)। আমার খুব সাধের এম পি থ্রী প্লেয়ার ছিল, বাবা এইচএসসির পরে দিয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনার চেয়ে ব্লগ নিয়ে ফ্রাস্ট্রেশন বেশি ছিল। প্রচন্ড ফ্রাস্ট্রেশন নিয়ে বাসার সবার সাথে খেতে বসেছি সকালের নাস্তা। আমার মুখ থমথমে দেখে মা নিয়মিত বিরতিতে খোঁচাচ্ছে কি হয়েছে জানার জন্য। আমি হঠাৎই আউটবার্স্টড করলাম। চোখে একদম শাওন স্টাইলে বন্যা!
সবাই হতবুদ্ধ। ব্লগের কথা বলি নি অবশ্য। এম পি থ্রি প্লেয়ারের কথাই বললাম শুধু। যাক, বুকের পাথর ওভাবে গলিয়ে নামিয়ে দিলাম!
রাসেলের প্রতি তখন যেই চরম বিরক্তিটা হয়েছিল, সেই বিরক্তি অভাবনীয় ভাবে, একেবারেই দুম করে কেটে গেল একটা ঘটনায়। প্রাপ্তিকে নিয়ে পিয়ালের পোস্টের পরে সাদিকের করা পোস্টকে উপরে রাখার অনুরোধ জানিয়ে রাসেল একটা পোস্ট করেন। একেবারেই অপ্রত্যাশিত ভাবে রাসেলের মনের সবুজ একটা অংশ দেখে ফেলেছিলাম সেদিন। এরপর থেকে রাসেলের প্রতি বিরক্তিটা আর ফিরে আসে নি ওভাবে। তারপরে মনযোগ দিয়ে প্রথম থেকে সবগুলো লেখা পড়ে বুঝলাম, নাহ, আসলেই নম: নম: করার মত ভয়াবহ ট্যালেন্টড। তার সাথে টেক্কা আমি দিতে পারব না কখনই। দেখার অন্য রকম চোখ আছে। প্রাজ্ঞের তিক্ততায় ভরা, সবার পেটে সয় না। তবে একটু পুরানো ধাঁচের। আমি তর্ক বিতর্কের যেই বুকিশ এথিকস শিখেছি, সেটা তিনি কখনই মানবেন না কারণ তাঁর পোড় খাওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতায় ভরা জীবন তাঁকে অন্য পন্থা শিখিয়েছে। তাছাড়া প্রেজুডিইজকে প্রেজুডিইজ হিসেবে নিজে ডিটেক্ট করতে না পারলে কখনও সেটা কাটানো যায় না।
আর একটা ব্যপারে মজা পেলাম। দীপুকে একবার তিনি বলেছিলেন, তিনি প্যারডি লিখেন তাদের নিয়ে, যাদের নিয়ে লিখলে সমাজের কিছু উপকার হবে। আর গুণে দেখলাম আমাকে বা আমার রেফারেন্স/ছায়া নিয়ে লিখা তার প্যারডির সংখ্যা কমপক্ষে এগারো! আমি আসার পরে আর কারও রেফারেন্স তার লেখায় এত বেশি সংখ্যক বার এসেছে বলে আমার জানা নেই। এটা যে তাঁর মত শক্তিশালী লেখকের কাছ থেকে পাওয়া বিশাল একটা স্বীকৃতি! তার দৃষ্টিতে সমাজে কিছু করার (ইভেন দো নিগেটিভ) পটেনশিয়ালিটি আমার আছে?
কিছু কিছু ব্যপার এখনও শিখতে পারি নি। আমি কাউকে শত্রু না ভাবলেও আমাকে অন্য ঘরণার ভাবেন তেমন ব্লগারের অভাব নেই। অনেকেই এই মতবাদে বিশ্বাসী: এভরি থিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ এন্ড ওয়ার। আমি সেটা কখনই মানতে পারি না। তাই মানুষের খুব সংবেদনশীল দিকে কখনও হাত বাড়াই না। কিন্তু যুদ্ধে এই দুর্বল অংশটুকুই খুঁজে বের করে ভাল করে ডলে দেয়া একটা ক্লেভার টেকনিক। আমার ওটা কাপুরুষতা মনে হয়, কখনও অমনটা করব না। সবল দিকেই সামলাতে পারব বিশ্বাস করি। তবু, ব্লগে নিজের খুব 'মানুষ' দিকটা উম্মোচন করে মরিচ ডলা খেয়েছি কয়েকবার!
[ইটালিক]অফিসিয়ালি টিনেজার জীবন থেকে ফোর্সড রিটায়ার করছি খুব দ্রুত। পোস্টের দিক দিয়ে অর্ধ শতক ছুঁই ছুঁই করছি। এমন মিড লাইফ ক্রাইসেস মূলক সময়ে লেখার কিছু পাচ্ছি না তাই পুরান কথা বলে জনগণের কানের পোকা বের করব ঠিক করেছি। কানের পোকা বের করার ইচ্ছা না থাকলে ইগনোর করুন।[/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




