রাগইমন আপুর লেখাগুলো আমি মনযোগ দিয়ে পড়ি। কেন যেন মনে হয়, নয় বছর পরের আমিকে জেনে ফেলব ওভাবে!
একটা সময় বাস্তব আমি নিজের সাথে যুদ্ধ করছিলাম। একটা খরগোশের গর্তে পড়ে গিয়েছিলাম অসাবধানতায়। সব সময় জানতাম গর্ত আছে, তাই কি নিবুর্দ্ধিতায় নিশ্চিত বোধ করছিলাম কখনও গর্তে পড়বো না। ঠিক পড়লাম কঠিন পড়া। আয়রনী অফ দ্যা সেঞ্চুরি! সেই গর্ত থেকে উঠার যুদ্ধ করছিলাম প্রতিনিয়ত। সেই সময়ে অমি পিয়ালের জীবন যুদ্ধের পোস্টগুলো পড়লাম। ড্রাগের কালো হাত থেকে ফিরে আসার গল্প। দীর্ঘ 15 বছর পরেও। আমার গর্তবাস মোটে কয়েক মাস। কি যে প্রেরণা, সাহস আর শক্তি দিল পিয়ালের ব্লগগুলো!
শাওন, আমার ছোট্ট ভাইটু। দুই চোখে বন্যা বন্যা করে। প্রথম প্রথম ভাবতাম বন্যা নামের কোন মেয়ে বুঝি। তারপরে ভাবলাম দু:খ বিলাসী। একদিন চেপে ধরায় এক নিঃশ্বাসে কি কি বলে হাওয়া হয়ে গেল। তখন থেকে কি যে প্রচন্ড মায়া লাগে ছেলেটার জন্য!
ম্যাড আপু (আপনাদের মাধবী) ছড়ায় ছড়ায় কখন বুকের মাঝে জায়গা করে নিল! মাঝে মাঝে সুইট খবরদারী করে। সেপ্টেম্বরে দাওয়াত দিয়েছে আমাকে, যেতে যে ভীষণ ইচ্ছা করছে!
দীণা আপু, আরেক পাগলী। ভালবাসার আধার।
ধূসর গোধুলী। সুদূর জামর্াানীতেও ধূসর ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে ললনাদের পটিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তন। এক সময় সিডনীতে ছিলেন, কত কি করেছেন কে জানে! একজন মিসকিন মানুষ। মিসকিনরা সাধারণত মানুষ হিসেবে ভাল হয়। তিনিও তাই। নানা কারণে খুব কৃতজ্ঞ ধূসর গোধুলীর প্রতি। মিস্টার অল টাইম হিট সব ফিট করে দিতে পারেন সত্যিই। (কেবলই ধূসরামী, নতুন শিখছি, খুশি হওয়ার কিছু নাই
)
তীরন্দাজ মানুষটার সব কিছু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে চাওয়ার প্রচেষ্টা বরাবর চোখে পড়ে, ভাল লাগে। যেমনটা লাগে জ্বীনের বাদশাহের লেখা।
কৌশিকদা যেই ছাতি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, মানে সবাইকে এক সাথে আনার প্রকল্প, সেটা আমার ভাল লাগে। শুভর প্রশ্ন করা নিটোল মনের লিখা পোস্টগুলো ভাল লাগে। সুমন চৌধুরী, খুব রসিক, দিলখোলা প্রকৃতির ভাল মানুষ। 'ঠিকাছে'। কনফুসিয়াস, হযবরল আমার প্রজন্মের কাছাকাছি মানুষ! মতের প্রচুর অমিল থাকা সত্ত্বেও মৌলিক অনেক ব্যপারে মিল খুঁজে পাই। ঝড়ো হাওয়া, আমার বড়লেখাটা পড়বে না জানি। ফাঁপর দেয়ায় ওস্তাদ। সাদিকের সাথে মতের মিল অমিল দু'টোই হয়। বেশি রকমের আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি।
শোহেইল মোতাহারের বাথরুম সিঙিং লেখাটায় আমার মন্তব্য দিয়েছিলাম। খুব থরো এবং ওয়েল সেট আউট লেখা লিখেন তিনি। অনেক সময় বুঝতে পারি এক মত না, কিন্তু কোথায় ঝামেলা লাগছে বুঝতে পারি না, তাই 'অবশ্য কতর্ব্য' মন্তব্য করতে পারি না।
মুখফোড়ের গল্পে ঢুকে গেছি। প্রায় চারশ ব্লগারের মধ্যে চরিত্র হিসেবে আমাকেও পছন্দ করেছেন ব্লগের শ্রেষ্ঠ স্যাটারিকেল লেখক। কম পাওয়া?
