somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মসলা টসলা কিসু্য দিসে না

১৩ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মালিহা, আমার ফুপাতো ভাগ্নীর তখন চার বছর বয়স। আমাদের বাসায় এসেছিল আপুর সাথে। দুপুরে খাওয়ার সময় মুরগি খেতে নিয়েই বিপত্তি। ও চোখ মুখ কুঁচকে, নাক সিঁটকে বলে, 'ইত্তা কি রাঁনছে, মসলা টসলা কিসু্য দিসে না!'

প্রায় দশ বছর আগে বলা পিচ্চির সেই কথাটা এখন আমাদের বাসায় ক্লাসিকের পর্যায়ে চলে গিয়েছে। রান্নায় কিছুর কমতি হলেই আমরা চোখ মুখ কুঁচকে বলি, 'মসলা টসলা কিসু্য দিসে না'। সেদিন মুরগি অবশ্য আমাদের দৈনন্দিন রান্নার মতই হয়েছিল। মসলা পরিমাণ মতই ছিল, কিন্তু আমাদের বাসার টিপিক্যাল রান্নার মত ঝাল না থাকায় বিজ্ঞ পিচ্চির চরম বিরক্তির উদ্রেক হয়েছিল।

তখন টের পেয়েছি আমাদের বাসায় ঝাল তেমন হয় না। ছোট বেলা আমরা খেতে পারব না এই ভয়েই অল্প ঝালের রান্না হত বাসায়। ফলে আমাদের খাদ্যাভ্যাস একদম 'নিঝর্াল' হয়ে গড়ে উঠেছে। বাবা মা সময়ে অসময়ে ভর্তা খেলেও আলু ভর্তা ছাড়া আর সব ভর্তার বদলি থাকতই আমাদের জন্য। শুটকি, মূলা ওগুলোও কখনই মুখে তুলে দেখিনি। গন্ধ আর রং ভীষণ অপছন্দ হত।

অস্ট্রেলিয়ায় আসার পরে খাওয়ার ব্যপারে সহনশীলতা বেড়েছে ধীরে ধীরে। যে কোন দেশের যে কোন ধরণের খাবার অবলীলায় খেয়ে নিতে পারি, পছন্দ হয় না সব সময় অবশ্য। একবার কিউরিওসিটি থেকেই ভর্তা খাওয়া শুরু করলাম, এর পরে শুটকি। এখন জটিল সমস্যায় পড়েছি। ভর্তা আর শুটকির ভীষণ রকমের ভক্ত হয়ে পড়েছি। মাকে ঝামেলায় ফেলে দেই, আগে ওরা দুই জন যা খেত এখন আমি একাই সেটা খাই। লাঞ্চে স্যান্ডউইচের ভিতরেও বেগুন ভর্তা বা শুটকি তরকারি নিয়ে যাই। আর ঝাল অনুরাগ বেড়েছে ভীষণ ভাবে। প্রচন্ড রকমের ঝাল খাই। তরকারিতে ঝাল মনমত না হলে আবার সাথে কাঁচা মরিচ নিয়ে কচ কচ করে খাই। বোরহানীর ভক্ত হওয়ার কারণ এটাই। বিষ্মিত হয়ে ভাবি, আমরা দইয়ে নানাবিধ মশলা গুলে কি মচৎকার একটা পানীয় আবিষ্কার করে ফেললাম! বাংলু বলেই সম্ভব হয়েছে। বাইরে খেতে হলে পতর্ুগীজ বা লেবানীজ ভাল লাগে, ওদের খাবারগুলো নিরামিষ না, স্পাইসী। সার্ভস মাই টেইস্ট বাড ওয়েল।

সেদিন তাসিন আর ইশির সাথে বাইরে খাচ্ছিলাম। সবাই নিজের মন মত ভিন্ন ভিন্ন খাবার অর্ডার দিয়েছিলাম। আমারটায় ছিল বেশি করে হট চিলি সস। আমার তো মজাই লাগছিল। পটেটো ওয়েজ নিয়েছে বলে তাসিন খুব শখ করে একটু আমিষের আশায় কাঁটা চামচ দিয়ে আমার কাবাব মুখে তুলেই মরে আর কি! প্রচুর ড্রিংকস গলায় ঢেলে কোন মতে ঝাল প্রশমিত করে করুণ গলায় বলল, হাউ ক্যান য়ু ইট দ্যাট?

বাসায় তাই ইদানিং রান্না করতে ভয় লাগে। অল্প করে মরিচ দিয়ে চামচ তুলে ফেলি। পরে ইচ্ছা করলেও যেন আর ঝাল দেয়া না যায়। নুডুলস হোক আর স্যান্ডউইচ হোক, সাথে হট চিলি সসের বোতলটা নিয়ে বসি। আর ভাইয়া, ছোট বোনকে বলি, দেখ তোমরাও ঝাল খাওয়া শিখ জলদি, নইলে ফিউচারে জুনিয়র আস্তরা তোমাদের বাসায় গিয়ে কিন্তু নাক সিঁটকে বলবে, 'মসলা টসলা কিসু্য দিসে না!'
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ ভোর ৪:১৫

গতকালের একটা বড় খবর ছিল আমেরিকার একটি অন্যতম জনপ্রিয় বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হয়ে তাদের সব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই স্পিরিট অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×