somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আস্তমেয়েকে গড়লো যারা (সামহোয়ারে...) - 3

১৫ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট বেলা থেকেই নিজের থেকে আলাদা পরিবেশে বড় হয়েছি বলে নিজের চারপাশে একটা 'প্রটেক্টিভ বলয়' আছে। এই বলয়ের ভিতরের আমি অবলীলায় চলাফেরা করি সম্পূর্ণ বৈরি পরিবেশে। বিপরীত স্রোতের মুখে। ইম্প্যাক্ট অতটা হয় না নিজের ভিতরে। কারণ কখনও 'শত্রুপক্ষ' 'বন্ধুপক্ষ' বলে মানুষকে আলাদা করতে শিখি নি। আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বিপরীত ধমর্ী মানুষও যে খুব খুব কাছের হতে পারে সে আমি জীবন থেকেই শিখেছি। বাহ্যিক সবকিছুর আড়ালকে হাত দিয়ে ঠেলে পাশে সরিয়ে দিতে শিখেছি। তাই ব্লগে সবার লেখা পড়ি। প্রথমে অবশ্য বর্জন করেছিলাম একজনের ব্লগ। রাসেল অষ্ট ডটু। সে অপ্রাসংগিক মন্তব্যের জন্য, আমার হজম ক্ষমতা একসিড করেছিল। আর আমাকে নিয়ে লেখা তার প্রথম প্যারডির জন্য। মুশকিল হল, সেটা নেহায়তই প্যারডি ছিল তার জন্য, সমাজ কল্যাণের অস্ত্র অর হোয়াটেভার। কিন্তু একটা উনিশ বছরের কিশোরীকে অন্যান্য মানুষের সাথে জড়িয়ে সে ধরণের অমূলক প্যারডি করলে ব্যক্তিগত সম্পর্কে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে যে! রাসেল সেটা নেহায়তই সহব্লগার হিসেবে করেছিলেন, ওটা পড়ে কয়েক দিন খুব মন খারাপ করে ছিলাম মনে আছে। তীব্র ফ্রাস্ট্রেশন। কাছের একজন মানুষের সাথে কঠিন কনফ্লিক্ট হল। বাসার কাউকে কিছু বলতে পারছি না কিন্তু মুখ কালো করে ঘুরে বেড়াচ্ছি। তখন অন্য একটা দুঘর্টনা ঘটল। আমার এম পি থ্রী প্লেয়ারের এল সি ডি ডিসপ্লে ভচকে গেল হাত থেকে পড়ে (ওহ প্লীজ, এটাও একটা প্যারডিতে আছে )। আমার খুব সাধের এম পি থ্রী প্লেয়ার ছিল, বাবা এইচএসসির পরে দিয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনার চেয়ে ব্লগ নিয়ে ফ্রাস্ট্রেশন বেশি ছিল। প্রচন্ড ফ্রাস্ট্রেশন নিয়ে বাসার সবার সাথে খেতে বসেছি সকালের নাস্তা। আমার মুখ থমথমে দেখে মা নিয়মিত বিরতিতে খোঁচাচ্ছে কি হয়েছে জানার জন্য। আমি হঠাৎই আউটবার্স্টড করলাম। চোখে একদম শাওন স্টাইলে বন্যা!

সবাই হতবুদ্ধ। ব্লগের কথা বলি নি অবশ্য। এম পি থ্রি প্লেয়ারের কথাই বললাম শুধু। যাক, বুকের পাথর ওভাবে গলিয়ে নামিয়ে দিলাম!

রাসেলের প্রতি তখন যেই চরম বিরক্তিটা হয়েছিল, সেই বিরক্তি অভাবনীয় ভাবে, একেবারেই দুম করে কেটে গেল একটা ঘটনায়। প্রাপ্তিকে নিয়ে পিয়ালের পোস্টের পরে সাদিকের করা পোস্টকে উপরে রাখার অনুরোধ জানিয়ে রাসেল একটা পোস্ট করেন। একেবারেই অপ্রত্যাশিত ভাবে রাসেলের মনের সবুজ একটা অংশ দেখে ফেলেছিলাম সেদিন। এরপর থেকে রাসেলের প্রতি বিরক্তিটা আর ফিরে আসে নি ওভাবে। তারপরে মনযোগ দিয়ে প্রথম থেকে সবগুলো লেখা পড়ে বুঝলাম, নাহ, আসলেই নম: নম: করার মত ভয়াবহ ট্যালেন্টড। তার সাথে টেক্কা আমি দিতে পারব না কখনই। দেখার অন্য রকম চোখ আছে। প্রাজ্ঞের তিক্ততায় ভরা, সবার পেটে সয় না। তবে একটু পুরানো ধাঁচের। আমি তর্ক বিতর্কের যেই বুকিশ এথিকস শিখেছি, সেটা তিনি কখনই মানবেন না কারণ তাঁর পোড় খাওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতায় ভরা জীবন তাঁকে অন্য পন্থা শিখিয়েছে। তাছাড়া প্রেজুডিইজকে প্রেজুডিইজ হিসেবে নিজে ডিটেক্ট করতে না পারলে কখনও সেটা কাটানো যায় না।