মহুয়ামঞ্জুরী, হাসান মোর্শেদের লেখার ওভার অল জিস্টের সাথে চিন্তার অমিল থাকে কম, কিন্তু দোষাদোষি ভাল লাগে না। বিশেষত অন্ধ হলে। বুঝি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শিখিয়েছে 'সারভাইভ্যাল অফ দ্যা ফিটেস্ট'। প্রচলিত আইডিয়া অনুযায়ী সেটা মুখের বিষে না হয় গায়ের জোড়ে।
ধানসিঁড়ি প্রথম চোখে পড়েছিল যখন ওনার 'জুনিয়ার মা তহুরা'কে নিয়ে একটা লেখা পড়েছিলাম। ঘটনা এই রকম: তিনি নিজের মেয়েকে মায়ের নামে ডাকেন, একই নাম রেখেছেন। কারণ তাঁর মাকে তিনি নিজের মেয়ের মাধ্যমে পেতে চান। তাঁর মা তাঁকে যেই আদর ভালবাসা দিয়েছেন, তিনি তা ফিরিয়ে দিতে চান নিজের মেয়েকে দেয়ার মাধ্যমে। খুব চমকিত হয়ে অন্যান্য লেখাগুলো পড়লাম। সবগুলোই ভীষণ ভালবাসা নিয়ে লেখা। কি যে ভাল লাগে! ধানসিঁড়ির এক একটা পোস্টের মাধ্যমে কেমন নরম ভালবাসা আর মমতার আলো ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে।
শাহানার ছোট ছোট পোস্টগুলো ভাবায় ঠিক।
দুরের কণ্ঠস্বরের সবগুলো পোস্টই খুব ভাল লাগে। আমি যেটা ভাবতে চেয়েও ভাবতে পারি না, যেই চিন্তু গুছাতে পারি না কিছুতেই, তাই তিনি কি সুন্দর গুছিয়ে লিখে যান।
ওয়ালী, অনেক দিন হলো লিখছেন না। ধ্বংসাত্মক আগুন একটু বেশি। বেশির ভাগ পোস্টই ভাল লাগে।
ফজলে এলাহির কবিতাগুলো দারুণ। মদীনার পোস্টগুলো অসাধারণ। একটা গান শুনতে গিয়ে সেদিন ভাবছিলাম ফজলে এলাহির শোনা দরকার। দাউদ ওয়ানসবি আলী নামের একজন আমেরিকান কান্ট্রি সিঙার, বর্তমানে কনভার্টেড মুসলিম মদীনাকে নিয়ে গান গেয়েছেন...
'মাদীনাতুন্নবী,
দ্যা সিটি অফ দ্যা প্রফেট ইজ লাইক
হোম টু মি।
আই উইল ট্রাভেল থ্রু দ্যা ওয়ার্ল্ড
বাট আই ডাউট আই উইল ফাইন্ড
আ সিটি উইথ সাচ ওয়ান্ডারস এজ মদীনা...'।
এই আমি মীরা, তুই কখনও এটা পড়বি না জানি। বেশি বড় ঠেকে আমার ব্লগ সব সময়, এটা তো এক্সট্রা লং। তোকে প্রতিদিন একবার করে খুন করতে ইচ্ছা করে, আবার পাঁচ মিনিট পরেই বুকে জড়িয়ে নিতে ইচ্ছা করে। ঘটনা কি বল তো?
[ইটালিক]অফিসিয়ালি টিনেজার জীবন থেকে ফোর্সড রিটায়ার করছি খুব দ্রুত। পোস্টের দিক দিয়ে অর্ধ শতক ছুঁই ছুঁই করছি। এমন মিড লাইফ ক্রাইসেস মূলক সময়ে লেখার কিছু পাচ্ছি না তাই পুরান কথা বলে জনগণের কানের পোকা বের করব ঠিক করেছি। কানের পোকা বের করার ইচ্ছা না থাকলে ইগনোর করুন।[/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




