ক্যানবেরা আর সিডনীর মাঝে ধু ধু মরুভূমির মত মাইলের পর মাইল অনাবাদী জায়গা। এনে শীত বলে শুধুই ভেড়া আর ঘোড়া চড়তে দেখা যায় মাইলকে মাইল বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। একবার ডিসেম্বরের গরমে গিয়েছিলাম ক্যানবেরা। সেবার ঠিক এই রকম এক ধু ধু এলাকা জুড়ে শ'য়ে শ'য়ে ক্যাঙ্গারুকে ক্ষ্রিপ্ত গতিতে দৌঁড়ে বেড়াতে দেখেছি। অসাধারণ! মাঝে মাঝে অনুর্বর রুক্ষ মাটিতে অন্য রকম গাছ। এক এক বার মনে হয় আফগানিস্থানে চলে এসেছি পথ ভুলে।
বাইরে বিশেষ করে তাকিয়ে ছিলাম কারণ বাসের টিভিতে তখন ছাড়া হয়েছে মুভি 'ডার্টি ড্যান্সিং'। একজন আমাকে বলেছিল আমার গানের গলা নাকি শাখিরার মত। ওই মহিলা এই রকম বিচ্ছিরি গান গেয়ে আমাকে চরম অপমান করছিল! বাইরের প্রকৃতিই বরং ভাল। ইমু বলে যাচ্ছে ওর বিড়ালের গল্প। বিড়ালের পাখি শিকারের বেশ ইনসাইটফুল একটা বর্ণনা পেলাম। দু'জনের সিট বলে তাসিন একা পড়ে গেছে পাশের সিটে। হঠাৎই ওর ডাকে ফিরে তাকিয়ে হাসিতে ফেটে পড়লাম। যাহা দেখিলাম, তাহা দুই নম্বর ছবি। তাসিন সিট পিছনে বাঁকাতে হাতলে হাত দিয়ে চাপ দিতেই বুঝতে পারল ওটা আসলে পাতল, পিছনের ভদ্রলোকের অভদ্র পা। ভদ্রলোকের নতুন আকিকা দিলাম আমরা 'দি ফুটম্যান'। ভ্রমনের বাকি সময়ের জন্য ওই নামই রয়ে গেল ওনার।
ক্যানবেরা কাছাতেই দেখি আকাশ মুখ ভার করছে ধীরে ধীরে। মেঘের নিকাবে পুরো ঢেকে ফেলেছে নিজেকে। একটু একটু কাঁদছেও বুঝি। কি যে মন খারাপ হল! এটা কোন কথা হল, আমরা ক্যানবেরা যাচ্ছি, এখনই এরকম আবহাওয়া হতে হবে? একটু পরেই আমাকে বাকহীন করে দিয়ে দূর আকাশে রঙের মেলা বসল। ছবিতে দেখা যাচ্ছে না, এখানে আসলে দু'টো রংধনু। নিচেরটা স্পষ্ট। উপরে আরেকটা অস্পষ্ট রংধনু জেগেছিল।
ক্যানবেরা পেঁৗছে অ্যাশ আপুকে পেলাম অনেক দিন পরে। বুকে জড়িয়ে নিলাম। কিছুক্ষণ ঘুরা ঘুরি করে, 'আলী বাবা' হালাল ফাস্টফুডের দোকানে লাঞ্চ খেতে বসে গেলাম। এই ব্যপারটা মজার। যেখানেই যাওয়া হোক, হালাল খাবারের দোকান পাওয়া যাবেই! লেবানীজ আর টার্কিশদের বদৌলতে।
সেদিনের মত অ্যাশ আপুর অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আর ন্যাশনাল মিউজিয়াম ঘুরে তবেই বাড়ি ফিরলাম, মানে অ্যাশ আপু যেখানে থাকে সেখানে। আরেকটা বাঙালি পরিবারের সাথে থাকে বটে, কিন্তু জনমানবহীন ক্যানবেরায় বাড়িগুলো বিশাল বড় বড়। পুরো বাসার এক ভাগে থাকে বাঙালি পরিবারটা, অন্য পাশে ও। ওর রুমে গিয়েই হিংসায় মরে গেলাম। শেষের ছবিটা ওর রুম থেকে তোলা। এক পাশের বড় জানালা দিয়ে অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। আন্টি আমাদের জন্য অন্য একটা বিশাল রুম, বিছানা তৈরি করে রেখেছেন। কিন্তু আমরা অ্যাশ আপুর রুমেই অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করে যে যেখানে ছিলাম সেখানেই ঘুমিয়ে পড়লাম!
[ইটালিক]বি:দ্র: এই সিরিজের নামে অরিজিনালিটি নেই, কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি মুখফোড়ের ছড়ার। পুরো সিরিজটাই উৎসর্গ করলাম ধূসর গোধুলিকে।[/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