আর একটা ব্যপারে মজা পেলাম। দীপুকে একবার তিনি বলেছিলেন, তিনি প্যারডি লিখেন তাদের নিয়ে, যাদের নিয়ে লিখলে সমাজের কিছু উপকার হবে। আর গুণে দেখলাম আমাকে বা আমার রেফারেন্স/ছায়া নিয়ে লিখা তার প্যারডির সংখ্যা কমপক্ষে এগারো! আমি আসার পরে আর কারও রেফারেন্স তার লেখায় এত বেশি সংখ্যক বার এসেছে বলে আমার জানা নেই। এটা যে তাঁর মত শক্তিশালী লেখকের কাছ থেকে পাওয়া বিশাল একটা স্বীকৃতি! তার দৃষ্টিতে সমাজে কিছু করার (ইভেন দো নিগেটিভ) পটেনশিয়ালিটি আমার আছে? :)

কিছু কিছু ব্যপার এখনও শিখতে পারি নি। আমি কাউকে শত্রু না ভাবলেও আমাকে অন্য ঘরণার ভাবেন তেমন ব্লগারের অভাব নেই। অনেকেই এই মতবাদে বিশ্বাসী: এভরি থিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ এন্ড ওয়ার। আমি সেটা কখনই মানতে পারি না। তাই মানুষের খুব সংবেদনশীল দিকে কখনও হাত বাড়াই না। কিন্তু যুদ্ধে এই দুর্বল অংশটুকুই খুঁজে বের করে ভাল করে ডলে দেয়া একটা ক্লেভার টেকনিক। আমার ওটা কাপুরুষতা মনে হয়, কখনও অমনটা করব না। সবল দিকেই সামলাতে পারব বিশ্বাস করি। তবু, ব্লগে নিজের খুব 'মানুষ' দিকটা উম্মোচন করে মরিচ ডলা খেয়েছি কয়েকবার!

[ইটালিক]অফিসিয়ালি টিনেজার জীবন থেকে ফোর্সড রিটায়ার করছি খুব দ্রুত। পোস্টের দিক দিয়ে অর্ধ শতক ছুঁই ছুঁই করছি। এমন মিড লাইফ ক্রাইসেস মূলক সময়ে লেখার কিছু পাচ্ছি না তাই পুরান কথা বলে জনগণের কানের পোকা বের করব ঠিক করেছি। কানের পোকা বের করার ইচ্ছা না থাকলে ইগনোর করুন।[/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সবাই জামাতের পক্ষে জিকির ধরুন, জামাত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে!

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১



চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা, তুমুল লড়াই হচ্ছে জামাত ও বিএনপির মধ্যে কোথাও জামাত এগিয়ে আবার কোথাও বিএনপি এগিয়ে। কে হতে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ সরকার- জামাত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন তাহলে হয়েই গেল

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ১৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে দলটির প্রার্থীরা।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ৫৬টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ : পর্যবেক্ষণ,পর্যালোচনা ও ফলাফল

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:২০



আজ রাত ১২ই ফেব্রুয়ারী, দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ এর ভোট গণণা চলছে ।

যত সমস্যার সৃষ্টি এই ভোট প্রয়োগ করা নিয়ে । কেউ বলছে ভোট দিতে হবে , কেন্দ্রে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেটিকুলাস ডিজাইনের নির্বাচন কেমন হলো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৪


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২১৩ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভালো ফলাফল করেছে জামায়াত ! এগারো দলীয় জোট প্রায় ৭৬ টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



অনেক জল্পনা কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় হয়েছে- এ যাত্রায় দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে বেঁচে গেলো। চারিদিকে যা শুরু হয়েছিলো (জামাতের তাণ্ডব) তা দেখে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×