somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আস্তমেয়েকে গড়লো যারা (সামহোয়ারে...) - 4

১৫ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগের অন্যতম বড় প্রাপ্তি অবশ্যই প্রাপ্তি। শুধু মাত্র প্রাপ্তির মাধ্যমেই একসময়ে সবার মধ্যে খুব তিক্ত সমর্্পকটা কেমন থিতিয়ে গেল। মিষ্টি মেয়েটা কি মায়ায় সবাইকে জড়িয়ে নিল। সারিয়া আপু। মানুষটা ভালবাসতে প্রচন্ড রকমের। কিছু কিছু মানুষ এমনটা পারে, নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ভালবেসে যাবে। নি:স্বার্থ আর স্বচ্ছ ভাবে। একবার হলেও দেখতে চাই আপুকে!

রাগইমন আপুর লেখাগুলো আমি মনযোগ দিয়ে পড়ি। কেন যেন মনে হয়, নয় বছর পরের আমিকে জেনে ফেলব ওভাবে!

একটা সময় বাস্তব আমি নিজের সাথে যুদ্ধ করছিলাম। একটা খরগোশের গর্তে পড়ে গিয়েছিলাম অসাবধানতায়। সব সময় জানতাম গর্ত আছে, তাই কি নিবুর্দ্ধিতায় নিশ্চিত বোধ করছিলাম কখনও গর্তে পড়বো না। ঠিক পড়লাম কঠিন পড়া। আয়রনী অফ দ্যা সেঞ্চুরি! সেই গর্ত থেকে উঠার যুদ্ধ করছিলাম প্রতিনিয়ত। সেই সময়ে অমি পিয়ালের জীবন যুদ্ধের পোস্টগুলো পড়লাম। ড্রাগের কালো হাত থেকে ফিরে আসার গল্প। দীর্ঘ 15 বছর পরেও। আমার গর্তবাস মোটে কয়েক মাস। কি যে প্রেরণা, সাহস আর শক্তি দিল পিয়ালের ব্লগগুলো!

শাওন, আমার ছোট্ট ভাইটু। দুই চোখে বন্যা বন্যা করে। প্রথম প্রথম ভাবতাম বন্যা নামের কোন মেয়ে বুঝি। তারপরে ভাবলাম দু:খ বিলাসী। একদিন চেপে ধরায় এক নিঃশ্বাসে কি কি বলে হাওয়া হয়ে গেল। তখন থেকে কি যে প্রচন্ড মায়া লাগে ছেলেটার জন্য!

ম্যাড আপু (আপনাদের মাধবী) ছড়ায় ছড়ায় কখন বুকের মাঝে জায়গা করে নিল! মাঝে মাঝে সুইট খবরদারী করে। সেপ্টেম্বরে দাওয়াত দিয়েছে আমাকে, যেতে যে ভীষণ ইচ্ছা করছে!

দীণা আপু, আরেক পাগলী। ভালবাসার আধার।

ধূসর গোধুলী। সুদূর জামর্াানীতেও ধূসর ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে ললনাদের পটিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তন। এক সময় সিডনীতে ছিলেন, কত কি করেছেন কে জানে! একজন মিসকিন মানুষ। মিসকিনরা সাধারণত মানুষ হিসেবে ভাল হয়। তিনিও তাই। নানা কারণে খুব কৃতজ্ঞ ধূসর গোধুলীর প্রতি। মিস্টার অল টাইম হিট সব ফিট করে দিতে পারেন সত্যিই। (কেবলই ধূসরামী, নতুন শিখছি, খুশি হওয়ার কিছু নাই )

তীরন্দাজ মানুষটার সব কিছু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে চাওয়ার প্রচেষ্টা বরাবর চোখে পড়ে, ভাল লাগে। যেমনটা লাগে জ্বীনের বাদশাহের লেখা।

কৌশিকদা যেই ছাতি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, মানে সবাইকে এক সাথে আনার প্রকল্প, সেটা আমার ভাল লাগে। শুভর প্রশ্ন করা নিটোল মনের লিখা পোস্টগুলো ভাল লাগে। সুমন চৌধুরী, খুব রসিক, দিলখোলা প্রকৃতির ভাল মানুষ। 'ঠিকাছে'। কনফুসিয়াস, হযবরল আমার প্রজন্মের কাছাকাছি মানুষ! মতের প্রচুর অমিল থাকা সত্ত্বেও মৌলিক অনেক ব্যপারে মিল খুঁজে পাই। ঝড়ো হাওয়া, আমার বড়লেখাটা পড়বে না জানি। ফাঁপর দেয়ায় ওস্তাদ। সাদিকের সাথে মতের মিল অমিল দু'টোই হয়। বেশি রকমের আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি।

শোহেইল মোতাহারের বাথরুম সিঙিং লেখাটায় আমার মন্তব্য দিয়েছিলাম। খুব থরো এবং ওয়েল সেট আউট লেখা লিখেন তিনি। অনেক সময় বুঝতে পারি এক মত না, কিন্তু কোথায় ঝামেলা লাগছে বুঝতে পারি না, তাই 'অবশ্য কতর্ব্য' মন্তব্য করতে পারি না।

মুখফোড়ের গল্পে ঢুকে গেছি। প্রায় চারশ ব্লগারের মধ্যে চরিত্র হিসেবে আমাকেও পছন্দ করেছেন ব্লগের শ্রেষ্ঠ স্যাটারিকেল লেখক। কম পাওয়া?

