান্ত শুনলাম: মোট আশি ডলার লেগেছে ওই একটা ফুঁটো করতে। ছয় সপ্তাহের আগে খুললে ইনফেকশন হয়ে যাবে। আন্টিকে করার আগে বলে নি, ঘটনা বের হওয়ার পরে আন্টির সোজা সাপ্টা ঘোষণা: ছয় সপ্তাহ পরে হয় ওই বস্তু ছাড়া বাসায় থাকবে, না হয় ওটা সহ বাসা থেকে বের হয়ে যাবে!

অর্পা, পারিসা, রাইসাকে অনেক দিন পরে দেখলাম। ভীষণ দ্রুত বড় হচ্ছে সবগুলো। চেহারায় পাকনা ভাব চলে আসছে। মুখের উপর এক খন্ড চুল কায়দা করে ঘাড় নাড়িয়ে পিছনে দিচ্ছে একটু পর পর। অচিরেই দেখতে আমার চেয়ে বড় সড় হয়ে যাবে।

খাওয়ার ডাক পড়তেই জলদি গেলাম। বাসায় ঢুকতেই বিরিয়ানির গন্ধ পেয়েছিলাম। দ্রুত টেবিল স্ক্যান করলাম... রোস্ট, কাবাব, বেগুন টক আর... বোরহানী! কালপুরুষের বোরহানী আমাকে ছাড়া খেয়েছে তো কি হয়েছে, আল্লাহ তাঁর বান্দার ইচ্ছা পূরণের দারুণ এবং ইমিডিয়েট ব্যবস্থা করে দিলেন । বোরহানীটা ফাটাফাটি ছিল! রস মালাই আর সন্দেশ--আন্টির রান্না কিন্তু এক্কেবারে প্রফেশনাল। আমার তখন মনে হচ্ছিল, আমরা এই প্রজন্ম রান্নায় কখনই মা আন্টিদের প্রজন্মকে ছাড়িয়ে উপরে উঠতে পারব না!

খাওয়ার পরে ইউসুফ এসটেসের বক্তব্য শুনে সভাভঙ্গ করলাম। ভদ্রলোক সম্পর্কে কিছু না বললেই নয়। বুদ্ধি হওয়ার পরে আমার ভাগ্যে দাদা ভাই, নানা ভাই কোনটাই জুটে নি।
যদি কখনও সেই পর্যায়ের কোন পদের জন্য লোক বেছে নেয়ার সুযোগ থাকত, তাহলে ইউসুফ এসটেসের মত কাউকেই চাইতাম। এই সত্তর বছর বয়সীর উইট, সেন্স অভ হিউমার আর চিন্তা, দর্শন সব অসাধারণ। কারণে অকারণে মারাত্মক একটা দিল খোলা হো হো হাসি দিয়ে ফেলতে পারেন! তিনি একটা মজার কথা জানালেন। একটা কথা প্রায়েই শুনি, মুসলিমদের প্রভু আল্লাহ, হিন্দুদের ভগবান, খ্রীষ্টিয়ানদের ঈশ্বর বা গড। ঘটনা কি?
আসলে খ্রীষ্টিয়ান আর ইহুদীদেরও ঈশ্বরের নাম আল্লাহ বা 'ইলাহ'। একটা উদাহরণ, হিব্রু থেকে ইংরেজিতে আসা হ্যালালুইয়া শব্দটা বলা হয় আনন্দের প্রকাশ হিসেবে। ডিকশনারিতে অর্থ বলা আছে এরকম:

halleluiah = used to express praise to God

হ্যালালুইয়ায় 'গড' আর আল্লাহ এর শব্দমূল এক! গবেষণা করে মনে হচ্ছে হ্যালালুইয়া আলহামদুলিল্লাহর প্রতিশব্দ!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×