কাল দুপুরে দাওয়াত ছিল এক জায়গায়। যারা দেশের বাইরে অনেক দিন আছেন, তারা জানবেন এই বস্তু যে কত বিরক্তিকর হতে পারে। দাওয়াত খাওয়ানোটা এক ধরণের 'প্রয়োজন', সামাজিকতার বন্ধন ধরে রাখা বা গড়ে তোলার জন্য। দুই নতুন বাঙালি কোথাও দেখা হল, দাওয়াত দিবে। দ্বিতীয়জন সেই দাওয়াত রেখে পাল্টা দাওয়াত দিল তো দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের সম্ভবনা। এই টাইপের ব্যপার স্যপার। আই মিন, কাউকে রেঁধে খাওয়াতে আমার ভাল লাগে, কিন্তু সেটা প্রিয় কেউ হতে হবে। যাকে তাকে সামাজিকতার প্রয়োজনে খাওয়াতে পারব না, খেতে পারব না।
এই বলে টলে স্রেফ সামাজিকতার দাওয়াতে যাওয়া এড়িয়ে যাই মা বাবার সাথে। 'না গেলে খারাপ দেখা যায়' শুনিয়েও আমাকে নিতে পারে না, পড়াশোনা আর ক্লান্তির দোহাই দিয়ে থেকে যাই। তাই অনেক দিন দাওয়াতে যাওয়া হয় নি। কাল জলি আন্টির বাসায় দাওয়াত শুনে অবশ্য নিজেই যেতে চাইলাম, হোমবুশের মেয়েগুলোর সাথে অনেক দিন দেখা হয় নি, ওখানে গেলে দেখা হবে।
গিয়ে রিদিকে পেলাম অপেক্ষামান। এক বছরের জুনিয়র মেয়েটা এবারই ইউনি শুরু করেছে। ইউনির ধকলে বেচারীর মিষ্টি শ্যামলা চেহারা পাল্টে গেছে। চুলের রং ছাড়া আর কি যেন অন্যরকম খুঁজতে গিয়েই দেখলাম ভ্রুর কাছে রুপালী ঝিলিক। ছোট্ট একটা দুল! ভ্রু ফুঁটা করেছে! আমি আজ অব্দি কোন বাঙালি মেয়েকে এমন কাজ করতে দেখি নি। বৃত্তান্ত শুনলাম: মোট আশি ডলার লেগেছে ওই একটা ফুঁটো করতে। ছয় সপ্তাহের আগে খুললে ইনফেকশন হয়ে যাবে। আন্টিকে করার আগে বলে নি, ঘটনা বের হওয়ার পরে আন্টির সোজা সাপ্টা ঘোষণা: ছয় সপ্তাহ পরে হয় ওই বস্তু ছাড়া বাসায় থাকবে, না হয় ওটা সহ বাসা থেকে বের হয়ে যাবে!
অর্পা, পারিসা, রাইসাকে অনেক দিন পরে দেখলাম। ভীষণ দ্রুত বড় হচ্ছে সবগুলো। চেহারায় পাকনা ভাব চলে আসছে। মুখের উপর এক খন্ড চুল কায়দা করে ঘাড় নাড়িয়ে পিছনে দিচ্ছে একটু পর পর। অচিরেই দেখতে আমার চেয়ে বড় সড় হয়ে যাবে।
খাওয়ার ডাক পড়তেই জলদি গেলাম। বাসায় ঢুকতেই বিরিয়ানির গন্ধ পেয়েছিলাম। দ্রুত টেবিল স্ক্যান করলাম... রোস্ট, কাবাব, বেগুন টক আর... বোরহানী! কালপুরুষের বোরহানী আমাকে ছাড়া খেয়েছে তো কি হয়েছে, আল্লাহ তাঁর বান্দার ইচ্ছা পূরণের দারুণ এবং ইমিডিয়েট ব্যবস্থা করে দিলেন
। বোরহানীটা ফাটাফাটি ছিল! রস মালাই আর সন্দেশ--আন্টির রান্না কিন্তু এক্কেবারে প্রফেশনাল। আমার তখন মনে হচ্ছিল, আমরা এই প্রজন্ম রান্নায় কখনই মা আন্টিদের প্রজন্মকে ছাড়িয়ে উপরে উঠতে পারব না!
খাওয়ার পরে ইউসুফ এসটেসের বক্তব্য শুনে সভাভঙ্গ করলাম। ভদ্রলোক সম্পর্কে কিছু না বললেই নয়। বুদ্ধি হওয়ার পরে আমার ভাগ্যে দাদা ভাই, নানা ভাই কোনটাই জুটে নি।
যদি কখনও সেই পর্যায়ের কোন পদের জন্য লোক বেছে নেয়ার সুযোগ থাকত, তাহলে ইউসুফ এসটেসের মত কাউকেই চাইতাম। এই সত্তর বছর বয়সীর উইট, সেন্স অভ হিউমার আর চিন্তা, দর্শন সব অসাধারণ। কারণে অকারণে মারাত্মক একটা দিল খোলা হো হো হাসি দিয়ে ফেলতে পারেন! তিনি একটা মজার কথা জানালেন। একটা কথা প্রায়েই শুনি, মুসলিমদের প্রভু আল্লাহ, হিন্দুদের ভগবান, খ্রীষ্টিয়ানদের ঈশ্বর বা গড। ঘটনা কি?
আসলে খ্রীষ্টিয়ান আর ইহুদীদেরও ঈশ্বরের নাম আল্লাহ বা 'ইলাহ'। একটা উদাহরণ, হিব্রু থেকে ইংরেজিতে আসা হ্যালালুইয়া শব্দটা বলা হয় আনন্দের প্রকাশ হিসেবে। ডিকশনারিতে অর্থ বলা আছে এরকম:
halleluiah = used to express praise to God
হ্যালালুইয়ায় 'গড' আর আল্লাহ এর শব্দমূল এক! গবেষণা করে মনে হচ্ছে হ্যালালুইয়া আলহামদুলিল্লাহর প্রতিশব্দ!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