মহুয়ামঞ্জুরী, হাসান মোর্শেদের লেখার ওভার অল জিস্টের সাথে চিন্তার অমিল থাকে কম, কিন্তু দোষাদোষি ভাল লাগে না। বিশেষত অন্ধ হলে। বুঝি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শিখিয়েছে 'সারভাইভ্যাল অফ দ্যা ফিটেস্ট'। প্রচলিত আইডিয়া অনুযায়ী সেটা মুখের বিষে না হয় গায়ের জোড়ে।

ধানসিঁড়ি প্রথম চোখে পড়েছিল যখন ওনার 'জুনিয়ার মা তহুরা'কে নিয়ে একটা লেখা পড়েছিলাম। ঘটনা এই রকম: তিনি নিজের মেয়েকে মায়ের নামে ডাকেন, একই নাম রেখেছেন। কারণ তাঁর মাকে তিনি নিজের মেয়ের মাধ্যমে পেতে চান। তাঁর মা তাঁকে যেই আদর ভালবাসা দিয়েছেন, তিনি তা ফিরিয়ে দিতে চান নিজের মেয়েকে দেয়ার মাধ্যমে। খুব চমকিত হয়ে অন্যান্য লেখাগুলো পড়লাম। সবগুলোই ভীষণ ভালবাসা নিয়ে লেখা। কি যে ভাল লাগে! ধানসিঁড়ির এক একটা পোস্টের মাধ্যমে কেমন নরম ভালবাসা আর মমতার আলো ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে।

শাহানার ছোট ছোট পোস্টগুলো ভাবায় ঠিক।

দুরের কণ্ঠস্বরের সবগুলো পোস্টই খুব ভাল লাগে। আমি যেটা ভাবতে চেয়েও ভাবতে পারি না, যেই চিন্তু গুছাতে পারি না কিছুতেই, তাই তিনি কি সুন্দর গুছিয়ে লিখে যান।

ওয়ালী, অনেক দিন হলো লিখছেন না। ধ্বংসাত্মক আগুন একটু বেশি। বেশির ভাগ পোস্টই ভাল লাগে।

ফজলে এলাহির কবিতাগুলো দারুণ। মদীনার পোস্টগুলো অসাধারণ। একটা গান শুনতে গিয়ে সেদিন ভাবছিলাম ফজলে এলাহির শোনা দরকার। দাউদ ওয়ানসবি আলী নামের একজন আমেরিকান কান্ট্রি সিঙার, বর্তমানে কনভার্টেড মুসলিম মদীনাকে নিয়ে গান গেয়েছেন...
'মাদীনাতুন্নবী,
দ্যা সিটি অফ দ্যা প্রফেট ইজ লাইক
হোম টু মি।
আই উইল ট্রাভেল থ্রু দ্যা ওয়ার্ল্ড
বাট আই ডাউট আই উইল ফাইন্ড
আ সিটি উইথ সাচ ওয়ান্ডারস এজ মদীনা...'।

এই আমি মীরা, তুই কখনও এটা পড়বি না জানি। বেশি বড় ঠেকে আমার ব্লগ সব সময়, এটা তো এক্সট্রা লং। তোকে প্রতিদিন একবার করে খুন করতে ইচ্ছা করে, আবার পাঁচ মিনিট পরেই বুকে জড়িয়ে নিতে ইচ্ছা করে। ঘটনা কি বল তো?

[ইটালিক]অফিসিয়ালি টিনেজার জীবন থেকে ফোর্সড রিটায়ার করছি খুব দ্রুত। পোস্টের দিক দিয়ে অর্ধ শতক ছুঁই ছুঁই করছি। এমন মিড লাইফ ক্রাইসেস মূলক সময়ে লেখার কিছু পাচ্ছি না তাই পুরান কথা বলে জনগণের কানের পোকা বের করব ঠিক করেছি। কানের পোকা বের করার ইচ্ছা না থাকলে ইগনোর করুন।[/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ ভোর ৪:১৫

গতকালের একটা বড় খবর ছিল আমেরিকার একটি অন্যতম জনপ্রিয় বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হয়ে তাদের সব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই স্পিরিট অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×