1. কনভারশনের ইচ্ছা নিয়ে সংলাপ চালানো যাবে না। উদ্দেশ্যটা হবে নিতান্তই নিজের মতামত জানানো, ফলে 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং' বাড়ানো। টলারেন্স আন্ডারস্ট্যান্ডিং প্যাকেজ হয়ে আসে। অন্য জনকে আমার বিশ্বাসে বিশ্বাসী করানো আলোচনার মূল উদ্দেশ্য না, বরং আমার সম্পর্কে জানানো।
2. অন্য পক্ষের ব্যাখ্যা যা দেওয়া হবে তা গ্রহণ করতে হবে, নিজে একজন বহির্ভুত হয়ে ব্যাখ্যা করার অভদ্রতা বা দু:সাহসিকতা করা যাবে না।
3. ব্যক্তিগত আক্রমণ, স্যাটারিক্যাল কথা বার্তা: নট এলাউড। এখানে উদ্দেশ্য কেবলই জ্ঞান বাড়ানো, পৃথিবীতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা।
এই বুকিশ এথিকসের কিছুই পেলাম না ব্লগে। প্রথম দু'টি পোস্ট করার পড়ে আমার তীব্র মন খারাপ হল। কিন্তু ছাড়তেও পারছি না ব্লগ। কেমন মায়া পড়ে গিয়েছে। ঝা স্পটলাইটে তখনও চোখ পিটপিট করছি।
ইতিহাসের ব্যপারেও আমার বুকিশ ধারণার প্রয়োগ ঘটাতে গিয়ে আরেক তরফা তর্কে পড়ে গেলাম। এবারেরটা বিচ্ছিরি তক্ক। ঠকাঠক পোস্ট ঠোকা হল সরাসরি 'আস্তমেয়ে' কে সম্বোধন করে। আমার দ্বিতীয় কি তৃতীয় সপ্তাহে এই তক্কাতক্কিতে চরম বিরক্তি চলে আসল। তখন শুরু হল তেলাপোকার সাথে ঠোকাঠোকি। আমি নাকি তার ন্যাংটা কালের বন্ধু। মোর জ্বালা! আরও জ্বালা এই নিয়ে শোহেইল শুরু করে দিলেন 'জটিল প্রশ্নের কুটিল উত্তর'। ততদিনে আমি রীতিমত 'কুখ্যাত'। সব সেরা সেরা ব্লগাররা কোমর বেঁধে নেমেছেন কূটনামীতে। এক একটা উত্তর পড়ি আর আমার মেজাজ খারাপ হয়। আরে বাবা, তাদের সাথে আমার কি শত্রুতা, এভাবে কথা বলতে হবে আমাকে নিয়ে? আমি ভাই ব্যাসিকেলি নির্ভেজাল মানুষ, এমনিতেই ঝগড়া ঝগড়ি করি না তেমন। এই আমাকে নিয়ে সবার সে কি বিশ্লেষণ!
সমস্যা হল, ব্লগ আমি একা পড়ি না, আমার একজন নন-ব্লগার প্রিয় মানুষও পড়ে আর আমাকে বলে, 'তুমি ওখানে আর যেয়ো না তো'! রীতিমত মিনতি। আমি তখন ছাড়তেও পারি না। যুদ্ধ ক্ষেত্রে বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার মত 'সাহসী' না হলেও 'ঘাউরা' আছি ঠিক
। তখনই কালপুরুষ প্রথম তার ভালবাসার পাখা তলে নিয়ে নিলেন আমাকে। 'আস্ত' আমার বিবর্তনের চমৎকার একটা ব্যাখ্যা দিলেন। কি যে কৃতজ্ঞ লাগছিল! তখন হঠাৎই বুঝলাম, শুধুই অপ্রাপ্তি না, প্রাপ্তির লিস্ট বড় হচ্ছে।
এখন কিন্তু অপ্রাপ্তির চেয়ে প্রাপ্তির লিস্ট ভীষণ রকমের বড়। আমাকে অপছন্দ করেন যারা, তাদের থেকে যেমন পেয়েছি অনেক, তাদের সমালোচনা যেমন ভীষণ শক্তিশালী পাথেয় আমার জন্য, তেমনি পরম বন্ধু হিসেবে পেয়েছি অনেককে। কালপুরুষ তো আছেনই, ব্লগের প্রাণপুরুষ, যাঁর 'আস্তরে' শুনে বুক ভরে যায়। তাছাড়া তেলাপোকা বড় উদাহরণ। একটু দূর থেকে দেখলে আমরা উত্তর দক্ষিণের মানুষ। নামায পড়তে গেলে নাকি তার হাসি পায়। বুলবুলিদের সাথে দারুণ সখ্যতা। সে কর্ণফুলীর বাতাস গায়ে মাখে, মাটির গন্ধ শুঁখে প্রাণ ভরে, বন্ধুদের সাথে খেজুর রস চুরি অভিযানে যায়। আমি সেই জীবনের গল্প শুধুই বইয়ে পড়েছি। আমার জীবনও তার জানা থাকার কথা না। কিন্তু তবু, আমার স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি ও। আমি একটা ছেলে হিসেবে ঠিক ওর পরিবেশে বড় হলে নিশ্চয়ই একটা আস্ততেলাপোকা হয়ে বড় হতাম! জীবনের ঘটনায় আশ্চর্য মিল। কেবলই পাত্র পাত্রী ভিন্ন।
এর মধ্যেই অমি রহমান পিয়াল একটা 19 বছর বয়সী সিডনীবাসী হিজাবীর নন-হিজাবী ছবি ছাড়লেন ব্লগে। আমি তো জানতাম সে আমি না, কিন্তু পিয়াল সহ আরও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছিল সে আমি। এই উদ্ভট কিউরিওসিটিতেও কি যে মেজাজ খারাপ হল!
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




